ঢাকা, মঙ্গলবার 8 October 2019, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

স্বপ্নের মৃত্যুকে হাসিমুখে আলিঙ্গন

শবনম নাহার শুভ্রা : ॥ পূর্বপ্রকাশিতের পর ॥
পাঁচ.
রাহাতের বাবা-মা দু’জনেই অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। রাহাত নিজের রুমে গিয়ে ইনটেক সিমফোনি ব্র্যান্ডের মোবাইলটির মোড়ক খুলে অন করলো। রাহাত তাৎক্ষণিক রিফাতকে ফোন দিয়ে খুশির খবরটি দিল।
রাহাত-দোস্ত... আমি কিন্তু ফোন কিনেছি।
রিফাত-ও তাই.... গ্র্যাট। ট্রিট কখন দিবি।
রাহাত-কালকে কোচিংয়ে এসে প্ল্যান করবো। ঠিক আছে।
রিফাত-ঠিক আছে।
রাতে রাহাতের চোখে ঘুম নেই। পড়ার টেবিলেও আর বসা হয়নি। মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকলেন। নাড়াচাড়া করে দেখছেন। নিজেই নিজের সেলফি তুলছে। ঘুমও আসছে না। অবশেষে কখন ঘুমিয়ে পড়লেন বুঝতেও পারেনি। অনেক রাতে ঘুমানোর পরও খুব সকালেই আবার রাহাতের ঘুম ভেঙ্গে যায়। হঠাৎ মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে রাহাতও নিজেকে বেশ স্মার্ট ভাবছে।
রাহাত কোচিংয়ে আসার পর দূরন্ত ব্যাচের সকলকে নতুন নম্বরটি দিল এবং অন্যদের নম্বরও নিজের স্মার্ট ফোনে সেভ করে রাখলো। কোচিংয়ের ক্লাশ শেষ করে কলেজের পাশের ক্যাফেটিরয়াতে সকলকে নিয়ে চিকেন ফ্রাই খেলেন রাহাত। বন্ধুরা মিলে খাবার বিল পরিশোধ করলেন। অনেকদিন পর রাহাতের মোবাইল কেনার বদৌলতে অনেক আড্ডা দিলেন দূরন্ত ব্যাচের সবাই।
সুপ্তি ইতিমধ্যে রাহাতকে স্মার্ট ইংলিশ বয় বলা শুরু করে দিয়েছে। সুপ্তিও রাহাতকে পছন্দ করতে শুরু করে দিয়েছে। রাহাতের মোবাইল ফোন নিয়ে রিফাত প্লে স্টোর থেকে ভাইবার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জোর ও ফেসবুক অ্যাপগুলো ইনস্টল করে দিয়েছে। রাহাত ফেসবুকের পূর্বের ক্রিয়েট করা আইডি টি নতুন স্মার্ট ফোনে সচলও করেছে। রিফাত রাহাতকে দূরন্ত গ্রুপে এড করে নিয়েছে। রিফাতও বন্ধুদের সাথে ফেসবুকে এড হয়ে গেছে। একজন অন্যজনের ফ্রেন্ডলিস্টের রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছে। স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে নতুন ভুবনে রাহাতেরপদার্পন।
রাহাতের হাতে মোবাইল আসার পর থেকে রাহাত আর সুপ্তির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। কে কোথায় কি করছে, কি খাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে আপডেট যতো ইনফো আছে একে অপরকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে জানাচ্ছে। এভাবে রাহাত ও সুপ্তির সম্পর্কটা আরও গতিশীল হচ্ছে। সুপ্তি রাহাতকে বেশ পছন্দ করে। ভাল লাগা থেকে ভালবাসা।
সুপ্তিই প্রথম তার ভাললাগার কথা রাহাতকে জানিয়েছে। রাহাত প্রথমে সাড়া না দিলেও পরবর্তীতে সুপ্তির ভালবাসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেনি। ইদানিং সময় পেলেই কোচিং শেষ করে কলেজ ফাঁকি দিয়ে হাতিরঝিলের ফুড কোর্টে প্রায়ই ঘন্টার পর ঘন্টা দু’জন দুজনের হাত ধরে ও চোখে চোখ রেখে সময় পার করে দেয়। কখনো লেক পারে হাটাহাটি। কখনো যমুনা ফিউচার পার্কের সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখে সময় কাটায় রাহাত ও সুপ্তি। শহরের বৃহত্তম শপিং কমপ্লেক্স যমুনা ফিউচার পার্কে প্রায়ই রাহাতকে নিয়ে সুপ্তি চলে আসে। অঢেল সম্পত্তির মালিক সোবহান সাহেবের একমাত্র মেয়ে সুপ্তি। সুপ্তি বাবার দেয়া ২০১৮ অডিএ৩ লেটেস্ট মডেলের কালো রঙের একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করে। রাহাত ও সুপ্তি প্রায়ই এই গাড়িতে করে শহরের এক প্রাপ্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটে বেড়ায়। যখন যা আবদার করেন বাবা হিসেবে সোবহান সাহেব না করতে পারে না। এরই মধ্যে রাহাতকে সুপ্তি অনেক উপহার দিয়েছে। রাহাতও সুপ্তিকে গিফট করেছে। একজন অন্যজনের গিফটগুলো খুব যতœ করে নিজের বাসার সোকেছে সাজিয়ে রেখেছে। সুপ্তির দেয়া নিবোসি ১৯৮৫ ব্র্যান্ডের ওয়াটার প্রোটেক্ট ঘড়িটি এখন রাহাতের নিত্যসঙ্গী।
ছয়.
রাহাতের বাবা-মা বেশ কিছুদিন রাহাতকে পর্যবেক্ষণ করছেন। মোবাইল কিনে দেয়ার পর থেকে রাহাত তার দীর্ঘদিনের রুটিন মাফিক নিজেকে পরিচালিত করতে পারছে না। ঠিকমতো বাসায় খাওয়া দাওয়া করছে না। সময় মতো বাসায় ফিরছে না। সময়মতো ঘুমাচ্ছে না। আগের মতো পড়াশোনার প্রতিও কোন খেয়াল নেই। নামাজেও অমনোযোগী। সারাক্ষণ স্মার্ট ফোন নিয়ে দিন পার করছে। যেখানে আগে কখনো রাহাত তারা দরজা লক করে রাখতেন না। বেশ কিছুদিন হলো রাহাত বাসায় ফিরে নিজ রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে সারাক্ষণ ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে। এ ধরনের দৃশ্য রাহাতের বাবা-মা অপছন্দ করতে লাগলেন।
একদিন রাহাতের বাবা-মা রাহাতকে নিয়ে বসলেন। এবং বললেন রাহাত সামনে তোমার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা তুমি যেভাবে সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকছো, পড়াশোনার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েছো। এতে করে তো তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে না। রাহাতের বাবা আইয়ুব সাহেব রাহাতকে মোটিভেট করতে লাগলেন। রাহাতের মাও ছেলেকে তার ভবিষ্যত জীবনের কথা মনে করিয়ে দিলেন। রাহাত বাব-মায়ের কথা শুনে নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। রাহাত বাবা মায়ের কাছে বললেন আজ থেকে আর এরকম হবে না। আইয়ুব-শামসাদ দম্পত্তিকে ছেলে কে বুঝিয়ে নিজেদের ঘরে চলে গেলেন।
রাহাতও বাবা মায়ের অনুগত ছেলে হিসেবে পড়ার টেবিলে নিজেকে আবিস্কার করার চেষ্টা করলেন। আজ অনেকক্ষণ ধরে পড়াশোনা করলো রাহাত। পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুতে গেলো রাহাত। এ পাশ ওপাশ করে ঘুমানোর চেষ্টা করে বিফল হলো রাহাত। রাহাত তার স্মার্ট ফোনটি হাতের কাছে নিয়ে দীর্ঘক্ষণপর নিজস্ব ফেসবুক আইাডতে প্রবেশ করলো। রাহাত ফেসবুকের নোটিফিকেশনগুলো চেক করতে লাগলো। একটা নোটিফিকেশন রাহাতকে চমকিয়ে দিলো। সেটি হলো আজ সুপ্তির জন্মদিন। রাহাত সুপ্তির জন্মদিন উপলক্ষে উইশ করতে ভুল করলো না। সাথে সাথে সুপ্তিকে একটি আবেগমিশ্রিত মেসেজ সেন্ড করলো। সুপ্তিও রাহাতকে উইশ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানালো।
প্রথম উইশটিই করেছে রাহাত। সুপ্তি তো অবাক রাহাত কিভাবে জানলো আজকে আমার জন্মদিন। সুপ্তি অনেক বেশি স্মার্ট হওয়া সত্বেও জানত না যে, ফেসবুক আইডি খুলার সময় তার যে জন্মতারিখটি দেয়া হয়েছিল তার মাধ্যমেই ফ্রেন্ডলিস্টে যারা থাকে তারা সহজেই প্রত্যেকের জন্মদিনটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারে। যাই হোক সুপ্তি বুঝতে পারলো রাহাত তাকে অনেক ভালবাসে। না হলে এতো রাত পর্যন্ত কেউ জেগে থাকে কাউকে উইশ করার জন্য। সুপ্তি রাহাতকে মেসেজ করলো আগামীকাল দু’জনে চন্দ্রিমা উদ্যানে ঘুরতে যাবে। এক সাথে দুপুরের খাবার খাবে। রাহাতও সুপ্তির কথায় সায় দিল।
রাহাত আর সুপ্তি জাতীয় সংসদ ভবনের পাশেই যে উদ্যান রয়েছে সেখানে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসেছে। দীর্ঘক্ষণ রাহাত ও সুপ্তি এখানে গল্প গুজব করে। ফার্মগেটের একটি রেস্তোরায় দুপুরের খাবার শেষ করে। বিকেলে হাতিরঝিলে এসে অনেক সময় দু’জন এক সাথে কাটায়। সারাদিন দু’জনে হই হুল্লোর করে কাটিয়ে বাসায় ফিরে।
সুপ্তি বাসায় ফিরে দেখে তার ফুফাতো ভাই রিশান এসেছে। দীর্ঘক্ষণ হলো সুপ্তির জন্য অপেক্ষা করছে। রিশান সুপ্তিকে দেখে চিৎকার করে উঠে হ্যাপি বার্থ ডে সুপ্তি। সুপ্তি তো আকাশ থেকে পড়লো। এত্তো চিৎকার করতে হয় নাকি। রিশান নিজেকে সামলে নিয়ে বললো সুদূর লন্ডন থেকে এসেছি শুধু তোকে সারপ্রাইজড দেয়ার জন্য আর তুই আমার সাথে এভাবে রিয়্যাক্ট করলি।
সুপ্তি-স্যরি ভাইয়া। তুমি শুধু আমাকে উইশ করতে এসেছো না অন্য কিছু। কি মতলব খুলে বলবে-সুপ্তি বললো। রিশান রাখডাক না করে বলে ফেললো মতলব হচ্ছো আমি তোকে লন্ডন নিয়ে যেতে এসেছি। সুপ্তি বললো কিভাবে সম্ভব।
সুপ্তির মা আয়েশা মীরাও ততক্ষণে ড্রইং রুমে এসে হাজির। কিরে সুপ্তি সারাদিন কোথায় ছিল। রিশান সেই লন্ডন থেকে তোর জন্য এসে বসে আছে আর তোর কোনো খবর নাই।
সুপ্তি-আমাকে কি ভাইয়া জানিয়েছে সে আসবে দেশে।
আয়েশা মীরা-রিশান তোকে শুধু সারপ্রাইজড দেয়ার জন্যই এসেছে। যাকগে ওসব বাদ। তুই দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আমার রুমে চলে আসবি। তোর সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
সুপ্তি-ঠিক আছে মা। সুপ্তি সোজা তার রুমে চলে। সুপ্তির চলে যাওয়া পিছন থেকে দেখতে থাকে অপলক নয়ন রিশান। সুপ্তি সারাদিনের ঘুরে বেড়ানোর ফলে বেশ ক্লান্ত। তাই বাথরুমে ঢুকে দীর্ঘসময় নিয়ে গোসল করলো। গোসল সেরে স্কার্ট ও টপ পড়ে সোজা মায়ের রুমে যায়।
আয়েশা মীর- সুপ্তি... মা আমার। তুই আমাদের একমাত্র মেয়ে। আমরা তোকে অনেক ভালবাসি। আমাদের ইচ্ছে সারাজীবন তুই আমাদের সাথে থাকবি।  কিন্তু........
সুপ্তি-হ্যা থাকবই তো। আমি কোথাও যাচ্ছি নাকি! আমি তো তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। আর আমি আব্বু আম্মুকে ছাড়া থাকতেও পারবো না।
আয়েশা মীরা- মেয়ে কে বললো। সুপ্তি আমরা তোর বিয়ে দিতে যাচ্ছি। কালই তোর বিয়ে। অনেকদিন আগেই তোর ফুপুকে আমরা কথা দিয়েছি। রিশান এমবিএ শেষ করার পরই তোর সাথে বিয়ে হবে। রিশান অনেক ভাল ছেলে। তাছাড়া রিশান ইউরোপে থাকে সেখানকার পাসপোর্টধারী। বিয়ের পর তুইও রিশানের সাথে লন্ডনে চলে যাবি। সেখানে অনেক সুখে শান্তিতে থাকবি। এক নিঃশ্বাসেই প্রায় কথাগুলো বললো সুপ্তির মা।
সুপ্তি-মায়ের কথা শুনে অবাক হয়! মা আমাকে তোমরা এতোদিন এগুলো বলোনি কেন? আমি তো রাহাতকে ভালবাসি। আমি রাহাতকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। তুমরা রিশান ভাইয়াকে অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। সুপ্তি কিছুতেই মা কে তার ভালবাসার কথা বুঝাতে পারলো না।
উল্টো সুপ্তির মা আয়েশা মীরা বললেন-সুপ্তি রাহাত সবে মাত্র প্রথম বর্ষের ছাত্র। রাহাতের জন্য তোমার অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। রাহাতের সাথে তোমাকে বিয়ে দিতে হলো তোমাকে আরও অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমরা সেটা করতে পারবো না। তাছাড়া তুমি তো জানো তোমার বাবা হার্টের পেশেন্ট। ইতিমধ্যে তার  হার্টে ২টি রিং পড়ানো হয়েছে। এ মুহুর্তে তুমি যদি পাগলামি করো তাহলে তুমি আমাদেরকে হারাবে। আমরা তোমার ফুপুকে কথা দিয়েছি। আমরা চাই না তোমার ফুপুর আত্মা কষ্ট পাক।
সুপ্তি মা কে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে নিজের রুমে চলে গেলেন। সুপ্তি অনেক কান্নাকাটি করলো। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কি করবে। একদিকে বাবা মা অন্যদিকে রাহাতের ভালবাসা। রাহাতকে সুপ্তি কিভাবে বলবে যে, সে আর তার রিলেশন কনটিনিউট করতে পারবে না। সুপ্তি বাবা মায়ের কথা চিন্তা করে। রাহাতকে ফোন দিল।
সুপ্তি- হ্যালো রাহাত?
রাহাত-হুম... সুপ্তি বলো। কি হয়েছে। এতো রাতে!
সুপ্তি-তোমার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার আছে। আমি আর.....
রাহাত-কি? তুমি আর কি?
সুপ্তি-আমি আর তোমার সাথে দেখা করতে পারবো না। আগামীকাল আমার ফুফাতো ভাই রিশানের সাথে আমার বিয়ে। তুমি পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। স্যরি রাহাত।
রাহাত-সুপ্তির কথা শুনার পর চিৎকার করে উঠে। রাহাতের চিৎকারে বাসার সবাই রাহাতের ঘরে চলে আসে। রাহাতের বাবা মা দুজনে রাহাতকে বললো কি হয়েছে রাহাত.... কার সাথে চিৎকার করছিস। রাহাত মনের ক্ষোভে দুঃখে নিজের কথাগুলো সুপ্তিকে বলতে থাকে। বাবা-মায়ের দিকে রাহাতের কোন খেয়লা নাই। রাহাতের বাবা মা বুঝতে পারলো ছেলে কাউকে ভালবাসে, মেয়েটির সাথে ব্রেকআপ হয়েছে.....
রাহাতের বাবা আইয়ুব সাহেব রাহাতকে বুঝাতে চেষ্টা করেন। রাহাত তুমি তোমার ক্যরিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করো। নিজের স্বপ্ন পূরণ করো দেখবে সুপ্তির চেয়েও সুন্দরী হাজারও মেয়ে তোমার পিছনে ঘুর ঘুর করবে। কিন্তু নাছোড়বান্দা রাহাত। সুপ্তিকে ছাড়া কাউকে সে ভালবাসতে পারে না। সুপ্তিই তার প্রথম সুপ্তিই তার শেষ।
সাত.
রাহাতের বাবা-মা শত বুঝানোর চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হলেন। তখন রাগে ক্ষোভে ছেলেকে বাবা একটু শাসন করলেন। মোবাইলটি কেড়ে নিলেন। বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলেন। এভাবে প্রায় ছ’মাস সময় রাহাত তার জীবনের সবচেয়ে এলোমেলো সময় পার করতে লাগলো। ছেলের এ অবস্থা দেখে বাবা-মা উভয়ই ভেঙে পড়লেন। ছেলেকে পুনরায় বুঝানোর চেষ্টা করলেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অনুরোধ রাখলেন। সব কিছু ভুলে নতুন করে নিজেকে নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিলেন।
রাহাত সুপ্তিকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছে না। অথচ সুপ্তি তার স্বামী রিশানকে নিয়ে লন্ডন পারি জমিয়েছে। লন্ডনের দর্শনীয় স্থান টেমস নদীর তীর, টাওয়ার অফ লন্ডন, বাকিংহাম প্যালেস, ব্রিটিশ মিউজিয়াম ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর নতুন জীবনকে উপভোগ করছেন। অনাগত সুন্দর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছেন সুপ্তি আর রিশান। মাঝে মাঝে রাহাতের কথা সুপ্তির মনে হয়। কিন্তু পরক্ষনই ভাবেন অতীত ভেবে লাভ কি। বরং সামনের দিকে অগ্রসর হওয়াটাই তার জন্য বেটার। এভাবেই সুপ্তি তার দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়.....
অন্যদিকে রাহাত তার স্বপ্নকে ভুলে গেছে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের যে আকাঙ্খা রাহাতের মাঝে ছিল, তা হারিয়ে ফেলেছে। রাহাত তার স্বপ্নকে কুরবানি দিয়েছে। সিগারেটের জ¦লন্ত ধোঁয়া পান করে নিজেকে পোড়াচ্ছে। নিকোটিনের বর্জ্যগুলো রাহাতের শরীরের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে বাসা বাঁধছে।
সোস্যাল মিডিয়া, স্মার্ট মোবাইল ফোন, বর্তমান সময়ে ছেলে মেয়েদের অবাধ মেলামেশা, অবুঝ ভালবাসা আদান প্রদানের ফলে রাহাতের মতো হাজারও আবেগপ্রবণ সম্ভাবনাময় অভিমানী যুবক হয় পড়ছে লক্ষ্যভ্রষ্ট। চোখের সামনেই রাহাতের বাবা-মায়ের মতো হাজারও পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যুকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতে হচ্ছে। (সমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ