ঢাকা, বুধবার 25 September 2019, ১০ আশ্বিন ১৪২৬, ২৫ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ক্যাসিনোসহ সকল প্রকার জুয়া সংবিধানে নিষিদ্ধ

# ক্যাসিনো বিষয়ে এখনো সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই -ওবায়দুল কাদের
# জুয়াকে সরকার আইন করে বৈধ করবে না -অর্থমন্ত্রী
মিয়া হোসেন: সম্প্রতি আধুনিক জুয়া খেলার আসর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। আটক করছে জুয়াড়ীদের এবং জব্দ করছে টাকা ও মদ। এর মধ্যেই পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারে ক্যাসিনো বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মদ পান ও বিক্রির জন্য যেভাবে সরকার অনুমোদন দিয়ে থাকে, সেভাবে ক্যাসিনোর অনুমোদনও দিতে পারে। কিন্তু সংবিধান বলছে ভিন্ন কথা। সংবিধানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূনীতিতে ক্যাসিনোসহ সকল প্রকার জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের মাধ্যমে প্রয়োজনে মদ পান ও বিক্রির অনুমোদন দেয়ার কথা সংবিধানে বলা থাকলেও জুয়ার অনুমোদনের জন্য কোন ধরনের আইন প্রণয়নের কথাও বলা নেই। এমন কী জুয়ার পক্ষে কোন ধরনের আইনও নেই। বরং জুয়া খেলা বন্ধের আইন আছে। কিন্তু পর্যটন সচিব কোনো আইনের ভিত্তিতে পর্যটকদের জন্য ক্যাসিনো বসাবেন তার কোন ব্যাখা দেননি। তবে এ বিষয়ে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ক্যাসিনো তো জুয়া, যা অবৈধ। এটা চলতেই পারে না। অবৈধ কাজকে সরকার আইন করে বৈধ করবে না। আর সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্যাসিনোর বিষয়ে সরকার এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক কক্সবাজারের বিশেষ পর্যটন এলাকায় ক্যাসিনোর বসানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ক্যাসিনো বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরকার। মালয়েশিয়াতে যেসব ক্যাসিনো আছে, সেগুলোতে পাসপোর্ট দেখিয়ে ঢুকতে হয়। আমরা তো তাদের (বিদেশি) জন্য এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। আমরা যেখানে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করব, সেখানে শুধু বিদেশিদের জন্য এসব সুযোগ-সুবিধাগুলো থাকবে।
দেশে বিদেশিদের জন্য নাইট ক্লাবও বানানো হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পর্যটন সচিব বলেন, অন্য মুসলিম দেশগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান আছে, বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ জোন হলে সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে তো অসুবিধা নাই। কক্সবাজারে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করার পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলা ও সুন্দরবনকে ঘিরে মহাপরিকল্পা করা হচ্ছে বলেও জানান সচিব।
সংবিধানের ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ অধ্যায়ে ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ অনুচ্ছেদ ১৮ তে বলা হয়েছে, “(১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”
“(২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”।
সংবিধান বিশেজ্ঞগণ বলছেন, সংবিধানের এ অনুচ্ছেদের আলোকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনের আইন করা হয়েছে। আর এ বিষয়ে আইনের কথা সংবিধানে বলা হয়েছে। কিন্তু জুয়াখেলা সর্ম্পকে কোন আইন করার কথা বলা নেই। বরং জুয়াখেলার অনুমোদন নয়, তা নিরোধের জন্য সরকার আইন করতে পারে। বর্তমানে জুয়া খেলার অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশে কোন আইন নেই। এমন কী বিদেশীদের জন্যও নয়। তবে ১৮৬৭ সালে প্রণীত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন বাংলাদেশে এখনো প্রযোজ্য। সেই আইন অনুযায়ী, যেকোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তাঁর মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই এ দেশে সব রকমের রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন।
তবে জুয়া খেলার বিপক্ষে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ক্যাসিনো তো জুয়া, যা অবৈধ। এটা চলতেই পারে না। অবৈধ কাজকে সরকার আইন করে বৈধ করবে না।
সড়ক ও সেতু পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্যাসিনো বিষয়ে এখন হাঙ্গামা চলছে। ক্যাসিনো নীতিমালার মধ্যে এনে চালু করা হবে, নাকি একেবারেই বাদ দেওয়া হবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ