ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 September 2019, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

২০ কোটি টাকার এক্সিলেটর মেশিন পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়

খুলনা অফিস : রোগ নির্ণয় ও ক্যান্সার রোগীদের থেরাপী দেয়ার জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনটি এখনও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ মেশিনটি ঢাকায় নিয়ে আর একটি নতুন মেশিন খুলনায় পাঠানো হবে বলে সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। যে সিদ্ধান্তের আলোকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের অনকোলজী বিভাগে নতুন ভবন (বাংকারসহ) নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি।
নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর খুলনা-১এর সূত্রটি বলছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হতে পারে। এর পরই লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনটি ঢাকায় ফেরত নিয়ে খুলনায় পাঠানো হবে আর একটি কোবাল্ট মেশিন। সব মিলিয়ে খুলনাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের সরকারি উদ্যোগ যেন খুমেক হাসপাতালের লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনের মত না হয় এমন দাবিও খুলনাবাসীর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে অর্থাৎ ২০১২-১৩ সালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজী বিভাগের জন্য মেশিনটি কেনা হয়। ওই মেশিনটি স্থাপনের জন্য কোন প্রকার পূর্ব ব্যবস্থা না করেই কেন এতো মূল্য দিয়ে মেশিনটি কেনা হয় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রটি বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অপরিণত সিদ্ধান্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মেশিনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে এর ওয়ারেন্টি পিরিয়ডও।
অবশ্য খুলনায় লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিন বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাংকার না থাকায় সেটি প্রথমে ঢাকা মহাখালীর ক্যান্সার হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যেটি পরে খুলনাবাসীর তোপের মুখে পড়ে ভেস্তে যায়। এ নিয়ে ওই সময় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এরপর অনকোলজী বিভাগেই কিছু সংস্কার করে মেশিনটি স্থাপনের প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়। যদিও সে কাজও বেশিদূর এগোয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তর খুলনা-১এর আওতায় এ বিষয়ে কিছু কাজও করা হয়।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে খুলনায় চিকিৎসকদের একটি সমাবেশে বক্তৃতাকালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনটি স্থাপন করা হবে। কিন্তু সেটিও হয়নি। মেশিনটি প্রতিস্থাপন এবং আনুসাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সাড়ে সাত কোটি টাকা চাওয়া হয়। যার মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা মেশিনের অন্যান্য অংশ ও দুই কোটি টাকা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নিয়ে দেখার পর জানানো হয়, এটির অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
বরং এর তিন বছর পর গত বছর (২০১৮ সালে) অক্টোবর মাসে খুলনা এসে একই স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম চিকিৎসকদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বলেন, ঢাকার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের রেডিওথেরাপি বা লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনটি। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ২০ কোটি টাকা মূল্যের এ মেশিনটি এখনও পড়ে আছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএমএম মোর্শেদ বলেন, ক্যান্সার বিভাগের লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনটি ফেরত নিয়ে কোবাল্ট মেশিন খুলনায় পাঠানোর জন্য গণপূর্ত বিভাগ বাংকার তৈরির কাজ করছে। কাজটি কবে নাগাদ শেষ হবে সেটি গণপূর্ত বিভাগই জানে।
গণপূর্ত বিভাগ খুলনা-১এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংকার তৈরির কাজ শেষ হতে পারে। ভবন ছাড়াও রাস্তা, সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ রয়েছে। সব কাজ শেষ হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব মিলিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যেই ভবনটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, ইতোমধ্যেই লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনটির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানী জামানতের টাকাও পায়নি। সুতরাং এটি এখন এখানে বসানোটিও ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে অনুযায়ী নতুন একটি কোবাল্ট মেশিন বসানোটিই সঠিক হবে। তবে কোবাল্ট মেশিন আসলেও পরবর্তীতে নতুন ওয়ারেন্টিযুক্ত লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিন রিপ্লেসমেন্টেরও দাবি জানান এই চিকিৎসক নেতা। তিনি বলেন, খুলনায় ক্যান্সার হাসপাতাল হলে অবশ্যই লিনিয়র এক্সিলেটর মেশিনের প্রয়োজন হবে। সুতরাং এটি ফেরত নিয়ে কোবাল্ট মেশিন দেয়ার অর্থ এই নয় যে, এটিই শেষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ