ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 September 2019, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

স্বেচ্ছাশ্রমে ৫ কিঃ মিঃ কাঁচা সড়ক তৈরির উদ্যোগ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চর কাদাই গ্রামে কাঁচা সড়ক তৈরি করছে গ্রামের আপামর জনসাধারণ

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চির অবহেলিত এক গ্রামের নাম চরকাদাই। জনসংখ্যা ও ভৌগলিক দিকে থেকেও উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম গ্রাম এটি। গ্রামের উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণ পূর্বাংশ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। চরকাদাই গ্রামটির সিংহভাগ বেলতৈল ইউনিয়ন আর কিছু অংশ পোরজনা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই গ্রামে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কিন্ডারগার্টেন একটি হাট ও বাজার, একটি দুগ্ধ সমবায় সমিতি, ২টি হাফেজিয়া মাদরাসা আর ৫টি বড় মসজিদ রয়েছে। বিল আর নদীবেষ্টিত চর কাদাই গ্রামের নামের সঙ্গে আদর্শ এলাকার তকমা লেগেছে ২ যুগ আগে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। নাগরিকরা ও মৌলিক সেবাবঞ্চিত চরকাদাই গ্রামের মানুষ। আধুনিকতার ছোঁয়া ও নগরায়ণের যুগেও যোগাযোগের জন্য কাচাÑপাকা ভাল সড়ক নেই এই গ্রামে। ফলে পায়ে হেটেই গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত যেতে হয় মানুষকে। কাদাইবাদলা বাজার থেকে চরকাদাই পূর্বপাড়া বরফ মিল পর্যন্ত দীর্ঘপথ পায়ে হেটে যেতে হচ্ছে। বর্ষার সময় মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। বছরের পর বছর ধরে গ্রামের একপাশ বেয়ে ক্যানেলের মত একটি কাঁচা সড়ক চলে গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই তা ডুবে যায়। ফলে মানুষের বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এমন সড়ক যেখানে বাই সাইকেল ও রিকশাও চলতে পারে না। ভারী মালামাল নিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পরে। যেন জনদুর্ভোগের শেষ নেই। তবুও এলাকার নামের সঙ্গে আদর্শ তকমা নিয়ে বেরাইদের জনপ্রতিনিধিদের তুষ্টির অন্ত নেই। সম্প্রতি গ্রামের সিংহভাগ বিদ্যুতের আলো পৌঁছলেও যোগাযোগের সড়ক না থাকায় আলোর নীচে অন্ধকার থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়াও এ গ্রামের স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত করুণ। জরুরি ভিত্তিতে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে মাঝ পথেই প্রাণ হারিয়েছে অনেকেই। ফলে প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে অনেকটা প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা।

সরেজমিন গিয়ে গত মঙ্গলবার দেখা যায়, শাহজাদপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চরকাদাই গ্রামটি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শতাধিক কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সংস্কার করছেন। কারো হাতে টুপরি, কোদাল, কেউ দাঁড়িয়ে উৎসাহ যোগাচ্ছেন। শ্রমিকের সামনের সাঁরিতে উপÑসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। কথা হলে তার সঙ্গে তিনি জানালেন, তিনিই স্বেচ্ছাশ্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোক্তা। স্বাধীনতার পর থেকেই চির অবহেলিত গ্রামটির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি সবাই। ভোটের সময় ভোট কাছে গেলে ফোট। ওই গ্রামের মাঝখানেই তার বাড়ি। অনুনন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কয়েক বছর আগে অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা দিতে না পেরে পথেই মৃত্যু হয়েছে। সে কষ্ট এখনও বয়ে বেড়ান তিনি, তাই ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের মানুষকে সাথে নিয়ে পাকা সড়ক না হলেও একটি মজবুত কাচা সড়ক নির্মাণের প্রচেষ্টা করছেন তিনি। তার বিশ্বাস এবার এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে, বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন ফুল বলেন, গ্রামটি সত্যিই অবহেলিত। এবং পাকা সড়ক তৈরি করা জরুরী। কাঁচা সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মাঝে মধ্যে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে মাটি ফেলে দেয়া হয়। অপরাংশের পোরজনা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, চর কাদাই ২নং ওয়ার্ড আমার ইউনিয়নের আওতায়। বড় সড়ক তৈরি আমাদের বাজেট নেই তবুও কর্মসূচির কিছু প্রকল্প দিয়ে প্রতিবছর কিছুটা মাটি ভরাট করা হয়। যাতায়াতে যাতে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমে সে জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ