ঢাকা, মঙ্গলবার 1 October 2019, ১৬ আশ্বিন ১৪২৬, ১ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ৪৬ হাজার ৪২২ কোটি টাকা আমানতের বিপরিতে ঋণ দিয়েছে ৬৯ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার ও তারল্য সংকটে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিয়ে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন সক্ষমতা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে হলুদ তালিকায় রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠান। মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সবুজ বা সবচেয়ে ভালো তালিকায়। আর নাজুক অবস্থায় থাকা এমন ১২ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘রেড জোন’ বা লাল তালিকাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। লিজিং কোম্পানি নামে পরিচিত আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ রয়েছে দুই অঙ্কের ঘরে। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রে আমানতকারীর জমানো টাকাও ফেরত দিতে পারছে না।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ‘পিপলস লিজিং কোম্পানি’ অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই প্রতিষ্ঠানে একজন অবসায়ক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই যখন পরিস্থিতি তখন ব্যাংক বহির্ভূত নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে উচ্চ সুদ দেয়ার আশ্বাস দিয়েও যেসব লিজিং কোম্পানি আমানতকারীদের সুদসহ অর্থ ফেরত দিতে পারছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সাথে যেসব অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত তাদের কিছু দিকনির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
এদিকে, ফ্ল্যাট, জমি ও বাড়ি বন্ধক রেখেই বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর বেশি ঋণ গেছে শিল্প খাতে। এরপরই বেশি ঋণ গেছে পণ্য বাণিজ্য, ভোক্তা ঋণ ও নির্মাণ খাতে। গত মার্চভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সারা দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের শাখা রয়েছে ৫৩২টি। এর মধ্যে কমপক্ষে ছয়টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহক থেকে কোনো আমানত নিতে পারে না, যাদের বলা হয় ‘নন-ডিপোজিটরি’ প্রতিষ্ঠান। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০টির মতো প্রতিষ্ঠান আছে নাজুক পরিস্থিতিতে। এর মধ্যে পিপলস লিজিংকে অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত মার্চ শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৬ হাজার ৪২২ কোটি টাকা আমানত পেয়েছে। এসব আমানত এসেছে ৩৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৯টি হিসাব থেকে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৫ জন পুরুষ নিজের নামে ও ৮৯ হাজার পুরুষ প্রতিষ্ঠানের নামে আমানত জমা রেখেছেন। আর ৮১ হাজার ৪৭ জন নারী নিজের নামে ও ২৮ হাজার ৮৬৭ জন নারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা জমা রেখেছেন। যদিও ডিসেম্বর শেষে আমানত ছিল ৪৫ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। ফলে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আমানত বেড়েছে। এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের সিংহভাগই এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে। মোট হিসাবের মধ্যে ঢাকা বিভাগের হিসাবই ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৫৪টি। ঢাকা বিভাগের জমার পরিমাণ ৪৩ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।
অপরদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গত মার্চ পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। ২ লাখ ৭৫ হাজার ১৭৬টি হিসাবের মাধ্যমে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতে গেছে ১০ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে গেছে ৫৯ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এসব ঋণ গেছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ১৭৬ হিসাবের মাধ্যমে। ঋণের বড় অংশই ঢাকা বিভাগে। আবার দেশের অর্ধেক জেলার গ্রাহকই কোনো ঋণ পাননি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঋণের ২৪ হাজার ৪১৯ কোটি টাকায় বিতরণ করা হয়েছে শিল্পের মেয়াদি ঋণ ও চলতি মূলধন হিসেবে। ১৮ হাজার ৭৯ কোটি টাকা গেছে পণ্য বাণিজ্য খাতে। ৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ঋণ গেছে আবাসন ও আবাসনসংক্রান্ত খাতে। আর ১ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা পরিবহন খাতে। এর মধ্যে সড়ক, নৌ, বিমানে তিন খাতেই অর্থায়ন করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে ঋণ দিয়েছে, তার ৪০ শতাংশ গেছে আবাসন বন্ধক রেখে, যার পরিমাণ ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে গেছে ৯ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। কোনো জামানত নেওয়া হয়নি, এমন ঋণ আছে ৪ হাজার ৪১৩ কোটি টাকার।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কিছু লিজিং কোম্পানি গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করা তো দূরের কথা মূল টাকা ফেরত দিতে পারছে না। শুধু তাই নয়, আমানত ফেরত পেতে গ্রাহকরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তাদের কাছে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। কয়েকটি অভিযোগ আবার বেশ গুরুতর। তাই এখুনি আইন ভঙ্গকারী এই লিজিং কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ আইন অনুযায়ী লিজিং ফার্মগুলো গ্রাহকদের আমানতের টাকা মুনাফাসহ ফেরত দিতে বাধ্য।
এর আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ‘বিভিন্ন লিজিং কোম্পানিতে গ্রাহকদের আমানতকৃত টাকা ফেরত প্রদান না করা/ফেরত প্রদানে নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ’ শীর্ষক একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যবসা করার লক্ষ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন লিজিং কোম্পানি গ্রাহকদের মেয়াদি আমানতের টাকা যথাসময়ে ফেরত না দেয়া বা ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভুক্তভোগি গ্রাহকগণ বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিকারের জন্য বারবার আবেদন করেছেন। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন লিজিং কোম্পানি উচ্চহারে সুদ প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদান অথবা মোবাইল এসএমএস প্রদানের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে লিজিং কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রতিকার প্রদানের স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া গ্রাহকদের মেয়াদপূর্ণ হওয়া আমানতের অর্থ সুদসহ ফেরত প্রদানের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক হয়ে পড়েছে। চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করে আসছে। এমনকি তারা গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে, যা তারা করতে পারেন না। এসব লিজিং ফার্মের বেশ কয়েকটির আর্থিক অবস্থা আবার বেশ খারাপ। তাই গ্রাহকদের বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ফাস্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়ে। এ ছাড়াও পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অ-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিআইএফসি, পিপলস লিজিং ও ফার্স্ট ফাইন্যান্সের। বিআইএফসির মোট ঋণের ৯৬ শতাংশ খেলাপি। কোনো পরিচালন আয় না থাকায় প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ছয় কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার মূলধন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিআইএফসিতে রয়েছে মাত্র ২৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে পিপলস লিজিংয়ের। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয় ৫০ কোটি টাকা। আর ফার্স্ট ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। প্রয়োজনের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মূলধন কম রয়েছে ২০ কোটি টাকা। প্রভিশন ঘাটতির কারণে জরিমানাও গুনতে হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিকে।
এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন এমডি নাম না বলা শর্তে জানান, ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে চলতি, সঞ্চয়ী, মেয়াদিসহ সব ধরনের আমানত নিতে পারে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন মাসের কম মেয়াদে কোনো আমানত নিতে পারে না। পরিচিতি কম থাকায় উচ্চ সুদ দিয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত পেতে হিমশিম খেতে হয়। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। যার বড় অংশ আসে ব্যাংক থেকে। তবে এখন ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে নতুন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখতে চাচ্ছে না। এর প্রভাবে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগের নেওয়া আমানতও ফেরত দিতে পারছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিআইএফসি, পিপলস লিজিং ও ফার্স্ট ফাইন্যান্সের। বিআইএফসির মোট ঋণের ৯৬ শতাংশ খেলাপি। কোনো পরিচালন আয় না থাকায় প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার মূলধন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিআইএফসিতে রয়েছে মাত্র ২৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া পিপলস লিজিংয়ের। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয় ৫০ কোটি টাকা। আর ফার্স্ট ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। প্রয়োজনের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মূলধন কম রয়েছে ২০ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানও এতটাই সংকটে পড়েছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) মতো টাকা নেই। যে কারণে গত বছর এক কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিজিং নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের ২৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মূলধন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ খেলাপি। সরকারি মালিকানার ইডকলের খেলাপি ঋণ ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত বছর সাড়ে ১৬ কোটি টাকা লোকসান করা প্রাইম ফাইন্যান্সের ঋণের ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ খেলাপি। ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্সের ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সের ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ ঋণ খেলাপি।
বাংলাদেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে তাদের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। নগদ অর্থের সরবরাহ চাপের মুখে থাকায় ব্যাংকগুলো এখন এই সুদের হার কমাতে পারছে না বলে জানিয়েছে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে একটি বৈঠকে এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে। আমাদের তারল্যের অভাব না থাকলেও, তারল্যের একটি বড় অংশই সরকার তুলে নিয়েছেন। যার একটা প্রভাব পড়ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ