ঢাকা, বুধবার 23 October 2019, ৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিআরটিএর মৃত কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় মিলল ৩৩ লাখ টাকা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিআরটিএ সার্কেল ঝিনাইদহের মৃত সহকারী পরিচালক বিলাশ সরকারের ভাড়া বাসার আলমারির ড্রয়ার ও গোপন কুঠুরি ভেঙ্গে পাওয়া গেল নগদ ৩৩ লাখ টাকাসহ ৬টি চেক।বিলাস সরকার (৫২) সাত দিন আগে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। 

পুলিশের ধারণা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় ঘুষ হিসেবে টাকাগুলো অর্জন করেন তিনি। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সাহসী পদক্ষেপে ওই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ঝিনাইদহ বিআরটিএর জেলা প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন বিলাস সরকার। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা ঢাকায় থাকেন। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তিনি একাই থাকতেন। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুর কয়েকদিন পর পরিবারের দু'জন সদস্যের উপস্থিতিতে তালাবন্ধ কক্ষগুলো খোলা হয়। বাসার মালামাল সরানোর সময় আলমারির ড্রয়ার ও তার গোপন কুঠির দিকে সবার চোখ যায়। সেগুলো ভাঙার পর বেরিয়ে আসে ১০০০ ও ৫০০ টাকার অনেকগুলো বান্ডিল এবং চেক বইয়ের ৬টি ছেঁড়া পাতা। গুনে দেখা যায় ৩৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা রয়েছে। এত টাকা দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হন।

সূত্রটি আরও জানায়, মৃত বিআরটিএ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা টাকাগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তাদের এ বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সব ব্যাংকে খোঁজ নেয়া হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

বুধবার এ সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে বিপুল অংকের এ টাকা অন্যায়ভাবে অর্জিত হয়েছে। সূত্রমতে আলমারির ড্রয়ার ও গোপন কুঠুরি ভাঙ্গার সময় বিলাশ সরকারের দুই ছেলে তমাল ও দীপ, বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলের সহকারী মোটযান পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন, ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সুচন্দন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছোট নাজির মুকুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উদ্ধার করা টাকাগুলো সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে এবং সার্বিক ঘটনা তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্য আরেকটি সূত্র জানায়, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় অন্যায়ভাবে দালালদের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা অর্জন করতেন বিলাশ সরকার। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ব্যাংক হিসাবে সেই টাকা না রেখে নিজের কাছে রেখে দিতেন তিনি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ