ঢাকা, শনিবার 31 August 2019, ১৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিদ্রোহীদের নিয়ে আ’লীগের তৃনমূলে চরম ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: গেল উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতাকারী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের অপরাধের মাত্রা সাপেক্ষে দল থেকে ‘বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত’ হলেও এখন পর্যন্ত সেটি কার্যকর হয়নি। দেশজুড়ে ডেঙ্গুর রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, শোকের মাস চলে আসায় ঝুলে গেছে বিদ্রোহীদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম।
এদিকে বিদ্রোহীদের বিষয়ে দল কঠোর হতে না পারায় সেটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে।
তারা বলছেন, স্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার ফলে আওয়ামী লীগে এক ধরনের সংকট তৈরি হবে। তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় ঘরানার রাজনীতিতে টানাপোড়েনও সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা সম্মেলনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। ভবিষ্যতে অন্যদেরও বিদ্রোহী প্রার্থী হতে উৎসাহিত করবে।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনও কার্যকর করা যায়নি। ওই নির্বাচনে দলের ১২৬ জন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন। অন্ততপক্ষে এই বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন নিয়ে নেতাদের মাঝে সংশয় কাটছে না।
তবে সংশয়টা কিসের? এ বিষয়ে জানতে এবারের রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে বেশিরভাগ বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতা। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও যারা হয়তো কোনোভাবে কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে তারাই কিন্তু স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হয়ে নিজেদের জন সমর্থনের প্রমাণ দিয়েছেন। এসব ত্যাগী প্রবীণ রাজনীতিবিদকে ঢালাওভাবে বহিষ্কার করলে তৃণমূলে ভাঙন দেখা দেবে এটা নিশ্চিত প্রায়, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সম্মেলন যখন আসন্ন।'
আগামী অক্টোবরে মেয়াদ পূরণ করছে আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি। তাই মেয়াদ পূরণের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় সভাপতির ইচ্ছানুসারে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূলে সাংগঠনিক সফর শুরু করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সম্মেলনকে ঘিরে চাঙা হয়ে ওঠে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজনের কার্যক্রম শুরু করে কেন্দ্র। তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনের এই কার্যক্রম গুছিয়ে আনছেন দলের সভাপতিম-লীর আট সদস্য। এর নেতৃত্বে রয়েছেন চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আট সাংগঠনিক সম্পাদক। তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণের তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু উপজেলা সম্মেলনগুলোতে বিদ্রোহী ফ্যাক্টর বারবার সামনে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘উপজেলা শাখার সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীরা একটা ফ্যাক্টর হয়ে আছেন। অনেক উপজেলায় বিদ্রোহীরা শীর্ষ দুই পদের প্রধান দাবিদার। এ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহীদের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আর তাই কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বারবার ভাবতে হচ্ছে কেন্দ্রকে।'
তিনি বলেন, ‘ শেষ পর্যন্ত হয়তো ঢালাও বহিষ্কার করে নয় বরং বিদ্রোহীদের সতর্ক করা, কোথাও কোথাও দলীয় পদ পদবিতে নিষ্ক্রিয় করার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান করা হতে পারে। আর স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য তাই পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।'
আগামী মাস থেকে আওয়ামী লীগের উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে জানিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ বলেন,‘ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে।'
রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাস থেকেই তৃণমূলে সাংগঠনিক সফর জোরদার করা হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও শুরু হবে।'
বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সম্মেলন একটা চলমান প্রক্রিয়া। শোকের মাস বলেই আগস্টে সম্মেলন হয়নি। সেপ্টেম্বর থেকে আবার উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হবে। জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন কার্যক্রম চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ