ঢাকা, মঙ্গলবার 10 September 2019, ২৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রংপুরের চাষিরা আগাম শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে 

রংপুর : গঙ্গাচড়ার কৃষক-কৃষাণীরা শীতের আগাম সবজি চাষে উঠেপড়ে লেগেছে

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : আসন্ন শীত মওসুমের বার্তা শুনে রংপুরের চাষিরা এখন শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগাম ফসল চাষে অধিক মুনাফা পাওয়ার আশায় চাষিরা ফসলের মাঠে এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। তাই শীতের আগাম সবজি চাষের ধুম পড়েছে জেলার সর্বত্র। প্রতিযোগিতা করছে আগম সবজি চাষের। ইতোমধ্যে শীতের সবজি আগাম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অন্য ফসল চাষের তুলনায় কম সময়ে আগাম সবজি চাষে লাভ বেশি পাওয়ায় কৃষকরা এখন শাক-সবজি চাষে বেশী উৎসাহি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দাবী করছে, তাদের সুষ্ঠু মনিটরিংয়ের ফলে বিগত কয়েক বছরে রংপুর অঞ্চলে শীতকালীন আগাম শাকসবজির চাষ ভালো হয়েছে। সবজি চাষে গত বছর এই অঞ্চলে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। এ বছরও বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় চলতি মওসুমে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাউনিয়ার উপজেলার চর গনাইয়ের আতাউর রহমান এবার এক বিঘা জমিতে লালশাক, বেগুন ও ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে কিছু সবজি তুলে বিক্রি শুরু করছেন। একই গ্রামের রফিকুল ২০ শতক জমিতে ধনে পাতা করেছেন। বদরগঞ্জের আনিছুর রহমান ৪০ শতক জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুঁইশাক ও সরিষা শাক চাষ করেছেন। চাষিরা এখন অনেক সচেতন হওয়ায় আগাম সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে ধান, পাট, আলুর ভার দাম না পাওয়ায় সবজি এখন মূল ফসল হয়ে দাঁড়িয়েছে। গঙ্গাচড়ার পশ্চিম মান্দ্রাইন এলাকায় দেখা গেছে, জমির এক পাশে চারা তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি থেকে রক্ষায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে চারার বেড় গুলো ঢেকে রাখা হয়েছে। চাষিরা সবজি ক্ষেতে পরিচযায় ব্যস্ত। মাঠ ভরা বেগুন, মুলা, লাউ সহ ননা জাতের সবজি। ঐ গ্রামের অনেকেই আগাম সবজি চাষ করেছেন। পশ্চিম মান্দ্রাইন ছাড়াও দক্ষিণ চেংমারী, নবনীদাস, হাবু এলাকাতেও আগাম সবজি চাষ হয়েছে। তবে অনেকেই বালাইনাশক ছাড়াই বেগুন চাষ করেছে। গঙ্গাচড়ার উপজেলার পশ্চিম নবসীদাস ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা বেগম জানান, চাষিদের এখন আগাম সবজি চাষে আগ্রহ বেশি। অনেকে এর মধ্যে ফুলকপি কিংবা বাঁধা কপিও লাগাবে। গঙ্গাচড়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, চেংমারী মাদ্রাইন এলাকার মাটি বেলে দোআঁশ। খুব বেশি বৃষ্টি না হলে তেমন একটা ক্ষতি হয় না। কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। আগাম ফসল চাষে চাষিরা অধিক মুনাফা পায়। তাই চাষিদের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডক্টর সরওয়ারুল হক জানান, আগাম শীতকালীন নানা ধরনের সবজি চাষের জন্য কৃষকদের নানাভাবে সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগাম ফসলে অধিক মুনাফা পাওয়ার আশায় চাষিরা ফসলের মাঠে এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ