ঢাকা, মঙ্গলবার 8 October 2019, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

তুর্কী অভিযানের মুখে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র 

৭ অক্টোবর, রয়টার্স, আল জাজিরা : সিরিয়ায় তুরস্কের অভিযান চালানোর ঘোষণার পর নিজেদের সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারাহ স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এই অভিযানে সহায়তা করবে না এবং সেখানে অবস্থানও করবে না।’

গতকাল সোমবার সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতেই তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা।  তবে এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রও তুর্কি অভিযানের সম্ভাব্যতার কথা জানিয়েছিলো। চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পর সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে তারা।

তবে মার্কিন সেনারা সিরিয়াতে অবস্থান করা এক হাজার সেনাকেই প্রত্যাহার করে নেবে নাকি শুধু উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলো থেকে সরে আসবে সেটা এখনও স্পষ্ট করে জানা যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেল আবিয়াদ ও রাস আল আইনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। অন্যান্য অঞ্চলের সেনারা এখনও তাদের অবস্থানেই রয়েছে।

সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের সাঁজোয়া যান মোতায়েনের ছবি ও ভিডিও তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ওই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরই এ প্রস্তুতি শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তুর্কি-সিরিয়া সীমান্ত এলাকার সুরক্ষায় কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে সিরিয়ার আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করছে। প্রায় ১০ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলা সিরিয়া থেকে এর আগে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

এদিকে, টুইটারে দেওয়া পোস্টে ইব্রাহিম কালিন বলেন, সীমান্ত এলাকাটিতে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া সিরীয় শরণার্থীদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে এ অভিযানের প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে শিগগিরই তুরস্ক সামরিক অভিযান চালাবে বলে জানায় হোয়াইট হাউস। রবিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি স্টিফেন গ্রিশাম এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোনালাপের পর ওই বিবৃতি দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের বিবৃতির পরই টুইটারে এ পোস্ট দেন ইব্রাহিম কালিন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে এমন বিবৃতি আসার পর অঞ্চলটির যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেননা, এতে কুর্দিদের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। দীর্ঘদিন থেকেই অঞ্চলটিতে এ বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ অভিযানে মার্কিন বাহিনীর কোনও সমর্থন বা সম্পৃক্ততা থাকবে না। ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যরা অবস্থান করবে না। স্টিফেন গ্রিশাম বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে বন্দি বিদেশি যোদ্ধাদের নিজেদের হেফাজতে নেবে তুরস্ক।

সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের সাঁজোয়া যান মোতায়েনের ছবি ও ভিডিও তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ওই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরই এ প্রস্তুতি শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তুর্কি-সিরিয়া সীমান্ত এলাকার সুরক্ষায় কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ