ঢাকা, বুধবার 23 October 2019, ৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সৌদিতে হামলার পর বাড়লো তেলের দাম, আরো বাড়ার আশংকা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একেরপর এক হুমকি ও সৌদি আরবের দুটি তেল উৎপাদন কেন্দ্রে জোড়া ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭২ ডলার হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি অনুমোদন করার পর দাম আবারো কমে আসে।

সর্বশেষ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৬০.৭১ ডলারে পৌঁছেছে।

অপরদিকে লন্ডনভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড সংস্থায় তেলের দাম ১১.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৬৭.৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

গত শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আরামকোর তেলক্ষেত্র দুইটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আগুন ধরে যায় তেলক্ষেত্রে। আবকাইক ও খুরাইস প্রদেশে অবস্থিত তেলক্ষেত্র দুইটি। এখান থেকে পুনরায় তেল উৎপাদনে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

আরামকো বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো তেল কোম্পানি। বিশ্বের চাহিদার ১০ ভাগ উৎপাদন করে আরামকো। সৌদির খুরাইসে বিশ্বের মোট চাহিদার ১ শতাংশ তেল উৎপন্ন হয়, আর আবকাইক তেল শোধনাগার বিশ্বের সরবরাহের ৭ শতাংশ তেল জোগান দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন।

সৌদি আরব পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক। প্রতিদিন তারা ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল রপ্তানি করে।

তেলের বাজার বিশ্লেষক জেফ্রি হ্যালি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে, এর ফলে সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড়সড় ধাক্কা লাগলেও, চলতি সপ্তাহ জুড়েই তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে প্রতিবেশী ইয়েমেনের তেহরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হাত রয়েছে। হামলার জেরে সৌদি আরব বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের পরিমাণ ৬ শতাংশ বন্ধ করে দিয়েছে।

এই ড্রোন হামলার ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দোষারোপ করে বলেন, “ইরানে গোপনে সামরিক হামলা চালাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, “যাতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তা নিশ্চিত করতে অংশীদার এবং সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান এই আগ্রাসনের ব্যাপারে দায় এড়াতে পারে না।”

যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান।

এদিকে তেল শোধনাগারে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ