ঢাকা, মঙ্গলবার 10 September 2019, ২৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে দেশছাড়া করা হবে -অমিত শাহ

সংগ্রাম ডেস্ক : আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় নাম না থাকা ১৯ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যেককে দেশছাড়া করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রোববার আসামের গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দেয়া হবে।’
অমিত শাহ বলেন, ‘জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে অনেকে অনেক রকম প্রশ্ন তুলেছেন। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারত সরকার, একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকেও এদেশে থাকতে দেবে না। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আসাম সফরে গেলেন অমিত শাহ। ১৯৫৮ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আসামকে সবচেয়ে উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। তবে এ তালিকা নিয়ে খুশি নয় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আসামের রাজ্য সরকারেও ক্ষমতায় রয়েছে দলটি। বিজেপি ও তার মিত্রদের প্রত্যাশা ছিল, এ তালিকাকে হাতিয়ার করে আরও অধিক সংখ্যক মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিল করে তাদের রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করা হবে। ফলে তালিকায় আরও বেশি সংখ্যক মুসলিমের নাম বাদ না পড়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বিজেপি ও তার মিত্রদের মধ্যে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর আসামের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, এনআরসি নিয়ে বিজেপি সন্তুষ্ট নয়। আরও বেশি সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর (মুসলিম) নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা। রাজ্য থেকে সব বিদেশিকে তাড়িয়ে দিতে বিজেপি কাজ করে যাবে।
২০১৮ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহারে অন্যতম ইস্যু ছিল নাগরিক তালিকা চূড়ান্ত করা। এ বছরের গোড়ার দিকে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের (বাংলাভাষী মুসলিম) ‘উইপোকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন বিজেপি নেতা ও ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার মাটিতে উইপোকার মতো। বিজেপি সরকার তাদের এক এক করে তুলে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলবে।
অমিত শাহ তার বক্তব্যে অবৈধ মুসলিম অভিবাসী বলতে তাদের বাংলাদেশি হিসেবে ইঙ্গিত করেন। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও মুসলমান অভিবাসীদের উইপোকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন অমিত শাহ। সে সময় দলীয় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ভারতে থাকা ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ শনাক্ত করে তাদের এক এক করে তাড়িয়ে দেয়া হবে। একই বছরের আগস্টে কলকাতায় বিজেপির এক সমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতেই ভারতে নাগরিক তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি হচ্ছে বেছে বেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় এটি বন্ধ হবে না। সূত্র: এনডিটিভি।
মহারাষ্ট্রেও নাগরিক তালিকা হবে : অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করতে জমি চেয়ে মুম্বাই প্ল্যানিং অথরিটিক চিঠি লিখেছে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দফতর। দু’সপ্তাহের কম সময় আগে আসামে চালু করা হয়েছে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী, সেখানে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লক্ষ মানুষ। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবসতিসম্পন্ন রাজ্যেও এমনটা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এনডিটিভি
নগর মহারাষ্ট্রের শিল্পোন্নয়ন নিগম থেকে সূত্র মারফত জানা গেছে, নেরুল এলাকায় দুই থেকে তিন একর জমি চাওয়া হয়েছে। মুম্বাই শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকাটি জনবসতি এবং বাণিজ্যিক এলাকা। তবে কর্তৃপক্ষ কোনওরকম চিঠি দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তবে চলতি বছরের গোড়ার দিকে, কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের যে সব এলাকায় বেশি অনুপ্রবেশকারীর বাস রয়েছে, সেখানে ডিনেটশন সেন্টার তৈরি করতে হবে।
কয়েকমাস পরেই মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচন, মুম্বাইয়ে অবৈধ বাংলাদেশীদের বসবাস করা এবং কাজ করার অভিযোগ তুলেছে শিবসেনা। গত সপ্তাহে সংবাদসংস্থা এএনআইকে শিবসেনা নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেন, “এলাকার প্রকৃত নাগরিকদের সমস্যার সমাধানে আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তৈরির প্রয়োজন ছিলো। সেই কারণে আমরা এনআরসির পদক্ষেপকে সমর্থন জানাই। আমরা বাংলাদেশীদের তাড়াতে মুম্বাইয়েও একই পদক্ষেপ চাই।”
এ বছরের গোড়ার দিকে, রাজস্থানে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে অমিত শাহ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের “উইপোকা” বলে মন্তব্য করেন। ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন, দুটিতেই নাগরিকত্বের প্রমাণ ছিলো বিজেপির ইস্তেহারের অন্যতম ইস্যু। জুলাইয়ে রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেন, “দেশের মাটির প্রতিটি ইঞ্চিতে” থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে চায় সরকার। এই রবিবার উত্তর-পূর্ব কাউন্সিল বৈঠকেও তিনি বলেন, “একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকেও থাকতে দেয়া হবে না।”
অন্যদিকে, নাগরিকপঞ্জী প্রণয়ণের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, “দেশটা ওদেরই। ওরা যেখানে ইচ্ছা সেখানে এনআরসি পরিচালনা করবে। তাদের সংসদেও এনআরসি করা উচিৎ! আমার বাবা তো বাংলাদেশে থাকতেন, তাহলে আমিও বহিরাগত!”
অধীর আরো বলেন, “কোনও প্রকৃত নাগরিককে কোনও অবস্থাতেই বহিষ্কার করা উচিত নয় এবং সমস্ত প্রকৃত নাগরিককে অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে।”
তবে এই সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন যে, দিল্লিতে অবৈধ অভিবাসীরা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে! এখানেও এনআরসি দরকার। মনোজ তিওয়ারি বলেন, দিল্লিতে এনআরসি-র মতো ব্যবস্থা নেয়া দলের নির্বাচনী ইস্তেহারের অংশ হবে আগামীতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ