ঢাকা, মঙ্গলবার 8 October 2019, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সাইবার ক্রাইমের ঝুঁকিতে নারীরা

খুলনা অফিস : চলতি বছরের এপ্রিলে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে বখাটেরা। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। দীর্ঘদিনেও ওই স্কুলছাত্রী উদ্ধার হয়নি। উপরন্তু, তার ভাইয়ের স্ত্রীর নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে তার ব্যক্তিগত আপত্তিকর কিছু ছবি আপলোড করা হয়েছে। এতে হতাশা ও আতঙ্কে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগী জানায়, তার ননদের কাছে একটি মেমোরি কার্ডে তার একান্ত কিছু ছবি ছিল। ওই ছবি দিয়ে ফেসবুকে আইডি খুলে অন্য ছেলেদের সাথে অশ্লীল ‘চ্যাটিং’ করা হয়েছে, তারপর ‘স্কিন সট’ দিয়ে ওই ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছে। এর আগে ননদকে অপহরণের পর তাকে কয়েকদফা ফোনে হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। এরপরই ঘটেছে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।
এদিকে আলাদা ঘটনায় দুই মাস আগে মোবাইল ফোনে এক যুবকের সাথে পরিচয় হয় ৯ম শ্রেণিতে পড়–য়া মাদরাসা ছাত্রীর। মেসেঞ্জারে বার্তা ও মোবাইল ফোনে কথাবার্তায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে মেয়েটিকে বেড়ানোর কথা বলে নেওয়া হয় রূপসার শ্রীফলতলার একটি বাগানবাড়িতে। সেখানে গণধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি। গত ৪ অক্টোবর এ ঘটনায় রূপসা থানায় মামলা হয়েছে।
জানা যায়, খুলনায় দিন দিন এভাবে বেড়েই চলছে সাইবার ক্রাইম। অনিরাপদ হয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার। ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালানো, ছবি বিকৃতি এবং হুমকিমূলক বার্তা দিয়ে নারীদের হয়রানি করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের খুলনা চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক জুবাইয়া নওশিন বলেন, এ ধরনের অপরাধের সবচেয়ে বড় শিকার হয় মেয়েরা। আইডি হ্যাক থেকে শুরু করে সুপার ইম্পোজ ছবি ও পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে। এতে নারীরা একদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তেমনি ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির কারণে তাদের ব্যক্তিগত জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোন মেরামত, হারানো ও পুরনো ফোন কেনাবেচা করতে গিয়েও ছড়িয়ে পড়ছে ব্যক্তিগত গোপনীয় অনেক ছবি ও ভিডিও।
এদিকে খুলনায় নিয়ন্ত্রণহীন সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। এর মধ্যে সাইবার ক্রাইমে জড়িত ২৫/৩০ জনের একটি গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট ফেসবুকে কুৎসা রটনার অভিযোগে জিটিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় শাহীন রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিক ও সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুৎসা রটনা করছিলেন। এর আগে সোনাডাঙ্গা এলাকায় নগ্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর নিকট থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় ছোট বয়রা এলাকা থেকে আব্দুল মুনিম ও তার স্ত্রী তানজিলা হাসান ঝুমাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ইন্টারনেটে পাঠানো কাগজপত্রের ৪০ পাতা ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, সাইবার ক্রাইম দমনে বৃহৎ পরিসরে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। তবে ফেসবুকে ব্যক্তিগত নানারকম তথ্য দেওয়া থাকে। সাইবার অপরাধীরা এসব তথ্য ব্যবহার করে অপকর্ম করতে পারে। তাই নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরি।
এদিকে এ অপরাধ বন্ধে সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সেমিনার ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে প্রশাসন। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, সাইবার অপরাধের একটি বড় মাধ্যম হলো স্মার্টফোন। তাই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও প্রশাসনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে সাইবার ক্রাইম দমনে প্রশাসনের শক্ত ভূমিকা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ