ঢাকা, মঙ্গলবার 10 December 2019, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ দেয়ার পরও দামের প্রশ্ন করলে ব্যবহারের দরকার নেই

ফাইল ছবি

সংসদ রিপোর্টার: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি টাকায় করে, ভর্তুকি দিয়ে কম দামে দেয়ার পর যদি কেউ বলে দাম কেন বাড়ানো হলো? তাহলে বলবো, বিদ্যুতের দরকার নেই, উৎপাদন করবো না। বন্ধ করে দেই সব। তা না হলে, যেটা খরচ হবে সে দামেই বিদ্যুৎ কিনতে হবে। লাভ করতে চাই না অন্তত খরচের টাকাটা তো পেতে হবে। আমরা তো খরচের টাকাটা নিচ্ছি না। যেখানে ৬টাকা হয় সেখানে ৪ টাকায় দিচ্ছি। যখন বিদ্যুৎ ছিল না, তখন জেনারেটর চালানো হতো, তখন খরচ করতে হতো না? তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দাম দিতে আপত্তি কেন? সবাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিলও কম আসবে। তিনি সবার ঘর আলোকিত করতে চান বলে উল্লেখ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অধিবেশনটি অল্প সময়ের জন্য। ৪ কার্যদিবসে ৬টি বিল পাওয়া গেছে। একটি পাস হয়েছে। এই জাতীয় সংসদ জনগনের ভোটে নির্বাচিত। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানাই, সুন্দরভাবে সংসদ চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছেন। সংসদ সদস্যরাও যথাসময়ে সংসদে এসে কার্যকর করেছেন। এ জন্য তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, সংসদ জনগনের জন্য কাজ করে। গত এক দশকে উন্নয়নের জন্য যে কাজ হয়েছে, তাতে বিশে^র দৃষ্টি আর্কষ্ট করতে সক্ষম হয়েছি। আজকের বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা জনগনের জন্য কাজ করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগনের জন্য কাজ করছে। একটি ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলাদেশের মানুষকে পুন:রুদ্ধার করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বিদেশ থেকে খাবার নিয়ে এসে খাবার দেয়া হতো। মাত্র সাড়ে তিন বছরে যা যা করা দরকার সবই করে দিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ে কিভাবে তিনি এত কাজ করে দিয়ে গেলেন, তা ভেবে অবাক লাগে। যখন দেখলো দেশটি উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই জাতির জনককে হত্যা করলো। জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করলো। দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেল।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার তেরতম অর্থনৈতিক দেশ। দক্ষিন এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশে^ ত্রিশতম অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে। আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলা স্কুল কলেজ সরকারি করা হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। প্রত্যেক উপজেলায় ও জেলায় ডিজিটাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করছি। শুধু মানুষকে স্বামলম্বী করা নয়, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক জীবন যাপনের ব্যবস্থা করছি। হাইটেক পার্ক করে দিচ্ছি, প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিচ্ছি। প্রত্যেক শিশুকে স্কুলে টিফিনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ছেলে মেয়েদের বৃদ্ধির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট করে দিচ্ছি। কৃষকরা যাতে ভালোভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারে। আজ বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে সয়ংসম্পূর্ণ। আমরা শিল্পকারখানা সকল ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। এই এগিয়ে যাওয়ার যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বিদ্যুতের দাম সর্ম্পকে বলেন, প্রায় ২২ হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। গ্যাসের অনুসন্ধান চলছে। কিন্তু গ্যাসের স্বল্পতা রয়েছে। গ্যাসের সমস্যা হলো এলএনজি আমদানী করছি। সেখানে ৬০ টাকা খরচ পড়ে, সেখানে দিয়েছি ১২ টাকায়। বিদুৎ উৎপাদন করে ভর্তুকি দিয়ে কম টাকায় দেয়া হচ্ছে। যেখানে এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ২৬ টাকা। সেখানে আমরা নিয়েছি ৩ থেকে ৪ টাকা। তাহলে দামটা বাড়লো কোথায়? প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সেটাও প্রায় সাড়ে ৬ টাকার মতো লাগে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি টাকায় করে, ভর্তুকি দিয়ে কম দামে দেয়ার পর, তারপর যদি কেউ বলে দাম কেন বাড়ানো হলো? তাহলে বলবো, বিদ্যুৎ দরকার নেই, উৎপাদন করবো না। বন্ধ করে দেই সব। কম দামে দেয়ার পরও যদি এ কথা আসে তাহলে তো বিদ্যুৎ ব্যবহার করার দরকার নেই। তা না হলে, যেটা খরচ হবে সে দামেই বিদ্যুৎ কিনতে হবে। লাভ করতে চাই না অন্তত খরচের টাকাটা তো পেতে হবে। আমরা তো খরচের টাকাটা নিচ্ছি না। যেখানে ৬টাকা হয় সেখানে ৪ টাকায় দিচ্ছি। যখন বিদ্যুৎ ছিল না, তখন জেনারেটর চালানো হতো, তখন খরচ করতে হতো না? তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দাম দিতে আপত্তি কেন? সবাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিলও কম আসবে। আমরা চাই সবার ঘর আলোকিত করতে।
তিনি বলেন, আমাদের চলার পথ তো মসৃণ ছিল না। রাস্তায় বাস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কম মানুষকে কষ্ট দেয়া হয়েছে। আমরাও তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু সে তুলনায় আমরা তো কিছুই করছি না। আমরা উন্নয়ন করে যেতে চাই।
তিনি ডেঙ্গু সর্ম্পকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আমরা কাজ করছি। লার্ভা ধ্বংস করছি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সিঙ্গাপুরে গিয়েছে। আর উত্তরের মেয়র বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের পা-ই ভেঙ্গে ফেলেছে। নিজেকেই নিজেরা সুরক্ষিত করতে হবে। আমরা মশা মারার ব্যবস্থা নিচ্ছি। শিক্ষার ব্যবস্থায় যাতে উন্নতি হয়, সেগুলোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেশনজট নাই বললেই চলে। উচ্চতর শিক্ষা বৃত্তি দিচ্ছি। আমরা উন্নয়নের পথে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এ ধারাটা যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে বাংলাদেশকে উন্নত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, তারা ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করে যাচ্ছে। পুলিশ প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে করার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কই অতীতে তো এ রকম হয়নি। সে পরিস্থিতি আমরা সৃষ্টি করেছি। পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতিমুক্তভাবে লোক নিয়োগ দিয়ে সুনাম অর্জন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের নেতার উত্থাপিত সকল সমস্যা সমাধানের আশ^াস দিচ্ছি। রাজনীতির ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চাটা সবার জন্য অবাধা করে দিয়েছি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যও কাজ করে যাচ্ছি। অর্থনৈতিক উন্নতি করছি। উন্নয়নের সুফল মানুষ গ্রামে থেকে পাচ্ছে। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার জন্য তিনি আহবান জানান।
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরী হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেরা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে নজর দিতে হবে। তারা কখন কি করছে সে দিকে নজর না দিলে তারা বিপথগামী হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গ্যাস আমাদের দেশের খনিজ সম্পদ। মানুষ গ্যাসের অধিক বিল দিতে আগ্রহী নয়। সবার কষ্ট হচ্ছে। গ্যাসের বিল কমানোর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ