ঢাকা, শনিবার 21 September 2019, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

যমুনা চরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা চরের কুরশী গ্রামে সবজি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষকরা

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত। বাজারের চাহিদা কারণেই তারা আগাম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই কৃষকরা চরের উুঁচ জমিগুলোতে লাউশাক, লাউ, লালশাক, বেগুন, শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, টমেটো ও শশাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ শুরু করেছেন।

যমুনা চরের কৃষকরা জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে তুলে তা বাজারজাত করা যাবে বলে আশা করছেন এখানকার কৃষকরা। সরে জমিনে ঘুরে, যমুনা চরের কৃষ দেও সাথে কথা বলে জানা যায়, ১ম দফা বন্যা শেষে চরের যেসব জমি জেগে উঠে সেসব জমিতেই মূলত সবজি চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওই সব জমিতে বন্যায় প্রচুর পলিমাটি পরেছে। গত কয়েক বছর ধরেই যমুনা চরের সোনাতনী ইউনিয়নের বানতিয়ার, ভুমুরিয়া, বড় চামতারা, ছোট চামতারা, শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরশি, বাঙ্গালা, বারো পাখিয়া এবং গালা ইউনিয়নের রতনদিয়ার, গালার চর, কৈজুরী ইউনিয়নের ভাট দিঘুলিয়া, পাচিলের চর, জগতলার চরে শীতকালীণ আগাম সবিজ চাষ করা হয়ে থাকে। ফলে চরাঞ্চলের বালুকাময় মাঠে যেন সবুজ বিপ্লব সংগঠিত হয়ে থাকে। যমুনা চরের এসব সবজি চরের হাটÑবাজারের চাহিদা মিটিয়ে যমুনার পশ্চিমপাড় কৈজুরী, জামিরতা হাটে বিক্রি হয়ে থাকে। ধারনা করা হচ্ছে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছরও চরাঞ্চলে শীতকালীণ সবিজর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

শাহজাদপুর উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে। পাশাপাশি, শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে এলে যমুনা চরের কৃষকরা ভালো দাম পাবেন। চরের কায়েম হওয়া জমিতে সাধারণত সবজি উৎপাদন বেশী হয়ে থাকে। সবজি বিক্রি করে চরের চাষীরা অর্থনৈতিক ভাবেও বেশ লাভবান হচ্ছে।  

বারো পাখিয়া গ্রামের চাষি আব্দুল করিম জানান, ৫০ শতক জমি লিজ নিয়েছেন বছরে ১৫ হাজার টাকায়। সেই জমির প্রায় ১৫ শতাংশে লাউ শাক চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এখন লাউ শাক বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকার কারণে এ বছর শীতকালীন সবজি হিসেবে ২৭ শতক জমিতে শিমের এবং বাকি ২৭ শতক জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে শিম ও বেগুন গাছে ফুল ধরেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামি দু’এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সবজি বাজারে বিক্রি করা যাবে। তাই আবহাওয়া অনুকূলে ও বাজারে সবজির চাহিদা থাকলে যমুনা চরের সবজি চাষীরা বেশ লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ