ঢাকা, মঙ্গলবার 8 October 2019, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

লালমনিরহাটে রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : লালমনিরহাটে আদিতমারী উপজেলার ফারুক মিয়া (২৯) নামে এক রোগীর অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখেই সেলাই দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোসিস সেন্টারের বিরুদ্ধে। গত সোমবার বিকালে ওই রোগীকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে রংপুরের পারফেক্ট ক্লিনিকে দ্বিতীয় অপারেশনে গজ বের করে ২০দিন পর গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর) ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন রোগী ফারুক মিয়া। ফারুক উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মান্নানের চৌপতি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে। রোগী ফারুক মিয়া ও স্থানীয়রা জানান, গত ঈদুল আজহার দেড় সপ্তাহ পরে পেটে ব্যাথা অনুভব হলে লালমনিরহাট শহরের নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোসিস সেন্টারে ভর্তি হন ব্যবসায়ী ফারুক। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, এপেন্টিসাইডের অপারেশন করতে হবে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের পরামর্শে ডা. ভোলানাথ বর্ম্মনের তত্ত্বাবধানে অপারেশন করে চারদিনে ১৮ হাজার ৫শ টাকা বিল দিয়ে চলে আসেন তিনি।
কয়েকদিন পর পুনরায় সমস্যা দেখা দেয়ায় ওই ক্লিনিকের স্বরণাপন্ন হলে তারা ক্ষতস্থান পরিস্কার করে নতুন চিকিৎসাপত্র দেন। কিন্তু এতেও সুস্থ না হয়ে উল্টো শরীরের সমস্যা বেড়ে গেলে ফারুককে তার পরিবার রংপুর শহরের পারফেক্ট ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে ডা. সাহেব আলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, পেটে কোনো বস্তু রয়েছে যা পুনরায় অপারেশন করে বের করতে হবে। সেই চিকিৎসকের পরামর্শে দ্বিতীয় বারের মত অপারেশন করে বের করা হয় গজ-ব্যান্ডেজ। সেখানে ২০দিন চিকিৎসা শেষে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করে সুস্থ্য হয়ে শুক্রবার বাড়ি ফেরেন ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া। পরে এ বিষয়ে ক্ষতিপূরণ ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার বিকালে ওই নিরাময় ক্লিনিকে যান ক্ষতিগ্রস্ত রোগী ফারুক মিয়া। বিষয়টি জানতে পেরে ক্লিনিকের মালিক শামছুল আলম রোগী ফারুককে কৌশলে ডেকে নিয়ে দিনভর আপস করার চেষ্টা চালান। লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ