ঢাকা, শুক্রবার 20 September 2019, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ছাত্রদলের নতুন সভাপতি খোকন ও সম্পাদক শ্যামল নির্বাচিত

 

স্টাফ রিপোর্টার: কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ সংগঠনের নতুন সভাপতি হয়েছেন ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল হোসেন শ্যামল।

ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে নয়জন সভাপতি প্রার্থী এবং ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মধ্য থেকে দুই পদে দুজনকে বেছে নিতে ভোট দেন ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন। লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে আলোচনার পর বুধবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাড়িতে এ ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।

মধ্যরাতে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শেষে ভোরে ফল ঘোষণা করেন মির্জা আব্বাস। ছাত্রদলের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকনসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সভাপতি হয়েছেন খোকন। তিনি পেয়েছেন ১৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের ভোট ১৭৮। খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তিনি সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র। ছাত্রদলের গত কমিটিতে গণশিক্ষা বিষয়ক সহ সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া।

সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। তার নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকিরুল ইসলাম ভোট ৭৪। শ্যামল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী।

নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সফলে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন তারা।

ছাত্রদলের শীর্ষনেতা নির্বাচনে ১৯৯২ সালে সরাসরি ভোট হয়েছিল। ওই কাউন্সিলে রুহুল কবির রিজভী সভাপতি এবং এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে কয়েক মাস পরই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।

ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আকরামুল হাসান।

শুরুতে ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন পর এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়, যাতে ৭৩৬ জনকে পদ দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এবার বয়সের শর্ত যোগ করা হলে তা নিয়ে সংগঠনটির একাংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নেমেছিল। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও ভাংচুর চালানো হয়। তখন কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয় ছাত্রদল থেকে। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের দিন ঠিক করে নানা প্রস্তুতি নেয়ার পর আকস্মিকভাবে ছাত্রদলের এক নেতার আবেদনে আদালতের স্থগিতাদেশ আসে। ফলে নির্ধারিত দিনে আর কাউন্সিল হয়নি।

সরকারের হস্তক্ষেপে আদালত এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে অভিযোগের পর বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, আইনিভাবে মোকাবেলা করেই ছাত্রদলের কাউন্সিল করবেন তারা।

বিএনপি নেতারা পরে বলেন, আইনজীবীরা মত দিয়েছেন যে কাউন্সিল করায় আইনগত কোনো বাধা নেই।

এর পরপরই বুধবার বিকালে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের ডাকে এই কাউন্সিলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

মির্জা আব্বাসের বাসায় ছাত্রদলের কাউন্সিলর ও প্রার্থীরা কার্ড দেখিয়ে ঢোকার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চারটি বুথে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হয়ে তারেক রহমান কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর খোকন বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনের কাজটি শুরু করেছি।

ভোটগ্রহণ বিরতি ছাড়াই চলে রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত; এরপর গণনা শেষে ফল ঘোষণা হয়।

ছাত্রদলের কাউন্সিলে নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলন।

তার সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন সাবেক দুই সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও আজিজুল বারী হেলাল। সাবেক ছাত্রদল নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ