ঢাকা, মঙ্গলবার 10 September 2019, ২৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত সরাসরি আলোচনা চায় যুক্তরাষ্ট্র

সংগ্রাম ডেস্ক : কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকেই সমর্থন করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, কাশ্মীর নিয়ে সরাসরি কথা হওয়া উচিত ভারত ও পাকিস্তানের। পাক দৈনিক ডন এর বরাতে খবরটি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জি নিউজ।
ওই দৈনিকের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন সম্প্রতি সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের পাকিস্তান বিষয়ক আধিকারিক আরভিং মাসিঙ্গার সঙ্গে। দফতরের সহকারী আধিকারিক মাসিঙ্গা জানান, কাশ্মীর থেকে ভারতের ৩৭০ ধারা তুলে দেয়া নিয়ে তারা কথা বলেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরকে অনুরোধ করা হয় কাশ্মীর নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তাপ কমাতে যেন হস্তক্ষেপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। মুসিলম সংগঠনগুলির ওই অনুরোধের পরিপ্রক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দফতর থেকে জানানো হয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেই সরাসরি কথা হওয়া উচিত বলে মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের আগে থেকেই কাশ্মীর সমস্যায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বারবার আপত্তি জানিয়েছে ভারত।
এই ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ যোগ হয়েছিল ভারত ও কাশ্মীরের নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে। বিধানটিতে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়া হয়, তা ছাড়া পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে কাশ্মীরের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখা হয়। ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরকে যে বিশেষ স্বায়ত্বশাসিত এলাকার মর্যাদা দিয়েছিল ৩৭০ ধারা- তা বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। তবে ভারত জানিয়েছে, সংবিধান মেনেই ধারাগুলো বিলোপ করা হয়েছে।
বাকযুদ্ধে জড়াবেন ইমরান-মোদি?
জাতিসংঘের সাধারণ সভায় একই দিনে ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ দুই নেতা কিছু সময়ের ব্যবধানে ভাষণ দেবেন। তবে এ সাধারণ সভায় কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই নেতা বাকযুদ্ধে জড়াবেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রথমে বক্তব্য রাখবেন নরেন্দ্র মোদি পরে ইমরান খান। কাশ্মীর নিয়ে গত এক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং বাকযুদ্ধের মধ্যে তাদের বক্তব্যের বিষয়টি কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে এ মাসের শেষের দিকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে মোদির পরেই বক্তব্য রাখবেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যদিও কোনো কোনো সূত্রের দাবি, নরেন্দ্র মোদি না ইমরান খান, কে আগে ভাষণ দেবেন, তা এখনও স্থির করা হয়নি।
তবে গত মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর এই প্রথম জাতিসংঘের মঞ্চে এই দুই নেতা সম্মুখ বাকযুদ্ধে অংশ নেবেন। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে একদিকে মোদি যেমন আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, ইমরান খানও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। এ ইস্যুতে গত এক মাসে বারবারই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।
পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলবেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সমর্থন পেয়েছে ভারত।
সুইজারল্যান্ডের পথে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জেনেভায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে (ইউএনএইচআরসি) কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরবে পাকিস্তান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ পরিষদের ৪২তম অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি।
এ জন্য তিন দিনের জন্য গতকাল সোমবার পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। এতে বলা হয়েছে, ইউএনএইচআরসির অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন কুরেশি।
সারাবিশ্ব থেকে এই ফোরামে যোগ দেবেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। তাদের সামনে তিনি কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করবেন। এ সময় কাশ্মীরে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করবেন প্রতিনিধিদের। ওই অঞ্চলে মানবাধিকারের প্রতি যে হুমকি সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তাদের অবহিত করবেন। এ ছাড়া তিনি ইসলামিক দেশগুলোর সহযোগিতামূলক সংগঠন ওআইসির নেতাদের সঙ্গে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
শ্রীনগরে কড়াকড়ি
আশুরার তাজিয়া মিছিলকে সামনে রেখে কাশ্মীরের শ্রীনগরে অচলাবস্থা আরো কড়াকড়ি করা হয়েছে। সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিয়া সম্প্রদায়ের বেশ কিছু মানুষ শ্রীনগরে র‌্যালি করেন রোববার। এরপরই কর্তৃপক্ষ সেখানে কঠোরতা আরো বাড়িয়েছে। রোববারও সেখানে দু’একটি স্থান ছাড়া বেশির ভাগ স্থানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ছিল বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় খুব সকাল থেকে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পুলিশ শহরজুড়ে ঘুরে ঘুরে ঘোষণা দিচ্ছে- অধিবাসীরা যেন তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস না দেখান। যারা আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
পবিত্র মুহররম মাসে আশুরা উপলক্ষে বিশ্বব্যাপি র‌্যালি ও তাজিয়া মিছিল করেন শিয়া সম্প্রদায়। কিন্তু ১৯৮৯ সালে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে সশস্ত্র এক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত দখলীকৃত কাশ্মীরে এমন র‌্যালি নিষিদ্ধ করা হয়। তারা ধারণা করে যে, এর মধ্য দিয়ে ভারত বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাংবাদিকরা বলেছেন, রোববার সকালে কমপক্ষে দুটি বিক্ষোভ হয়েছে শ্রীনগরে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই শিয়া সম্প্রদায়ের ওইসব বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে বিক্ষোভ-র‌্যালিতে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের প্রহার করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তারা কমপক্ষে এমন ৬টি র‌্যালি দেখেছেন। সেসব স্থান থেকেও পুলিশ লোকজনকে আটক করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর মুহররমে র‌্যালিতে রাজনীতির আবহ আছে। কারণ, জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন চালু করেছে ভারত সরকার। তা করতে গিয়ে তারা কাশ্মীরের মানুষজন বা তাদের জনপ্রতিনিধি কারো সঙ্গে কোনোও রকম শলাপরামর্শ করেনি। তারা একতরফাভাবে কাশ্মীরের জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন তাদের সিদ্ধান্ত। এর ফলে কাশ্মীরিদের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকারে বিরাজ করছে। কয়েক দশক ধরে কাশ্মীরি জনগণ ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তার বেশির ভাগই বেসামরিক।
শনিবার একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০০০ মানুষ। সেই রিপোর্ট কাভার করতে গিয়ে স্থানীয় চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ৫ই আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের চাপিয়ে দেয়া অচলাবস্থার বিরুদ্ধে এটি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের অন্যতম। আহত এক সাংবাদিক বলেছেন, তিনি র‌্যালি কাভার করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন। তাতে তার শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে ক্যামেরার লেন্স। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। ছুড়েছে ফাঁকা গুলি। কয়েক দিন হলো শ্রীনগরের কিছু এলাকায় কঠোরতা শিথিল করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আবার শুক্রবার থেকে তা কঠোর করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ