ঢাকা, সোমবার 7 October 2019, ২২ আশ্বিন ১৪২৬, ৭ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

দুর্গা উৎসবের মহানবমী পূজা আজ

স্টাফ রিপোর্টার : মহাষ্টমীর লগ্ন পেরিয়ে  সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। চন্দ্রের নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে মহানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দেবীর মহানবমী পূজা হবে। নানা আচারের মধ্য দিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে যথারীতি থাকবে অঞ্জলি নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ। মূলত আজ চতুর্থ দিনই পূজার শেষ দিন। তবে বিজয়া দশমীর দিনেও বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে।
নবমী সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। মহিষাসুর নিধনের সময় দেবী দুর্গা প্রচণ্ডক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ রূপ ধারণ করেছিলেন। তাই পূজার এই আচারের সময় দেবীকে চামুন্ডা রূপে পূজা করা হয়েছে, অর্থাৎ যিনি চণ্ড ও মুণ্ডের বিনাশিনী। পূজার এই মুহূর্তটি আরও একটি কারণে স্মরণীয়। দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে শ্রীরামচন্দ্র এই মুহূর্তেই রাবণকে বধ করেছিলেন।
গতকাল ছিল মহাষ্টমী। শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন। দেবীর সন্ধিপূজা এবং কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এর আগে, সপ্তমীতে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে ভক্তদের কল্যাণ ও শান্তির আশীর্বাদ নিয়ে হিমালয় নন্দিনী দেবী দুর্গা পূজার পিঁড়িতে বসেন। অনুষ্ঠিত হয় ধূপধুনো, বেল-তুলসি, আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দনসহ ১৬টি উপাচার দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা।
পঞ্জিকা মতে, রোববার সকাল ৯টা ২৮ মিনিটের মধ্যে শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা, মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ (পঞ্চম কল্প) ও কেবল মহাষ্টমী কল্পে (ষষ্ঠ কল্প) পূজা প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হয়। আর সকাল ১০টা ৩১ মিনিট থেকে সন্ধিপূজা শুরু করে সকাল ১১টা ১৯ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা শেষ করতে হবে।
কুমারী পূজা
মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা করে তাতে জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করাই কুমারী পূজা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মা কালীর হাতে কলাসুর বধের প্রতীকী হল কুমারী পুজো। কথিত রয়েছে, কলাসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নিয়েছিল। দেবতারা মা কালীর কাছে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন। তাদের আর্তি শুনে মা কালী আবার জন্ম নেন শিশুকন্যা রূপে এবং কলাসুর বধ করেন। তাই নারীতে ‘পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন’- এ বিশ্বাস নিয়ে দুর্গোৎসবের অষ্টমী তিথিতে ‘সর্ববিদ্যাস্বরূপিনী’ কুমারী রূপে ‘দেবী দুর্গার’ বন্দনায় পূজা-অর্চণা ও আরাধনায় মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
তাদের বিশ্বাস, যে ত্রিশক্তির বলে বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের চক্রে আবর্তিত হচ্ছে, সেই শক্তি বীজ আকারে কুমারীতে নিহিত। সেই বিশ্বাস থেকেই দেবী দুর্গার কুমারীরূপের আরাধনা করেন ভক্তরা।
সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বহু বছর আগে নিজ স্ত্রী সারদা দেবীকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশের মিশন ও মঠগুলোতে চলে কুমারী পূজা। হিন্দুদের বিশ্বাস, নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বরের আরাধনাই কুমারী পূজার শিক্ষা।
সন্ধি পূজা
যুদ্ধারতা মা দুর্গা কারও সঙ্গে সন্ধি করেননি। এই মুহূর্তটি হল অষ্টমী তিথি ও নবমী তিথির মিলন সময়। যেই সময়ে দু’টি তিথির মিলন ঘটে, সেই সময়টিকে মহাসন্ধিক্ষণ বলা হয়। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিট সময়ের মধ্যে সাঙ্গ করতে হয় সন্ধি পুজো।
দুর্গাপূজায় এই সন্ধিক্ষণের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। পুরাণ অনুসারে অসুরদের সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধের সময়ে দেবী অম্বিকার কপালে থাকা তৃতীয় নেত্র থেকে দেবী কালিকা প্রকট হয়েছিলেন ঠিক এই সময়ে। আবার অন্য জায়গায় এমনও বলা হয়েছে যে, পরাক্রমী অসুর রক্তবীজের সমস্ত রক্ত এই সন্ধি মুহূর্তেই দেবী চামুন্ডা কালিকা খেয়ে ফেলেছিলেন। তাই প-িতেরা বলে থাকেন, এই সন্ধিক্ষণ চলাকালীন সময়ে মা দুর্গার অন্তর থেকে সমস্ত স্নেহ, মমতা অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই কারণেই সন্ধি পূজার সময়ে দেবীর দৃষ্টি পথ পরিষ্কার রাখা হয়, চামুন্ডা দুর্গার চোখের সামনে দাঁড়াতে নেই।
শাস্ত্রে এই সন্ধি পূজার অনেক মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। সংযমী হয়ে উপবাসী থেকে সন্ধিব্রত পালন করলে যমদুঃখ থেকে মুক্তি মেলে। অর্থাৎ মৃত্যুর সময়ে মায়ের কৃপা লাভে যম স্পর্শ করতে পারে না।
মহাষ্টমীতে দুপুরে পূজা শেষে সব মন্দিরেই অঞ্জলি প্রদান ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজাম-পে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা রকমের অনুষ্ঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ