ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 September 2019, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি

খুলনা অফিস : খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক-৩ মুহাম্মদ শাহীন ইমরান স্বাক্ষরিত স্মারকে বলা হয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। ফলে খুলনা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল হিসেবে খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু হলো। 

সূত্র মতে, গত ১৯ আগস্ট খুলনা জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করে সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকার মধ্যে একশ’ একর জমির সংস্থান আছে। যেখানে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যেতে পারে। সর্বশেষ জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও এ দাবি তুলেছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।  বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের তুলে ধরা যুক্তিতে বলা হয়, উন্নত চিকিৎসার অভাবে রোগীরা রাজধানী ঢাকা ও দেশের বাইরে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার অভাবে মানুষ মৃত্যুবরণও করছে। এখানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে চিকিৎসা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা করা সম্ভব হবে। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, গত জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। গত জুলাইয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত অতঃপর বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি প্রেরণ করি। ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খুলনায় ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। 

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ডিপিপি ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এখন জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসন। সূত্রমতে, ১৯৮৯ সালের ১৮ জানুয়ারি নগরীর বয়রা এলাকায় ৪৩ দশমিক ২৫ একর জমির উপর খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তিন বছর পর ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ। সময়ের প্রয়োজনে বিভাগীয় শহর খুলনাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামের তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এ অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে স্বনামধন্য কলেজ থাকলে পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ফলে অর্থনৈতিক দৈন্যতায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা শাস্ত্রে জ্ঞানার্জনে বঞ্চিত হয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র ঘোষণায়ই সীমাবদ্ধ ছিল। 

আবার, খুলনা মেডিকেল কলেজে ছয়টি বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স (এম ডি, এম এস এন্ড ডিপ্লোমা) অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্পর্কে সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেস বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ। তিনি বলেন, খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরুর মধ্যদিয়ে বিএমএ, স্বাচিপ ও বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। চিকিৎসার মান অনেক গুণে বৃদ্ধি পাবে। বিভাগীয় শহরে গবেষণামূলক চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হবে। এস এম, এমফিল, এমবি প্রভৃতি কোর্স চালু হবে। খুলনায় মেডিকেলে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

এদিকে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ৫৩/এ মজিদ সরণি, খুলনাস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান। খুলনায় শেখ হাসিনা খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেয়ায় সভার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হেলাল উদ্দিন, এমপি, মাননীয় মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, এমপি এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনকে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ