ঢাকা, বুধবার 23 October 2019, ৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ধর্মান্তরিত না করার মুচলেকা দিতে হবে ভারতীয় এনজিওদের

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: যেসব এনজিও বিদেশ থেকে তহবিল পেয়ে থাকে তাদেরকে কোন ভারতীয়কে ধর্মান্তরিত না করার মুচলেকা দিয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।ভারতে বিদেশি সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওগুলোর কার্যকলাপে সরকার নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করছে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ তাতে সর্বশেষ সংযোজন।

ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন, কার্যক্রমের আড়ালে বহু এনজিও জোর করে বা লোভ দেখিয়ে লোকজনকে ধর্মান্তরিত করছে বলেই এই মুচলেকা জরুরি। কিন্তু ভারতের বহু এনজিওই এই সিদ্ধান্তে প্রবলভাবে হতাশ।

বিজেপি তথা আরএসএসের তাত্ত্বিক নেতা ও রাজ্যসভার এমপি রাকেশ সিনহা বিবিসিকে বলছিলেন, "দেশে এমন অন্তত ১২৮টি এনজিও আছে, যারা সরকারের এফসিআরএ-কে জানিয়েছে তাদের কার্যকলাপের সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।"

"অথচ এদের ওয়েবসাইটে গেলেই আপনি দেখবেন এরা নিজেদের কেউ খ্রিষ্টান মানবতাবাদী, কেউ ক্যাথলিক বা কেউ জেসুইট দরদী বলে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে।"

"ওয়ার্ল্ড ভিশন, কার্টিস ইন্ডিয়া, নাগাল্যান্ড জেসুইটস এমন অজস্র এনজিওর নাম আমি এখনই করতে পারি। এই ভন্ডামিটা বন্ধ করার জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।"

ভারতে মিশনারি বা জেসুইট সংগঠনগুলো বিদেশি সাহায্যকে কাজে লাগিয়ে গরিব আদিবাসী বা দলিত সমাজকে জোর করে খ্রিষ্টান বানাতে চাইছে, বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের এই অভিযোগ অনেক দিনের।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশে বলা হচ্ছে, এই এনজিওগুলোর কর্মীরা যে কখনো ধর্মান্তরে জড়িত ছিলেন না বা ধর্মান্তরের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন না সেটাও তাদের হলফনামা দিয়ে বলতে হবে। নইলে সেই এনজিওকে ভারতে কাজ করতে দেওয়া হবে না। শুধু ধর্মান্তর নিয়ে মুচলেকাই নয়, ভারতে এনজিও কর্মীদের এখন থেকে এটাও বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবে যে, তারা বিদেশ থেকে পাওয়া তহবিল কোনোভাবে তছরূপ করেননি এবং দেশদ্রোহমূলক কোনো বার্তাও প্রচার করছেন না।

পশ্চিমবঙ্গের ‘পরিচিতি’ নামে এনজিওর কর্ণধার অঞ্চিতা ঘটক বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের দাবি আসলে সেটা তাদের জন্য খুবই অবমাননাকর।

সূত্র: বিবিসি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ