ঢাকা, বুধবার 23 October 2019, ৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে পুলিশ পাহারায় চলত জুয়া

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ক্যাসিনোর নামে জুয়ার কারবার চলতো বলে জানিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ।

এরই মধ্যে খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে গুলশান ও মতিঝিল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর অনেক ক্লাবের প্রচলিত জুয়ার আসরকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণসজ্জিত করে ক্যাসিনোতে রূপান্তর করেন একদল নেপালি। জুয়া চালাতে তাঁদের ভাড়া করে আনেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কিছু নেতা-কর্মী। চুক্তির বিনিময়ে এসব নেপালি কাজ করলেও জুয়ার মূল টাকা যেত নেতাদের পকেটে। আর জুয়ার কারবার নির্বিঘ্ন করত পুলিশ প্রশাসন।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনোর টাকা কার কাছে কত যেত সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবের কাছে জানিয়েছেন, ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেত পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, ডিসি, রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সাংবাদিক ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের নাম। সেসব বিষয়ে তদন্ত করছে র‌্যাব। 

র‌্যাবের সূত্র জানায়, প্রত্যেকটি ক্যাসিনো থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা হতো। এই জুয়ার আসরের লাভের অংশের ভাগ সবার কাছে পৌঁছায় দিতে হতো। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের এসি, ডিসি ও ওসির কাছে মাসিক হারে টাকা পৌঁছে যেত। এমনকি যারা এসআই তাদেরও টাকা দিতে হতো। তবে তাদের পরিমাণটা ছিল কম। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্যাসিনো এলাকার পুলিশের বিট অফিসারও পেত টাকার ভাগ। টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতার পকেটেও যেত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। এমনকি কাউকে কাউকে গাড়ি উপহার দিতে হয়েছে। অনেককে দিতে হয়েছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা দামের মোবাইল ফোন। এমন নেতাদের তালিকাও করা হচ্ছে। টাকার ভাগ যেত অনেক সাংবাদিকের পকেটেও। এরই মধ্যে খালেদ সবার তালিকা র‌্যাবের কাছে দিয়েছে।

র‌্যাবের কাছে খালেদ জানিয়েছে, মগবাজার টিএনটি কলোনির সন্ত্রাসী নাজির আরমান নাদিম ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হয়ে ঢাকায় কাজ করেন খালেদ। চাঁদাবাজি ও ক্যাসিনোর টাকা ওমানের মাসকটে থাকা সন্ত্রাসী নাদিমের কাছে পাঠায় খালেদ। সেখান থেকে জিসানও ভাগ পায় টাকার। শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বর্তমানে ভারতের পাসপোর্ট দিয়ে জার্মানিতে স্থায়ী হয়েছে। জিসানের দুবাইয়ের দেরাতে চারটি স্বর্ণের দোকান আর আল ফজিরা সিটি জায়েদ শেখ মার্কেটে রয়েছে নাইট ক্লাব। এসব ব্যবসায় চট্টগ্রামের অনেক ব্যবসায়ীর শেয়ার রয়েছে। সেই সুবাদে জিসান জার্মানি থেকে দুবাইয়ে আসা-যাওয়া করেন। ঢাকায় জিসানের যেখানে যেখানে আধিপত্য ছিল তার সবই নিয়ন্ত্রণ করত খালেদ।

এদিকে গত বুধবার ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব ও পরে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে র‌্যাবের অবৈধ ক্যাসিনো উচ্ছেদ অভিযানের পর ওই এলাকার পরিবেশটা থমথমে। বেশির ভাগ ক্লাবেই দায়িত্বশীল কেউ নেই। স্টাফরা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মধ্যে আতঙ্ক। কখন আবার নতুন করে অভিযান শুরু হয়। আরামবাগ ও মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় ঘুরে দেখা গেছে শুধু উৎসুক মানুষ। যাদের বেশির ভাগেরই অভিযোগ ক্লাবগুলোর এ জুয়ার আসরের কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছে হাজার মানুষ। বিভিন্ন ক্লাবের সামনে মানুষ জড়ো হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম দেখছেন। এ এলাকায় বেশকিছু ক্লাবের কার্যালয় থাকলেও অবৈধভাবে ক্যাসিনো চলছে ছয়টিতে। এর মধ্যে দুটিতে অভিযান হওয়ার পর বাকি চারটি নিজেদের উদ্যোগেই তালা মেরে রাখা হয়েছে।

ক্যাসিনো বন্ধের অভিযানের পর বিভিন্ন ক্লাবে যে অন্যান্য জুয়ার আসর বসত তাও গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বন্ধ রেখেছে। যেখান থেকে ক্লাবগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমের অর্থের জোগান আসত। গত বুধবার বিকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত পল্টন ও মতিঝিল এলাকার কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ক্যাসিনোগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি আটক করা হয় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ