ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 September 2019, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ঢাকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হবে সিঙ্গাপুরের আদলে

গতকাল বুধবার নগর ভবনে সিঙ্গাপুর সফর শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ব্রিফিং করেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিনা- সেই মূল্যায়নের ভার সাংবাদিকদের উপর ছেড়ে দিলেন মেয়র সাঈদ খোকন। রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অগাস্টের শুরুতে মেয়র বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে। গতকাল বুধবার দক্ষিণের নগরভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা মেয়রের কাছে জানতে চান- ঢাকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিনা।
জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকায় এখন প্রতিদিন গড়ে দুইশর মত নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। “জুলাইয়ের শেষ দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। অবশেষে তা ব্যাপকতা পায়। এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেটা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে।"আপনারা যদি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের ডেটা দেখেন, এটা গ্র্যাজুয়ালি কমছে। বর্তমানে আটশ, সাতশ, ছয়শ- এভাবে নতুন রোগীর সংখ্যা কমছে। একইভাবে ঢাকাতেও নতুন রোগীর সংখ্যা কমছে।"
 মেয়র বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা কত তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।“যদি এটা জানাতে পারত, তাহলে আমাদের কাজের সুবিধা হত। কিন্তু তারা স্পেসিফিক বলতে পারেনি। তবে বর্তমানে ঢাকায় প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা চারশর কাছাকাছি। এটা দুই ভাগ করে যদি উত্তরে ৫০ শতাংশ দক্ষিণে ৫০ শতাংশ ধরি, তাহলে দেখা যায় এটা দুইশ বা আশপাশে আছে।"
এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে মেয়র বলেন, “যে শহরে এক কোটি ২৪ লাখ লোক বাস করে, সেখানে দুইশ লোক নতুন করে আক্রান্ত। এ অবস্থায় ডেঙ্গু কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি, কতটা পারিনি সেই মূল্যায়নের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম।"
এবার বর্ষার শুরুতে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এ বছর এ পর্যন্ত ৮২ হাজার ৯৯০ জন মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন মশা মারতে যে ওষুধ দিচ্ছে তা কার্যকর নয় বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় উঠে আসে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে মেয়র খোকন অভিযোগ তুলেছিলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ‘ছেলেধরার মত’ গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে তিন দিন পর তিনি নিজেও স্বীকার করেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক'।
এ নিয়ে সমালোচনা আর উদ্বেগের মধ্যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। পরে কোরবানির ঈদের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চীন থেকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভারত থেকে নতুন ওষুধ নিয়ে আসে।
অগাস্টের মাঝামাঝি সময় কোরবানির ঈদের পর থেকে হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। গত ১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সিটির বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে লক্ষ্য ধরে তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন, এজন্য ডেঙ্গুর প্রকোপও কমেছে।
 ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা নিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর যান মেয়র সাঈদ খোকন।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শহীদুল ইসলাম, আ ন ম ফয়জুল হক, ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহা বিনতে সিরাজও এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন।
সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মেয়র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সেখানে সারাবছর ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলে। মাঠ পর্যায়ে জরিপ এবং তদারকি হয়, ল্যাবে গবেষণা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হয়। পাবলিক, প্রাইভেট, পিপল- এই ৩ ‘পি' এর সমন্বয়ে তারা কাজ করে। পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ চলে।"
মেয়রের এই সফরে সিঙ্গাপুরের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ডেঙ্গু বিষয়ক তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তির ব্যবহার, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
অক্টোবরের চতুর্থ সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে। সেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ