ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 September 2019, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ময়ূর নদ নিয়ে মহাপরিকল্পনা

খুলনা অফিস : খুলনা ময়ূর নদের তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে বেশ জোরেশোরে। নদী দখল করে তৈরি করা ৬০টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলেছে জেলা প্রশাসন ও খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। গত ১৭ দিনে উদ্ধার করা হয়েছে নদীর ৩ একর জমি। এতে ময়ূর নদের শহর অংশের স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বুধবার থেকে ডুমুরিয়া অংশে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা ভাঙার পর নদীর ফাঁকা জায়গায় কী হবে? বা কবে নাগাদ খননের কাজ শুরু হবে-এমন প্রশ্ন এখন নদী তীরের মানুষের।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, ময়ূর নদী নিয়ে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ময়ূর নদীসহ সংলগ্ন খালগুলো খনন করা হবে। এজন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে পরামর্শক সংস্থা। নকশা প্রণয়ন শেষে ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে নদী ও সংলগ্ন খাল খননের কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ময়ূর নদের দুই পাড় বাঁধাই, হাঁটার রাস্তা এবং নদী কেন্দ্রিক বিনোদনের ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং নেদারল্যান্ড সরকার এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে। প্রাক সম্ভাব্যতা জরিপ, নকশা প্রণয়ন, প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন শেষে এই কাজ শুরু করতে আরও দুই বছর সময় লাগবে। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ এই কাজ শুরু হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নেওয়া ৮৪৩ কোটি টাকার প্রকল্পের অন্যতম খাত হচ্ছে ময়ূর নদীসহ সংযোগ খাল খনন করা। এছাড়া আরও ৮টি খাল সংস্কার করে সেখানে স্লুইস গেট স্থাপন ও পাম্প হাউজ তৈরি করা হবে। নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রকল্পের আওতায় ময়ূর নদীর ওপর তিনটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হবে।

এজন্য খনন কাজ শুরু করার আগে নদী ও খালের সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন নদী ও খাল দখল করে যেসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে-সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে খননের সময় ভরাট করা জমি নদীর ভেতরে চলে যাবে।

এই প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর পরামর্শক সংস্থার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে তারা কর্মপরিকল্পনা ও পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর ৪টি ধাপে তিন মাস পরপর নকশা, অংকন, এস্টিমেট এবং দরপত্রের কাগজ জমা দেবে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে নগরীর রয়েল মোড় কেন্দ্রিক ১০ কিলোমিটার প্রধান এবং ১০ কিলোমিটার দ্বিতীয় সারির ড্রেনের নকশা তারা জমা দেবে। দ্বিতীয় ধাপে খাল খনন, পাড় বাঁধাই, স্লুইসগেট নির্মাণ এবং আউটলেটগুলো খনন, আরও ২০ কিলোমিটার প্রধান ড্রেন, ৬০ কিলোমিটার দ্বিতীয় সারির ড্রেন নির্মাণের নকশা প্রণয়ন করবে। প্রতিটি ধাপের নকশা ও এস্টিমেট দেয়ার পর সেগুলো দরপত্রে চলে যাবে। এতে করে জানুয়ারি মাস থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এপ্রিল-মে মাসে ময়ূর নদী ও খাল খননের কাজ শুরু হবে। কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার জানান, সরকারি অর্থায়নে নদী খননের পর নদীর পাড় বাঁধাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে। এজন্য অনেক আগেই কেএফডব্লিউ এবং নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়। ইতোমধ্যে তারা মৌখিকভাবে অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে। এজন্য প্রাক সম্ভাব্য জরিপের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। জরিপের পর তারা এখানে কী কী কাজ করবে সেটা জানাবে। তবে নদীর দুই পাড় বাঁধাই, নদীর পানির গতি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং নদী কেন্দ্রিক বিনোদন ব্যবস্থা অবশ্যই থাকবে। কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, নদীপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কিছুদিন পরই তা’ আবার দখল হয়ে যায়। এজন্য আগে নদী খনন প্রকল্প পাশ করেছি। নদী ও খালের উচ্ছেদ কাজ শেষ হলেই এগুলো খননের কাজ শুরু হবে। ময়ূর নদী শুধু খননই করা হবে না এর পাড় বাঁধাই এবং অন্যান্য কাজের জন্য কেএফডব্লিউসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, ইতোপূর্বে একবার নদী খনন করা হলেও তার সুফল পাওয়া যায়নি। এজন্য এবার সঠিকভাবে নকশা তৈরি করে ময়ূর নদী খনন করা হবে। আর নদীসহ সবগুলো খাল খনন এবং ড্রেন নির্মাণের পুরো কাজ তদারকি করতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (কুয়েট) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কাজের মান কুয়েট যাচাই করবে। তবেই কাজের বিল ছাড় করা হবে। সব কাজ শেষ হলে ময়ূর নদী হবে খুলনাবাসীর অন্যতম দর্শনীয় এলাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ