ঢাকা, রোববার 22 September 2019, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অবিশ্বাস্য ভয়ঙ্কর অপরাধ বাড়ছে

এইচ এম আকতার : নৈতিক অবক্ষয়ে ভয়ঙ্কর ধরনের অপরাধ বেড়েছে। অপরাধ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও সংঘটিত হবে। কিন্তু এভাবে নির্ভয়ে এতটা ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক মাত্রায় অপরাধ করতে আগে কখনও দেখা যায়নি। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্ষমতার উচ্চতর সিঁড়ির সাথে সম্পর্ক না থাকলে এভাবে অপরাধ করতে পারে না। অপরাধ যেমনই হোক কিছুই হবে না, এমন আশা না থাকলে এমন সব অপরাধ সংঘটিত হতে পারতো না। এই অবস্থায় গোটা সমাজ আজ আন্ধকারের দিকে এগুচ্ছে।  যুগ যুগ ধরেই অপরাধীর সাথে ক্ষমতার একটা নিবির সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে অপরাধ করতে আগে কখনও দেখা যায়নি। অপরাধীরা নির্ভয়ে অপরাধ করার সাহস পায়নি। সরকার অপরাধ প্রতিরোধে আইন করলেও ধরন পরিবর্তন করে অপরাধ করছে এসব চক্র। যা গোটা জাতিকে ভাবিয়ে তুলছে।
সম্প্রতি সময়ে ধর্ষণ, আত্মহত্যা, খুন, শিশুনির্যাতন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মারামারি আর হানাহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মূল্যবোধ তথা মানুষগুলোর নৈতিক অবক্ষয়। পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ঢিলে হয়ে যাওয়া এবং অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তারা।
বরগুনার রিফাত হত্যা গোটা জাতিকে হতবাক করেছে। এভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে মানুষ হত্যা কেউ আগে কোন দিন কল্পনাও করেনি। খুন করে আবারও নিজেরাই খুনের দৃশ্য সোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে। যার কোন নজির অতীতে নেই।
জানা গেছে, মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা বেড়েছে। একই সাথে অপরাধ সহনিয় ক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। অনেক অপরাধকে মানুষ যেভাবে ঘৃনা করতো এখন আর মানুষ তা করছে না। মানুষ অন্যের সম্পদ দখল করে রাতারাতি বড় হতে চায়। তুচ্ছ ঘটনায় মানুষ মানুষকে খুন করছে।
এত বড় বড় দুর্নীতি ঘটনা আগে কখনও শুনা যায়নি। এক বান টিনের দাম ৭ লাখ টাকা। অথাৎ একটি টিনের দাম এক লাখ টাকা।এটি একটি সভ্য সমাজে কিভাবে সম্ভব। এটি চিন্তাও করা যায় না। কিন্তু এরকম হাজারো ঘটনা ঘটছে।
 একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ টাকা। একটি বালিসের দাম ৬ হাজার টাকা। এমন সব আজব দুনীতি কথা মানুষ আগে চিন্তাও করেনি। কয়লা খনি থেকে লাখ লাখ টন কয়লা উধাও। অপরাধীরা নির্ভয়ে একের পর এক অপরাধ করেই চলছে। অবস্থা দেখে মনে হয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যন্ত তাদের যোগসাজস রয়েছে। তা না হলে এভাবে কেউ অপরাধ করতে পারে না। নতুন যুক্ত হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদকে জাহাঙাগীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে কমিশন আদায়। যুবলীগ নেতার ক্যাসিনো কাহিনীতে মানুষ নির্বাক। এতো সময় কাহিনীর মূলে রয়েছে মানুষের নৈতিকতার অবক্ষয়। তার সাথে রয়েছে ক্ষমতার দাপট। তার সাথে যুক্ত হয়েছে বিচারহীনতা। অবস্থা কোন উন্নতি না হলে দুর্নীতি আর লুটপাট আরও বাড়ছে।
পরিবার আমাদের সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম মূলভিত্তি। এ সময়টায় বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে পরিবারের এক সদস্যের হাতে আরেক সদস্যের খুন হওয়ার ঘটনা। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের। পারিবারিক কলহের কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। মানুষ এখন শুধু ঘরের বাইরেই নয়, তার আপনজনদের কাছেও নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী বছরে মোট হত্যাকান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ সংঘটিত হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অভাব-অনটন, অর্থের প্রতি প্রবল দুর্বলতা, চাওয়া পাওয়ার অসঙ্গতির কারণে দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্থিরতা, অন্য দেশের সংস্কৃতির আগ্রাসন, স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা, বিষণœতা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে সামাজিক অশান্তি বাড়ছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ জন। আর এর অধিকাংশই পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে।
মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল জানান, সমাজে কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম নেন না। মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ সময়ে সে পরিবেশ তার কাছের মানুষরাই তৈরি করে দেয়। কখনও কখনও সমাজে মানুষদের আচরণ, অসহযোগিতার কারণে পরিবারে, সমাজে দ্বন্ধ সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা বা মনোকষ্টে ভুগলে এসব হতে পারে। এজন্য কাউন্সিলিং দরকার।  প্রত্যেককে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ