ঢাকা, মঙ্গলবার 8 October 2019, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলার অভিযোগ 

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এবার মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নবীদুল ইসলাম। নিজেদের পারিবারিক একটি মারপিটের ঘটনার ১৫ দিন পরে নিজের ভাই আব্দুল মালেককে বাদী করে ২ সেপ্টম্বর কামারখন্দ থানায় এ মামলাটি করা হয়। এ মামলায় প্রতিবেশী মুলিবাড়ী গ্রামের হাজী মজনু শেখকে শক্রতা বশত: মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে। রোববার সরেজমিনে মারপিটের ঘটনাস্থল কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চৈরগাঁতী গ্রামে গিয়ে ওই মামলার আসামীদের স্বজন, স্বাক্ষী ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান সাক্ষী আব্দুল মালেকের শ্যালক মো: টিটু জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমাদের মামাতো-ফুফাতো ভাইদের মধ্যে দ্বন্ধ চলছে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টার দিকে আমার ভগ্নিপতি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলামের বড় ভাই আব্দুল মালেক আমাদের বাড়িতে আসে। এসময় প্রতিপক্ষ ফুফাতো ভাইদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সে ভ্যানযোগে বাড়িতে চলে যাবার সময় ফুফাতো ভাই শামীম ও তার চাচাতো ভাই আলম, ফুফা মোকাদ্দেস ও তার ভাই আলী আশরাফ আমার ভগ্নিপতি মালেককে মারপিট করে। মালেককে বহনকারী ভ্যান চালক জহুরুল ইসলাম বলেন, মালেককে আমার ভ্যানে করে নিয়ে যাবার সময় শামীম ও আলমসহ কয়েকজন তাকে মারপিট করে। ওই সময় ঘটনাস্থলে মজনু নামের কেউ আশপাশে ছিল না। মারপিটের ঘটনার পর থেকে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মামলার ২ ও ৩ নং আসামী শামীম ও আলম। সরজমিনে গেলে শামীমের মা লিলি বেগম ও আলমের মা আলো বেগম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে। আব্দুল মালেক আমাদের পরিবারের জামাই। সে বিষয়টির সমাধা না করে উপরন্ত শ্যালকের পক্ষ নিয়ে আমাদের ছেলেদের মারপিট করেছে। এরপর সে বাড়ি যাবার সময় আমাদের ছেলেরাও তাকে মারপিট করেছে। মামলার প্রধান আসামী হাজী মজনু ঘটনাস্থলে ছিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা দুজনই বলেন, মজনু নামে আমরা কাউকে চিনি না। শুনেছি নবীদুল চেয়ারম্যানের সাথে মজনু’র দ্বন্দ্ব আছে। এ জন্যই মামলায় তাকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামী হাজী মজনু সেখ বলেন, চেয়ারম্যানের গো-খামারের বর্জ্য সয়লাব হয়ে যাওয়ায় আমাদের অন্তত: ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষের চলাচলে রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্জ্য অপসারনের দাবী করলে চেয়ারম্যান আমাদের উপরে ক্ষিপ্ত ছিল। যে কারণে আমাকে ফাঁসাতে তার ভাইকে বাদী করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজনসহ আমাকে প্রাণনাশের হমকি দেয়ায় আমি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় সাধারন ডাইরি করেছি। এ বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুল মালেক মোবাইলে জানান, ভ্যানে করে আসার সময় আচমকা আমার মাথায় আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে শুনেছি ঘটনাস্থলে মজনু ছিল এবং তার সাহসেই আমার উপরে হামলা হয়েছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম মোবাইলে জানান, সত্য কখনও চাপা থাকে না। মামলার তদন্তেই প্রমান হবে মজনু ঘটনাস্থলে ছিল কি না। এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, মারপিটের ঘটনায় ২ অক্টোবর ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ