ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 September 2019, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে আওয়ামী জালেম সরকারকে পরাজিত করতে হবে

বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -আজিজ ফারুকী

স্টাফ রিপোর্টার : বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে আওয়ামী জালেম সরকারকে পরাজিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগনকে আহবান জানাচ্ছি আমরা আসুন- নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, আপনাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, আপনাদের কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আজকে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই যে সরকার যারা আমাদের সমস্ত অধিকারকে কেড়ে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা আজকে ঐক্যবদ্ধ হই দলমত নির্বিশেষে, সকল দল মিলে আমাদের স্বার্থরক্ষার জন্য, আমাদের অধিকার ফিরে পাবার জন্য আমরা আজকে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, স্বাধীনতা চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আজকে ঐক্যবদ্ধ হই। সামনের দিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলন তৈরি করে এই দানব সরকারকে পরাজিত করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তার ডায়াবেটিক অত্যন্ত বেড়ে গেছে, তার আর্থারাইটিস বেড়ে গেছে, তার ঘাড়ের ব্যথা বেড়ে গেছে। তিনি সাহায্য ছাড়া হাটতে পারেন না, চলতে পারেন না। হুইল চেয়ার চলতে হচ্ছে তাকে। এই সরকার এবং তার সরকারি সরকারি কর্মকর্তারা আছেন, পিজির (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ আছেন তারা বলছেন যে, তিনি নাকী সুস্থ রয়েছেন। তিনি একেবারেই সুস্থ নন। আজকে অসুস্থ অবস্থায় তিনি কারারুদ্ধ হয়ে দিনাতিপাত করছেন। আমরা অবিলম্বে অসুস্থ নেত্রীর, অসুস্থ মহিলার সুচিকিৎসার জন্য তার মুক্তির দাবি করেছি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি মহাসচিব নিজেই শ্লোগান ধরেন- ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও’, ‘মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই,’। সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভোট ডাকাতি করে, জনগনের অধিকারকে হরন করে ক্ষমতায় বসে আছে, তারা অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে আটকিয়ে রেখেছে শুধু মাত্র একটি কারনে দেশনেত্রী যদি মুক্ত থাকতেন তিনি জনগনকে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন।
তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্রগুলোকে, রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধবংস করে ফেলেছে। আজকে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মিডিয়া-প্রেস সবকে নিয়ন্ত্রণ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য, বাস্তবায়িত করবার জন্যে সে জোর করে টিকে আছে।
তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখছেন, টেলিভিশনের দেখছেন, কীভাবে গণলুট তারা করছে, কিভাবে দুর্নীতি করছে, আজকে তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। দুর্নীতির টাকা দিয়ে তারা দেশে-বিদেশে পাঁচার করে বাড়ি-ঘর গড়ে তুলছে। দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো জবাবদিহিতা নাই, তারা বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসে না বলেই এই একটা গণতন্ত্রহীন অবস্থায় নিয়ে এসেছে। আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম এদেশে গনতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রুপ দেবো বলে, এদেশের মানু্যরে অধিকারকে ফিরিয়ে দেবো বলে যা আজকে এই আওয়ামী লীগের সরকার যারা একবার ১৯৭৫ সালে বাকশাল করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো, গণতন্ত্র হত্যা করেছিলো আজকে আবার ভিন্ন কৌশলে তারা একই কায়দায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে আজকে তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করছে।
রোহিঙ্গা ও আসামের নাগরিকপুঞ্জি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে তারা বাংলােেদ্শর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। কারণ তাদের সেই বৈধ্যতা নাই, তাদের সেই সাহস নাই, তাদের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারনে এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছেনা। দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও তারা ফেরত পাঠাতে পারে নাই। আরেকদিকে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশি বন্ধুদেশ তাদের আসামে,র মন্ত্রীরা তাদের নেতারা হুমকি দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশী যারা অনুপ্রবেশ তাদেরকে তারা ঠেলিয়ে বের করে দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, কোনো বাংলাদেশী কখনো ভারতে যায় নাই স্বাধীনতার পরে। আজকে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে আবার বিপদগ্রস্থ করবার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করবার জন্য।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে শতশত নেতা-কর্মী মানববন্ধনে অংশ নেয়। বেলা ১১টা থেকে একঘন্টা এই কর্মসূচি পালিত হয়। গত বছরের ফেব্রয়ারি থেকে খালেদা জিয়া কারাবাসের পর তার মুক্তির দাবিতে কয়েকবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন করেছে বিএনপি। সর্বশেষটি হয়েছিলো গত ৬ মার্চ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মেট্রোরেলের নির্মান কাজের কারণে রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় এমনিতে যানচলাচলের বাঁধার মধ্যে মানববন্ধনের কর্মসূচিতে ব্যাপক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি পল্টনের মোড় থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কের একপাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। দেড়বছর হতে চললো তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারের প্রভাবের কারনে আদালত মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না। যেকারনে আজকে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করা সম্ভবপর হচ্ছে না। আমরা এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। তাকে মুক্ত করতে আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধভাবে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের পথ আমাদের বেঁছে নিতে হবে, কর্মসূচি দিতে হবে। একমাত্র রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বেগম জিয়ার মুক্তি অর্জন করতে পারবো।
মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ নেতা অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া মহানগর ঢাকার কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু মানববন্ধনে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন।
কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম ও শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল আউয়াল খান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, কাদের গনি চৌধুরী, শরীফুল আলম, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সুলতানা আহমেদ, েেহ্লন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, আকরামুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাত ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে মহানগর বিএনপি, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ছাত্র দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেষ্টুন নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়। মানববন্ধন উপলক্ষে সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোষাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ