ঢাকা, সোমবার 9 September 2019, ২৫ ভাদ্র ১৪২৬, ৯ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভেঙে পড়েছে যমুনা চরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা 

শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা চরের বাঙ্গালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলে শিক্ষক স্বল্পতা ও  শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে কাঙ্খিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যমুনা চরের শিক্ষার্থীরা। শাহজাদপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে যমুনার চর। যমুনা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা এই চরের লোকালয় নিয়ে গঠিত ৩টি ইউনিয়নের ৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধিকাংশই দূর-দূরান্তের, বিশেষ করে যমুনা নদীর পশ্চিম পারের। তাঁদের অনেকেই ঠিকমতো ক্লাসে যান না। তাই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গেলেও ভালোভাবে শিখছে না।  সরে জমিনে ঘুরে, এলাকাবাসী ও অভিবাবক সুত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার আওতাধীন কৈজুরী ইউনিয়নের ভাটদিঘুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাতনী ইউনিয়নের বানতিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাতনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঙ্গালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়চানতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আরতি বানতিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগ বঙ্গালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গালা ইউনিয়নের রতনদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক Ñশিক্ষিকা। কোথাও নামমাত্র কয়েকজন শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত তারা ক্লাসে উপস্থিত থাকেননা। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বঞ্চিত হচ্ছে দিনের পর দিন ।  আবার অভিযোগ উঠেছে, দুর্গম এলাকা হওয়ায় চরাঞ্চলের শিক্ষকদের অর্থেও বিনিময়ে বদলি করা হচ্ছে।  জামিরতা গুদারাঘাট, কৈজুরী মনাকোষাঘাট থেকে নৌকায় যমুনা নদী পার হয়ে এসব স্কুল ৩/৪ কিলোমিটার বালুকাময় হাঁটা পথ। প্রতিদিন এক ঘন্টা নৌকায় পাড় হয়ে পায়ে হেটেই শিক্ষকদের ক্লাসে যেতে হয়। তাই  যমুনার পশ্চিমপাড়ের শিক্ষকরা ঠিকমত ক্লাসে উপস্থিত হননা। প্রধান শিক্ষক থাকলেও  অফিসের কাজ দেখিয়ে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন উপজেলা শহরে অবস্থান করেন। দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় উপজেলা সহ-শিক্ষা অফিসারগণও সরে জমিনে খোঁজ নিতে পারনেননা। 

যমুনা চরের বাঙ্গালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেল, কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বারান্দায় খেলছে, কিছু শিক্ষার্থী একটি শ্রেণিকক্ষে বসে আছে, কিন্তু কোনো শিক্ষক নেই। এ সময় এক নারী এগিয়ে এসে জানালেন, তিনি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সহকারি শিক্ষক ১জন বিদ্যালয়ে আসেননি। প্রধান শিক্ষক নিজেও উপস্থিত নেই। ফলে একজন শিক্ষিকাই কোনমতে ক্লাস সামলাচ্ছেন। ভুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন ৪জন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক বেশিরভাগ অফিসের কাজে শহরে অবস্থান করেন। ফলে ক্লাস কার্যক্রম রীতিমত বিঘ্নিত হচ্ছে। 

কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, দুর্গম এলাকা যোগাযোগ কষ্টকর। তুবও তিনি নিয়মিত আসার চেষ্টা করেন। অফিসের কাজে থাকলে তখন আসা হয়না। 

এ ব্যাপারে যমুনা চরের সোনাতনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  ও ভুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব লুৎফর রহমান বলেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় শিক্ষকগণ ঠিকমত ক্লাসে আসতে চাননা। যমুনা চরের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার বড় অন্তরায় শিক্ষক স্বল্পতা ও শিক্ষকগণের অনুপস্থিতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ