ঢাকা, শনিবার 21 September 2019, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তানকে হারিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাই-শফিউল

স্পোর্টস রিপোর্টার : ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে একম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ফলে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরে ফাইনালে মাঠে নামবে দল দু’টি। তবে ফাইনালের আগে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দল দু’টি। ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এই ম্যাচ স্বাগতিকরা জয়ের বিকল্প দেখছে না বললেন পেসার শফিউল ইসলাম। অবশ্য গ্র¤œপ পর্বে আফগানদের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকায় আফগানদের কাছে হারের পর চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে ৩৯ রানে হারাতে ব্যাটে বলে দারুন খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ধারা ধরে রেখে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়খরা কাটাতে চায় সাকিবরা। গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন পেসার শফিউল ইসলাম। শফিউল বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালো। এই ম্যাচটা আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো খেলে জিততে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এই জয়ের অভ্যাসটা আমাদের ফাইনাল খেলতে অনেক সাহায্য করবে।’ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার মুখোমুখিতে বাংলাদেশ জয় পেলেও এরপর টানা চার ম্যাচ হেরেছে সাকিবরা। রশিদ খানদের বোলিং আক্রমণে বারবারই হারতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। শফিউল বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের ভুলগুলো শুধরাতে পারি এবং নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করে শতভাগ দিতে পারি তাহলে ওদের হারানো সম্ভব।’ যে কোনও উইকেটেই আফগানিস্তানের স্পিনাররা ভয়ঙ্কর। তাই বাংলাদেশকে স্পোর্টিং উইকেটের দিকেই ঝুঁকতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে পেসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে মনে করেন শফিউল। কিনি বলেন, ‘বোলিং আক্রমণে কাদের প্রাধান্য থাকবে, এটা টিম ম্যানেজমেন্ট ভালো বলতে পারবে। পেসাররা খেলুক বা স্পিনাররা, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সবারই দায়িত্ব। সবার উচিত হবে নিজের শক্তির জায়গায় থেকে ঠিক জায়গায় বল করা। তাহলেই আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখা সম্ভব হবে।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ বছরের ক্যারিয়ার শফিউল ইসলামের। উত্থান পতনে ভরা এই লম্বা ক্যারিয়ারে স্থির হতে পারেননি জাতীয় দলে। প্রতিনিয়ত ইনজুরি আর ফিটনেসের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই পেসার। নির্ভার থেকে সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে চান শফিউল। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় শফিউলের। ২০১৭ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি- টোয়েন্টি খেলার পর দীর্ঘদিন ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। গত জুলাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আবার ফেরেন জাতীয় দলে। প্রায় দুই বছর সুযোগ পেলেন টি-টোয়েন্টিতেও। শফিউল এই সিরিজে ফিরেই জানান দিয়েছেন ফুরিয়ে যাননি তিনি। ৩৬ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন তিন উইকেট।এ নিয়ে শফিউল বলেন, ‘ভাবি, নিয়মিত মাঠে আছি। এটা করলে পারফরম্যান্স ভালো হয়। চাপও কম পড়ে। সবচেয়ে বড় কথা নির্ভার থাকার চেষ্টা করি।’ জাতীয় দলে শফিউলের অনিয়মিত হওয়ার বড় কারণ ছিল চোট। 

দলে ডাক পেলেই কোনও কোনও ইনজুরিতে ছিটকে গিয়েছেন প্রায় সময়। তাই ইনজুরি এড়াতে সবসময় সতর্ক থাকেন তিনি, ‘আমি চেষ্টা করছি যেন ইনজুরি মুক্ত থাকা যায়। সবসময় চাই- যখনই ফিরি, দেশের জন্য যেন কিছু করতে পারি। নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আর ইনজুরিতে যেন না পড়ি সেই চেষ্টাও থাকে।’ বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুন হলেও স্বস্তি শফিউলের। তিনি বলেন,‘টুর্নামেন্ট চলার সময় কোচরা খুব বেশি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন না। আমার লেন্থ যেন ভালো হয় এবং যেটা করি তা যেন নিখুঁত থাকে সেটায় জোর দিয়েছেন তিনি (ল্যাঙ্গেভেল্ট)।’ খারাপ সময় এলে দৃঢ়তার নিয়ে মোকাবিলা করতে চান শফিইল। তিনি বলেন, ‘ভালো থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যে বল করতে পারি। ভালো দিন যাচ্ছে, পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে। কিন্তু এটাই তো শেষ নয়। খারাপ সময় এলে তখনও যেন ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারি সেজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ