ঢাকা, মঙ্গলবার 8 October 2019, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

খুলনাঞ্চলে পেঁয়াজের ঝাঁজে এখনও দিশেহারা ক্রেতারা

খুলনা অফিস : হিলি বর্ডার থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের বাজারে অস্থিরতা কাটেনি। এ অবস্থায় খুচরা বাজারে গত কয়েকদিন আগে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠলে বর্তমানে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পণ্যটি কিনতে গিয়ে এর ঝাঁজে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। শনিবার নগরীর রেলস্টেশন কদমতলাস্থ পেঁয়াজের আড়তে পাইকারি কেজিতে ৭০-৭৫ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একেক আড়তে দাম একেক রকম লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
মেসার্স তাজ ট্রেডিং এর কর্মচারী মো. আলতাফ হোসেন জানান, শনিবার পেঁয়াজ (এলসি) পুরাতন পাইকারি কেজিতে ৬৫ টাকা এবং নতুন পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ উন্নমানের ৭৫ টাকা এবং মাঝারিটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। তিনি বলেন, ৪ অক্টোবর কেজিতে এর চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা আমদানিকৃত পেঁয়াজ হিলি বন্দর থেকে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সে হিসেবে আগামী ২-১ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এই পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের দাম একেক আড়তে একক রকমের মূল্য লক্ষ্য করা গেছে।
মেসার্স সুমন ট্রেডিং এর প্রোপাইটার মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তার আড়ত থেকে দেশি পেঁয়াজ প্রকারভেদে পাইকারিতে কেজিতে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে একটু উন্নতমানের পেঁয়াজ ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এলসিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা। বৃহস্পতিবারও একই দামে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা কমে গেছে। আগামীতে আরও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মেসার্স কেবি ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলসিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায় ৫৫-৫৭ টাকায়। প্রোপাইটার মো. কবির শেখ জানান, ২-১ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। নগরীর সন্ধ্যা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা এবং এলসিকৃত পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। খুচরা বিক্রেতা মো. হুমায়ুন কবির জানান, পেঁয়াজের আড়ত থেকে পাইকারি কেজিতে দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা এবং এলসিকৃত পেঁয়াজ ৭৫ টাকায় কিনে এনেছি। পাড়া মহল্লায় দোকানগুলোতে দেশীয় পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকায় এখনও বিক্রি হচ্ছে। মুদী দোকানদার সোহরাব হোসেন বলেন, যে দামে কিনে আনছি তার থেকে কেজিতে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করছি বলে তিনি দাবি করেন।
সাধারণ ক্রেতা মো. হাফিজুর রহমান জানান, এবার পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ভারতীয় পেঁয়াজ সরবরাহে ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। তা যদি সত্যি হয়, তাহলে শুধু ভারতীয় পেঁয়াজের দামই বাড়বে। দেশি পেঁয়াজের দামে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। কিন্তু বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম যখন বেড়েছে তখন ধরেই নিতে হবে, বাজার সিন্ডিকেট অনৈতিক মুনাফা অর্জনে আবার সক্রিয়। সন্ধ্যা বাজারে অপর ক্রেতা মো. মাহুমুদুল শেখ জানান, দাম বাড়ানোর যে প্রবণতা বাজারে শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ প্রবণতা রোধ করতে হলে একটি স্থায়ী বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থায়ী বাজার গড়ে তোলা গেলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তোলার সুযোগ পাবে না। এ জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গত কয়েকদিনে অতিরিক্ত মুনাফা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করায় গত দুই দিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকায় কমে এসেছে। তাদের অভিযান অব্যাহত থাকলে পেঁয়াজের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ