ঢাকা, বৃহস্পতিবার 3 October 2019, ১৮ আশ্বিন ১৪২৬, ৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘোষণা অনুযায়ী বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানান, এরইমধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষে দু’একদিনের মধ্যেই রেমিট্যান্স গ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন। চলতি মাসের প্রথম ৩ মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ৪৫৫ কোটি ডলার।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেটে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো প্রবাসী বাংলাদেশীদের বৈধ চ্যানেলে পাঠানো টাকার বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়া হবে। নানা কারণে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে ঘোষণা অনুযায়ী সকল রেমিট্যান্স গ্রহণকারী এ সুবিধা পাবেন। এতে রেমিট্যান্স যিনি পাঠাচ্ছেন এবং যিনি গ্রহণ করছেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
তিনি জানান, যিনি রেমিট্যান্স তুলবেন তিনি একবারে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত তুলতে পারবেন কোনো তথ্য ছাড়াই। এই সংখ্যার চেয়ে পরিমাণে বেশি হলে পাসপোর্টের ফটোকপি কিংবা ভোটার আইডি কার্ডসহ অন্যান্য তথ্য দিতে হবে।
এদিকে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবাসীরা দেশে ৪৫৪ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৬৬৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার, আগস্টে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার এবং সেপ্টেম্বরে আসে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ বা ৬৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত সেপ্টম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই বছরের আগস্টে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে আসে ১১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৮৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলার কম।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল।
২০১৯ সালের প্রথম থেকেই বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ১৫৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে আসে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, মার্চে ১৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, মে মাসে ১৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে আসে ১৩৮ কোটি ডলার।
বছরভিত্তিক রেমিট্যান্স: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, পঞ্জিকা বছর হিসেবে ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার এবং ২০১৫ সালে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।
অন্যদিকে অর্থবছর হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬৩১ কোটি মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জিডিপিতে অবদান রেখেছে ১২ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০টি দেশ হলো- যথাক্রমে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ