ঢাকা, শুক্রবার 13 September 2019, ২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৩ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালে মস্তিষ্কের সার্জারি বিভাগে সেবা বঞ্চিত রোগীরা

খুলনা অফিস : বর্তমান সময়ে আধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জামসহ সল্প খরচে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গরীব অসহায় রোগীদের জন্য খুলনায় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল এক প্রকার আশীর্বাদ। তবে দক্ষ জনবল ও জায়গা সঙ্কটের কারণে সেবা কার্যক্রম অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের নিউরোসার্জারি চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমরা ২০১৮ সালের ১৮ অক্টেবর মস্তিষ্কের ব্রেন টিউমার অপারেশনের জন্য কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত ব্রেন টিউমার অপেরেশন প্রায় ৩০টি হয়েছে। শতভাগ সফলও হয়েছে। এখনও তিনজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অপেরেশনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যান্য অপারেশন মানব দেহের বিভিন্ন শিরা ও নিউরো সার্জারির অপারেশন ২০০ এর অধিক করা হয়েছে। তাছাড়া আমাদের এখানে এখনও ৫০০ জন রোগী শরীরের বিভিন্ন অপেরেশনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতি সপ্তাহের সোমবার অপারেশন করা হয়। আমাদের সার্জারি চিকিৎসক ও জায়গা সঙ্কট রয়েছে। তারপরও ইমারজেন্সি রোগীদের অপরেশনের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করা হয়।

বর্তমানে এখানে সরকারিভাবে বিনা খরচে ব্রেন সার্জারি অপারেশনের মেশিন (cramio tome) করা হচ্ছে। যার সাহায্যে মানব দেহের মস্তিষ্কের সকল প্রকার সার্জারি ব্রেনে রক্তক্ষরণ, ব্রেন ফ্রাকচার, ব্রেন টিউমার, ব্রেন স্ট্রোক, ব্রেন হ্যামারিং, ব্রেন এবসস, ভি-পিসটসহ মস্তিকের জটিল অপাপরেশন করা সম্ভব। একসময়ে রোগীদের এ সকল চিকিৎসা নিতে ঢাকা যেতে হতো এবং অনেকটা ব্যয়বহুল ছিল। তাছাড়া এখনো এখানে টেলিস্কপ সঙ্কট রয়েছে। যার কারণে অপরেশন করতে অনেকটা জটিলতা দেখা যায় সময় বিশেষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সকল অপেরেশনের জন্য রোগীদের যতদিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে, এতে ইমারজেন্সি রোগীরা প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছে। রোগীদের এবং এ ধরনের একটা অপারেশনে প্রায় লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

নিশাত পারভিন নামের এক রোগীর স্বজন রুবেল বলেন, আমার মায়ের নিউরো সার্জারি শিরা অপরেশনের জন্য কয়েক মাস আগে আমি আবু নাসের হাসপাতালে সিরিয়াল দেই। আমার মায়ের সিরিয়াল পড়ে ৩৯২নং। তবে আমাদের এখনো ডাকা হয়নি। আমরা অপেক্ষায় আছি। এদিকে আমার মায়ের সমস্যা সঙ্কট আরও বাড়ছে- কি করবো বুঝতে পারছি না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ হাসপাতালে কতিপয় আউট সোর্সিং কর্মচারী প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে অনেক রোগীকে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আবু নাসের হাসপাতালে ইউরোলজি বিভাগের পেয়িং ৫নং বেডের ভর্তি রোগী আবুল কালাম বলেন (৫২) বলেন, অনেকদিন অপেক্ষায় থাকার পর সিট পেলেও ১৫ দিন বেডে আছি। আমাকে এখনও অপারেশনের জন্য ডাকা হয়নি। কবে অপারেশন হবে জানায়নি। অথচ প্রতিদিন আমার ২০০ টাকা বেড ভাড়া ও ওষুধসহ অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আমার পরে আসা অনেক রোগীর অপারেশন হয়েছে। কিন্তু আমার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের উপ পরিচালক মের্শেদ আলম বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগের জনবল সঙ্কট নেই। নেই মেডিকেল অফিসার। মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া ওই ডিপার্টমেন্টের অপেরেশনগুলো খুবই জটিল। রোগীদের ফিট থাকার বিষয় আছে এবং ইউরোলজি ডিপার্টমেন্টে প্রতি মাসে দশ থেকে পনেরোটি অপেরেশন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ