ঢাকা, শনিবার 21 September 2019, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আইওয়াশ নয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চায় জনগণ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : ‘অন্যায় করে কেউ পার পাবে না’ গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা একথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কেউ এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে না যা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করে। মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসকে তোমাদের মূল্য দিতে হবে।’ বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের উপর আস্থা রাখতে চান যেভাবে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি লুটপাটের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, এটি ধারাবাহিকভাবে চলবে। একইসাথে সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাজার হাজার বাড়িঘর, দোকানপাট, অফিস আদালত এমনকি সংবাদপত্রের বিল্ডিং দখল করা হয়েছে, সেগুলোও উদ্ধার করে মূল মালিকদের ফিরিয়ে দেয়া হবে। জানা গেছে, শুধু রাজধানীতেই অসংখ্য ভবন, দোকানপাট দখলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। সরকারদলীয় কাউন্সিলর কর্তৃক সংবাদপত্রের ভবন দখল ওপেন সিক্রেট। রাজনীতিবিদরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য শুধুই আইওয়াশ। গত ৩০ ডিসেম্বরের অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার পাশাপাশি দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এটি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রশাসনের অনেকের বিুরদ্ধে দুর্নীতি লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সবাই বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ এভাবে কর্মকা- চালাতে থাকলে মানুষের কাছে এই দুই সংগঠন পরিত্যক্ত হয়ে যাবে। কারণ, তাদের অনাচারে সমাজ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ চারদিক থেকে। তারা যে শুধু বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে তা নয়, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অনাচারের হাত সম্প্রসারিত হয়েছে। শাহবাগের ছোট ছোট ফুলের দোকান পর্যন্ত তাদের দৃষ্টি এড়ায়নি। নিউমার্কেটের টেম্পু স্টেশন, রাজধানীর ফুটপাতও তাদের ‘জমিদারিভুক্ত’। সবাই রোজ রোজ আরোপিত খাজনা-ট্যাক্স তাদের হাতে বুঝিয়ে দিতে হয়। মাদক, মদ-জুয়ার আসর বসিয়ে ব্যবসায়ও নেমেছে তারা।
সূত্র মতে, গত বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি ক্লাব-ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। একইসঙ্গে গুলশানের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদ ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের সভাপতি। এই ক্লাবটিতে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪২ ব্যক্তিকে। ক্যাসিনোতে মদ ও জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। একই সময়ে মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। এ দুই স্থান থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো-সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি ক্লাবেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গতকালও রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এর মধ্যে রাজধানীর নিকেতনে যুবলীগের নেতা জি কে শামীমের অফিসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজ পেয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় সোয়া কোটি টাকা পাওয়া গেছে। অন্যান্য কাগজপত্র থেকে এখন পর্যন্ত গুনে ১২৫ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। জি কে শামীম র‌্যাবকে জানিয়েছেন, এখানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার এফডিআর আছে। টাকা গুনে কূল পাচ্ছেন না র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্মকর্তারা।
সূত্র মতে, রাজধানীতে ক্যাসিনো কালচার দীর্ঘদিনের। শুধু রেজিস্টার্ড ক্লাব নয়, রাজধানীর এখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে অনেক আন-রেজিস্টার্ড ক্লাব বা স্থাপনা, যেখানে শুধু জুয়ার আসরই বসে না, চলে মদ্যপানও। কথা হচ্ছে, দীর্ঘদিন থেকে ক্যাসিনো কালচার চলে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতদিন পর কেন তৎপর হল? এটা বুঝতে কোনো অসুবিধা নেই যে, ক্লাব ও ক্যাসিনো কালচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সমাজের প্রভাবশালীদের একটি বড় অংশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও যে বিষয়গুলো জানতো না, তা নয়। ক্যাসিনো থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি বড় অংশ হয়তো প্রভাবশালী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পকেটেও যেত। এটাও বলার অপেক্ষা রাখে না, খোদ প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কর্মকা-ে বিরক্তি প্রকাশ না করলে হয়তো বুধবারের অভিযান পরিচালনা করা হতো না। প্রধানমন্ত্রী শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সেখানে বলেছিলেন, এক নেতা যা ইচ্ছা তা-ই করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে, আরেকজন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। তিনি এসব বন্ধ করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সেই সভায়।
বলাবাহুল্য, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেফতারকৃত খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষোভ প্রকাশের পরপরই আমরা অভিযান পরিচালনা এবং দুই আলোচ্য নেতার একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী কথা না বলা পর্যন্ত কোনো অপরাধের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা গা করেন না। সব ব্যাপারেই প্রধানমন্ত্রীকে কথা বলতে অথবা নির্দেশ দিতে হয়। যুবলীগের ক্যাসিনো সাম্রাজ্য একটা ওপেন-সিক্রেট ব্যাপার ছিল। গ্রেফতারকৃত খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্লাব পাড়ার ক্যাসিনো থেকে শুরু করে কমপক্ষে সাতটি সরকারি ভবনে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল বহুদিন থেকেই। তিনি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ছত্রছায়ায় ব্যাপক চাঁদাবাজির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব জানতো না, তা নয়। হয়তো সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা বলেই এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ছিল। তাহলে কি এটাই ধরে নিতে হবে, এ দেশে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে না, সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে? আমরা মনে করি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যারা চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা উচিত। একইসাথে এটা আইওয়াশ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
অন্যদিকে বিএনপি বলছে, গত ১২ বছরে ক্ষমতাসীন আ’লীগ দেশকে লুটপাট করে একটা শ্মশানে পরিণত করেছে। সরকারের মদদেই সর্বস্তরে দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব দূর্ণীতির সাথে সরকারি দলের লোকজনই বেশী জড়িত। তিনি বলেন,  ধর্মের কল আপনা-আপনি বাজে। আজকে ছাত্রলীগের নেতা যারা দাবি করে তারা মানসপুত্র, নেত্রীর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান, তারাই ঘুষ বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরে ৬০টি ক্যাসিনো পত্রিকায় এসেছে- প্রত্যেকটি চালাচ্ছে কে? যুবলীগ নেতারা বা আওয়ামী লীগের নেতারা। এখন নিজেরা ধরা পড়ে গেছে এখন অন্য কারো দোষ ধরতে চায়। এটাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে- এদেশ দুর্নীতিতে পূর্ণ হয়েছে, সরকার সেখানে মদদ দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ সেখানে মদদ দিচ্ছে।
কারো কোনো বিচার হচ্ছেনা মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন যে, গত ক‘দিনে প্রথমে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ধরা পড়লো ‘ফেয়ার শেয়ার’ নিতে গিয়ে। সেই ফেয়ার শেয়ার আবার এক দুই কোটি টাকা নয়, ৮৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে, যার সঙ্গে কথা হলো অর্থাৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলরের একটা কথোপকথের একটা ভিডিও বেরিয়ে গেলো যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। অর্থাৎ কী অবস্থায় দেশকে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ যখন ভাইস চ্যান্সেলর যাদেরকে আমরা সবসময় সন্মান করি, মাথার উপরে রাখি তিনি ঘুষ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়লেন। আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের ভাইস চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে এবং আন্দোলন করছে যে, ভর্তি হচ্ছে বিনা পরীক্ষায় অর্থাৎ সেখানেও দুর্নীতি চলছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সবাই রাস্তায় নেমে গেছে তারাও সেখানে আন্দোলন করছে। গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নেমে পড়েছে যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। এদেশের মানুষ তাহলে যাবে কোথায়? এই সরকার তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। মূলত এসব শুধুই আইওয়াশ।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের পরিস্থিতি ক্রমশ: খারাপের দিকে যাচ্ছে। আজকে বাংলাদেশের কী অবস্থা? আজকে বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন, লাগামহীন। ড. মোশাররফ বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই ভোট ডাকাতি করেছে তাকে জায়েজ করতেই নানা ফন্দিফিকির করছে। আজকে আপনি তাঁকান পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দিকে- ডিআইজি, এসপি, পুলিশের ডিসি- আজকে দুর্নীতির দায়ে এই সরকারের হাতেই ধরা খেয়েছে। আপনি তাঁকান সরকারি সিভিল সার্ভিসের দিকে। আপনারা দেখেছেন, একজন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অপকর্মের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। দুদকের(দুর্নীতি দমন কমিশন) দিকে তাঁকান সেখানে একজন পরিচালক দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। কারাগারের ডিআইজি আজকে কারাগারে। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে দেখেন- এতো করছে তারা, কেউ কেউ না কেউ ধরা পড়ে যাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৮৬ কোটি টাকা চাঁদাবাজী করার দায়ে আজকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহিস্কৃত। এটাও বাংলাদেশের ইতিহাসে অস্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো সাজা হচ্ছেনা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশে নির্বাচিত সরকার নেই বলে সর্বস্তরে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে।  তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, একটা পিয়নের চাকুরির জন্য সরকারি অথবা আধা সরকারি যেকোনো সংস্থায় এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও যেকোনো চাকুরির জন্য টাকা দিতে হয়। একজন পিয়নের জন্য ৩ লাখ টাকা, একজন নার্সের ৫ লাখ টাকা এমনকি টিআইবির যে রিপোর্ট বেরিয়েছে শুনলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার নিয়োগের জন্য ব্রাউন ইনভেলাপ অর্থাৎ টাকার খাম লাগে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে নির্ধারণ হয়ে থাকে। অর্থাৎ এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে বানিজ্য নাই, ঘুষ ও অন্যায় অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা নাই। দেশে নির্বাচিত সরকার নাই বলে দেশের সর্বস্তরে আজ দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বলব, আজকে দুর্নীতি সর্বকালের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এই সরকারের সময়ে। আজকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ গত ১০ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নির্যাতন করেছে, যে চাঁদাবাজী করেছে, যে টেন্ডারবাজী করেছেন, আজকে তাদের মুখোশ খুলে গেছে। আজকে বিরোধী দল নাই। তবে এমন অবস্থা হয়েছে যে, সরকার বাধ্য হয়ে ছাত্র লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগই নয়, আওয়ামী লীগেরও যারা অপকর্মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এখানে ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেও এসব অপকর্ম যদি কেউ করে সেটাও খোঁজ খবর তিনি (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিচ্ছেন। দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ; এসবের জন্য কিন্তু অনেকেই নজরদারিতে আছেন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যত বড় রাঘব-বোয়াল, গডফাদারই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ