ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 September 2019, ২১ ভাদ্র ১৪২৬, ৫ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৭ প্রকল্প ॥ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ

 

 

খুলনা অফিস : বিদ্যুৎ উৎপাদনে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের ৭ প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের শিল্প-কারখানায় উন্নয়নের গতি বাড়বে। সেই সাথে কমবে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়।

 

এদিকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন কাজ খতিয়ে দেখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম যাচাই করছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, খুলনা ৩০০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কনস্ট্রাকশন অফ খুলনা কোল বেইজড পাওয়ার প্লান্ট কানেকটিং রোড (২য় সংশোধিত), মংলা-খুলনা ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন, রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ও কনস্ট্রাশন অব মংলা অয়েল ইন্সটলেশন। এছাড়া প্রায় আড়াই লাখ গ্রাহককে বিদ্যুতের আওতায় আনতে পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ খুলনা বিভাগীয় কার্যক্রম-২ চলমান রয়েছে।

 

জানা যায়, বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্প সম্পর্কে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শাহনেওয়াজ নাজিমুদ্দিন আহমেদ বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। সুন্দরবনের এত কাছাকাছি এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে ভূমিকা রাখবে।

 

এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় খালিশপুরের গোয়ালপাড়ায় খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের ১২.৮২% কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৭ নবেম্বর চুক্তি সাক্ষর এবং চলতি বছর ৩০ এপ্রিল চুক্তি কার্যকরের মধ্যদিয়ে কাজটি শুরু হয়। যা শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের জুন মাসে। ৩ হাজার ৯১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার এ কাজের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা দু’হাজার ৩৭০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিওবি’র এক হাজার তিনশ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং পিডিবি’র অর্থায়ন হচ্ছে ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সাথে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির রূপসা ৮শ’ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ প্রকল্প আকারে শুরু হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ খালিশপুর নিউজপ্রিন্ট মিল থেকে বিদ্যুৎ গ্রীডে নেয়ার জন্য প্রথমত দু’টি লাইন নির্মাণ করা হবে। একটি ২৯ কিলোমিটার এবং অপরটি ১১ কিলোমিটার। এসব কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে।

 

এদিকে আড়াই লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুতের আওতায় আনতে পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ খুলনা বিভাগীয় কার্যক্রম-২ প্রকল্প চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৯৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মাধ্যমে খুলনা বিভাগের ৯টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৫ হাজার ৬০০ কিলোমিটার নতুন বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, ৯০০ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন পুনর্বাসন বা ক্ষমতাবর্ধন, ১৬টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ ও সাতটি উপকেন্দ্রের ক্ষমতাবর্ধন করা হবে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের উৎপাদনে কর্মযজ্ঞ চলছে। তবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় গ্রেডে যুক্ত হবে তারপর তা বিতরণ করা হবে। যদি এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘সাবসিডারি’ হারে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয় তাহলে শিল্পখাতের বিকাশ হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর খুলনা জেলা সম্পাদক কুদরত-ই খুদা বলেন, খুলনায় সকল সেক্টরে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন। এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলে তা লাভজনক হতে পারবে না। এ কারণে একই সাথে উৎপাদিত শিল্প প্রতিষ্ঠানকেও দীর্ঘসময় ধরে বিশেষ সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ