ঢাকা, শুক্রবার 20 September 2019, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মংলায় এবার ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ॥ উদ্বেগে পরিবেশবাদিরা

সুন্দরবনের কোল ঘেঁষেই মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক অপর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

 

খুলনা অফিস : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সুন্দরবন রক্ষায় জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ ফাইন্ডেশনসহ দেশি-বিদেশি পরিবেশবাদি সংগঠনগুলোর উৎকণ্ঠার মধ্যে এবার সুন্দরবনের কোল ঘেঁষেই মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক অপর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন ১০ কিলোমিটার ইসিএভুক্ত এলাকার মাত্র ৫ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০০ মেগাওয়াট এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়েই অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে, নির্মাণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, ইতোমধ্যে তারা পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়েছে। অনুমোদিত হয়েছে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট। তবে, খোদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বলেছেন, তাদের কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ হলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে সুন্দরবন। স্থানীয়দের দাবি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের ইসিএ এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার। Powerpac Mutiara Khulna Power Plant Ltd নামের এই বেসরকারি কোম্পানিটি মোংলা নাম ব্যবহার না করেই iB Mutiara Khulna Power Plant নাম করে ২০১২ সালে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটির অনুমোদন পায়। আর ২০১৭ সালে মংলা বন্দর সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এটি স্থাপনের জন্য আবেদন করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। গেল বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) কার্যপরিধি অনুমোদিত হয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যে কোনো দিন শুরু হবে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ।

তবে, বাস্তব অবস্থা হচ্ছে পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়েই ইতোমধ্যেই অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণাধীন পাওয়ারপ্যাক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ করতে না দিয়েই এই কোম্পানিটি ২০০ একর জমির ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক লাল তালিকাভুক্ত শিল্প-কারখানার সাইবোর্ড দিয়ে পুরোদমে চলছে বালু ভরাটসহ সড়ক ও অবেকাঠামো নির্মাণ কাজ। এবিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ দপ্তরের পরিচালক। তবে পরিবেশ দপ্তর বলেছে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার মধ্যে Powerpac Mutiara Khulna Power Plant Ltd কে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০০ মেগাওয়াট এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

সুন্দরবন গবেষক ও সুন্দরবনের সুরক্ষায় উচ্চ আদালতে রীট আবেদনকারী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার মধ্যে কোনো প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা করা উচিত হবেনা। সুন্দরবনের কথা বিবেচনা করে এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে সরে আসা উচিত। 

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. জাকির হোসাইন বলেন, সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার মধ্যে কোনো কিছু নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ আইন মেনে করা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ