ঢাকা, বুধবার 9 October 2019, ২৪ আশ্বিন ১৪২৬, ৯ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

‘আওয়ামী সরকারের মাটি বিক্রি পানি বিক্রি দেশ বিক্রির বিরুদ্ধে সকলকে লড়াই করতে হবে’ -বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: দেশজুড়ে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের রক্তের হোলিখেলার উৎসব চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই মৃত্যু উপত্যকাকে শান্তিময় করতে রাজপথে এখনই নেমে আসতে হবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে। এসময় তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধে, দেশের মাটি, পানি রক্ষার যুদ্ধে প্রথম শহীদ আবরার ফাহাদ। ফেনী নদীর নাম হোক-‘আবরার নদ’। ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের মাটি বিক্রি, পানি বিক্রি, দেশ বিক্রির নষ্ট বুদ্ধির বিরুদ্ধে সকলকে লড়াই করতে হবে। ক্ষমতাসীনদের মূঢ় অহমিকার বিরুদ্ধে সকলকে প্রতিরোধে সামিল হতে হবে। আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তির বিষয়ে কথা বলায় আবরারকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, নারকীয় কায়দায় রাতভর নির্যাতন চালিয়ে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা খুন করেছে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর মাধ্যমে ছাত্রলীগ প্রমাণ করেছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ছাত্রলীগের খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ নামক এই দানব জঙ্গী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরবে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে আর কোনো মায়ের কোল শূন্য না হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তির প্রতিবাদে ধাপে ধাপে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজপথে কর্মসূচি দেয়া হবে।
রিজভী বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে চকবাজার থানায় যে মামলা হয়েছে সেখানে আসামী হিসেবে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে ১৯ জনের মধ্যে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের নাম নেই। শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম তথা টর্চার সেলটি কার? তাকে বাঁচাতে বুয়েট প্রশাসন উঠেপড়ে লেগেছে। নির্লজ্জ বুয়েট প্রশাসন এই হত্যাকান্ডকে সামান্য অনাকাংখিত মৃত্যু বলে বিবৃতি দিয়েছে। তারা খুনিদের আড়াল করতে সিসিটিভিতে ধারণকৃত ২০ মিনিটের ভিডিও এডিট করে মাত্র দেড় মিনিটের একটি ক্লিপ দিয়েছে আন্দোলনরত ছাত্রদের। সারাদেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠেছে। আবরারের খুনীদের বিচারের দাবীতে ছাত্রদের আন্দোলন এখন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। দেশের সাধারণ ছাত্রসমাজের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবান- এই মৃত্যু উপত্যাকাকে শান্তিময় করতে রাজপথে এখনই নেমে আসতে হবে।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নৃশংস ও পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করেছে। দেশজুড়ে এখন চলছে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের রক্তের হোলিখেলার উৎসব। প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে কাপুরোষোচিতের মতো বীরদর্পে কুপিয়ে নিরীহ গরীব পোশাক শ্রমিক বিশ্বজিৎকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে আরও বেপরোয়া হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের চুক্তির অসঙ্গতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর ছাত্র আবরার ফাহাদকে খুন করা হয়েছে। আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সারা জাতি স্তব্ধ ও বিমূঢ় হয়ে পড়েছে। এই অমানবিক নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে জীবন দিতে হলো কারণ এদেশের ষোল কোটি মানুষকে অন্ধকারে রেখে পাশ্ববর্তী দেশের সাথে চুক্তি করার ঘটনায় প্রতিবাদ করার জন্য। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী বলেছে-আবরার হত্যার দায় ছাত্রলীগের নয়। সেটা আমরাও বলি। প্রকৃত অর্থে এটার দায় তাদের যারা তাদেরকে দানব বানিয়েছে এবং দানব হওয়ার সুযোগ দিয়ে ব্যবহার করেছে ও করছেন বিরোধী শক্তিকে রক্তাক্ত করতে এবং ভোটারদের ভোট কেড়ে নিতে। বাস পোড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে যদি বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে মামলা হয় তবে আবরার হত্যার জন্য ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ নেতাদের নামে মামলা হবে কি না তা জাতি জানতে চায়।
রিজভী বলেন, আবরার সত্য তথ্য উল্লেখ করে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছিল, সেই পোষ্টে ঐসব চুক্তির অসঙ্গতি তুলে ধরেছিল, এজন্য তাকে জীবন দিতে হলো। এটা কোন দেশ? খুনীদের সরকারী দলের তকমা থাকলেই তারা দেশটাকে অভয়ারণ্য বানিয়ে ছাড়ে। আর তাই নির্ভয়ে তারা বিরোধী মত, পথের মানুষদে অবলীলায় হত্যা করতে দ্বিধা করে না। যেদেশে দিনের বেলায় নির্বাচন হয় না, রাতের বেলায় নির্বাচন হয় সেই দেশের সরকার তো জনগণের সরকার নয়, তারা খুনী ও ঘাতকদের সরকার। ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে হলে জনগণের দরকার পড়ে না, নির্দয় ঘাতকদের দরকার পড়ে। মেধাবী তরুণ আবরার ফাহাদ এর করুণ মৃত্যু গোটা জাতিকে কাঁদিয়েছে। আজ দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই ভয়ঙ্কর হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে আর কোন মায়ের কোল শুন্য না হয়। আজকে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবীসহ সবাই গর্জে উঠছে না কেন? নাকি আমাদের বলতে হবে-একটি বিখ্যাত কবিতার কয়েকটি লাইন-যে পিতা সন্তানের লাশ শনাক্ত করতে ভয় পায়/আমি তাকে ঘৃণা করি/যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে/আমি তাকে ঘৃণা করি। যে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কবি ও কেরানী/প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না/আমি তাকে ঘৃণা করি।
তিনি বলেন, দেশের মাটি, পানি, সম্পদ অন্যের হাতে চলে যাবে, অথচ এটির বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে তাকে অকথ্য টর্চার করে হত্যা করা হবে-এই হচ্ছে বর্তমান সরকারের নীতি। এই নীতির বাস্তবায়নে যতদিন এরা ক্ষমতায় থাকবে ততদিন জনপদের পর জনপদ বিরোধী নেতাকর্মীদের পুড়িয়ে, থেঁতলিয়ে, পিটিয়ে, গুলী করে হত্যা করতে থাকবে। কারো ক্ষমতার প্রতি তীব্র আবেগ, এদের বিবেককে বিবশ করে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ