ঢাকা, শুক্রবার 4 October 2019, ১৯ আশ্বিন ১৪২৬, ৪ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সিরাজগঞ্জের ১০৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবীরা পেলো সম্মাননা সনদ ও শিক্ষা বৃত্তি

বেলকুচি সংবাদদাতাঃ খাজা মোজাম্মেল হক (রঃ) ফাউন্ডেশন সিরাজগঞ্জ জেলার ১০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৭৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে সম্মাননা সনদ এবং অষ্টম ও দশম শ্রেণীর ৪৮৫ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ প্রদান করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উৎসবমুখর এ অনুষ্ঠানে জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ, সমাজের বিভিন্নস্তরের পেশাজীবি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাজা মোজাম্মেল হক্ (রঃ) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খাজা টিপু সুলতান মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বৃত্তির নগদ অর্থ ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন। এসময় তিনি বলেন,আজকের এই উপস্থিতি আসলে সিরাজগঞ্জের শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের উপস্থিতি। কেননা কেএমআরএফ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কঠিন স্কুটিনিং করে মেধা তালিকা প্রণয়ন করে।

মেধাবীদের উদ্দেশ্যে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, তোমাদেরকে অবশ্যই মেধাবী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কিন্তু তার সাথে সাথে তোমাদেরকে ভাল মানুষও হতে হবে। মিথ্যা বলা যাবে না, সত্য পথে চলতে হবে, অন্যের বৈধ স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে, ইভটিজিং করা যাবে না, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে এবং ধর্মে নিষিদ্ধ হারাম-হালাল মেনে চলতে হবে। মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেশা এমন একটি ভয়ঙ্কর ব্যাধি, যা একজন ব্যক্তিকে, একটি পরিবারকে, একটি সমাজকে, একটি দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারে। কাজেই তোমাদেরকে অবশ্যই নেশা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি নিজেদের মাঝে ধারন করতে পারো, তখনই কেবল সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, একদিন এই সিরাজগঞ্জ জেলার মেধাবীরাই দেশ এবং সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বেলকুচির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ আফসানা ইয়াসমিন, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফী উল্লাহ, বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজমুল হুদা, রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কেএমআরএফ-এর উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও পাট অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মোঃ শামসুল আলম। এরপর নানাবিধ মেধা ভিত্তিক খেলার অনুষ্ঠান “মেধায় মাতি” পর্বটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আর্কষণ। পর্বটি পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী আরমান খান। দেশের খ্যাতনামা সংগীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের সুরের মূর্ছনায় উপস্থিতি ছাত্র ছাত্রীদের আনন্দে মাতিয়ে রাখে। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত খাজা মোজাম্মেল হক (রঃ) ফাউন্ডেশন ২টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ এবং শুধুমাত্র খাজা শাহ্ ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর নেছবত ভুক্ত অসচ্ছল কর্মক্ষম ভক্তবৃন্দের মাঝে “ছাদকা-ই-জারিয়া” হিসেবে এককালীন মূলধন প্রদান করে আসছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ