ঢাকা, বুধবার 9 October 2019, ২৪ আশ্বিন ১৪২৬, ৯ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মী পাঁচদিনের রিমান্ডে

গতকাল মঙ্গলবার বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার আসামীদের সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয় -সংগ্রাম

# গ্রেফতারকৃতরা পেটানোর কথা ‘স্বীকার’ করেছে: ডিবি
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।“গতকাল মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়েছে,” বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে , ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে বুয়েটের আরও তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- মনিরুজ্জামান মনির (২১), মো. আকাশ হোসেন (২১) ও শামসুল আরেফিন রাফাত (২১)। এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এই তিনজন আবরারের বাবার করা মামলার এজাহারনামীয় আসামী।
আবরারের বাবা কুষ্টিয়াবাসী অবসরপ্রাপ্ত ব্র্যাককর্মী বরকতুল্লাহ মোট ১৯ জনকে আসামী করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ১৯ আসামীর মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ; এর মধ্যে আগে গ্রেপ্তার ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরাফাত লেলিন বলেন, “বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান চলছে।”
এর আগে ওই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পিটিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
অপরদিকে , হত্যা মামলার গ্রেপ্তার ১০ আসামীকে পাঁচদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। চকবাজার থানায় আবরারের বাবার করা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াছির আহসান চৌধুরী পাঁচদিন রিমান্ডের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন।
গতকাল কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়িতে আবরার ফাহাদকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সর্বশেষ জানাযায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাযাটি শোকের সমুদ্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত সবাই। পরে জানাযাটি প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
রোববার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সহপাঠীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
সোমবার রাতে আবরার হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামী করে তার বাবা বরকত উল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন। আটক ১০ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে আবরারের কিছু স্ট্যাটাস এই হত্যার কারণ বলে সোমবার দিনভর বুয়েটের ক্যাম্পাসে আলোচনা ছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
হলের শিক্ষার্থী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। রোববার বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফেরেন। কয়েক ঘণ্টার মাথায় রাত আটটার দিকে আবরারসহ দ্বিতীয় বর্ষের সাত-আটজন ছাত্রকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠান তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাত-আটজন নেতা। তারা আবরার ফাহাদের মুঠোফোন নিয়ে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘেঁটে দেখেন। এরপর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী আসেন। তারা আরেক দফা পেটান আবরারকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী  বলেন, পেটানোর একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন ছাত্রলীগের নেতারা আবরারের হলের সহপাঠীদের ডেকে আনেন এবং তাদের দিয়ে নিথর দেহটি দোতলা ও নিচতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে নিয়ে রাখেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতারা বাইরে যান রাতের খাবার খেতে। পরে যখন নিশ্চিত হলো আবরার বেঁচে নেই, তখন সিঁড়ি থেকে লাশ নিয়ে রাখা হয় হলের ক্যানটিনে। সোমবার ভোরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

ঘটনায় জড়িত যাঁরা
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আবরারকে প্রথম দফা পেটানোর ঘটনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন। দ্বিতীয় দফায় পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনীক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেলের অনুসারী।
ঘটনার সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ‘রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। আমি মাঝেমধ্যে ওই কক্ষে বন্ধুর কাছে যাই। ওই দিন রাতে গিয়ে দেখতে পাই, সেখানে আবরারের ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার চেক করা হচ্ছে। রাত পৌনে নয়টার দিকে আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসি। পরে সেখানে কী হয়েছে, জানি না।’

সোমবারই গ্রেফতার ১০ জন
এ ঘটনায় সোমবার সকালে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেনকে আটক করা হয়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ওইদিন দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, কারা আবরারকে ডেকে নিয়ে গেছেন এবং লাশ বের করে সিঁড়িতে রেখেছেন, তাদের হলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে।
দুপুরের পর পুলিশ এ হত্যার ঘটনায় আটক করে ছাত্রলীগের নেতা অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর ও মোহাজিদুর রহমানকে।

হত্যা মামলা ডিবির হাতে
আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে সকালে জানিয়েছিলেন চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন। আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকতুল্লাহ সোমবার চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামী করে মামলা করেন। এর মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।
গতকাল মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে পাঠিয়ে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।

আরও তিনজন গ্রেফতার
আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে বুয়েটের আরও তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- মনিরুজ্জামান মনির (২১), মো. আকাশ হোসেন (২১) ও শামসুল আরেফিন রাফাত (২১)। এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এই তিনজন আবরারের বাবার করা মামলার এজাহারনামীয় আসামী। গ্রেপ্তার অভিযানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) বিকালে ডেমরা থেকে মনিরকে এবংজিগাতলা থেকে রাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয় সন্ধ্যায় গাজীপুর বাইপাস সড়ক থেকে।”
মনির বুয়েটের ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষোড়শ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষে, আকাশ একই ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে এবং রাফাত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সপ্তদশ ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তার মনির বুয়েট ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। আবরার হত্যাকান্ডের পর যে ১১ জনকে ছাত্রলীগ বহিষ্কার করেছে, তার মধ্যে মনিরও রয়েছেন।
আবরারের বাবা কুষ্টিয়াবাসী অবসরপ্রাপ্ত ব্র্যাককর্মী বরকতুল্লাহ মোট ১৯ জনকে আসামী করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ১৯ আসামীর মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ; এর মধ্যে আগে গ্রেপ্তার ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরাফাত লেলিন বলেন, “বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান চলছে।”

পেটানোর কথা ‘স্বীকার’
হত্যামামলার পরপরই গ্রেপ্তার ১০ জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবরার ফাহাদকে পেটানোর হত্যা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, “প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা আবরারকে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যা করা কথা স্বীকার করেছে।”তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।
গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ; তারা এখন রয়েছেন ডিবি কার্যালয়ে।
বাতেন বলেন, “মামলা প্রথম দিন থেকেই গোয়েন্দা তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, কারা কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা ছিল, এর আগে নির্যাতনের কোনো ঘটনা তারা ঘটিয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে বের করা হবে।”
মামলায় যে ১৯ জনের নাম দেওয়া হয়েছে, এর বাইরে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আবরারকে নির্যাতনের ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের আরেক নেতা অমিত সাহার জড়িত থাকার অভিযোগ শিক্ষার্থীরা করে আসছেন, যার নাম মামলায় নেই।
এনিয়ে প্রশেন পুলিশ কর্মকর্তা বাতেন বলেন, “মামলা আবরারের বাবা করেছেন। মামলা করা পরপরই ১০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।“অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এখানে কেউ ছাড় পাবে না। তদন্তে যারই নাম আসবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
গোয়েন্দা পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, “অমিত সাহা নামে যে শিক্ষার্থীর নাম বলা হচ্ছে, সে গত ২ অক্টোবর দেশের বাড়ি গেছে বলে জানা গেছে। তারপরেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তের প্রথম দিনই বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। শেরে বাংলা হল ছাড়াও আরও কিছু হলে প্রায়ই নির্যাতন হত। কিছু ভুক্তভোগী পাওয়া গেছে। তারা কিছু তথ্য দিলেও নাম প্রকাশ করার অনুরোধ করেছেন।”
আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে। রোববার রাতে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী।

১০ আসামী পাঁচদিনের রিমান্ডে
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার গ্রেপ্তার ১০ আসামীকে পাঁচদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। চকবাজার থানায় আবরারের বাবার করা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াছির আহসান চৌধুরী পাঁচদিন রিমান্ডের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন।
যাদেরকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।
আসামী মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভিরের পক্ষে আবেদুর রহমান সবুজ, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্নার পক্ষে হুমায়ুন কবির, ইফতি মোশাররফ সকালের পক্ষে আমিরুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন।
আইনজীবীরা বলেন, তাদের মক্কেলরা নেতা বলেই তাদের নাম এজহারে লেখা হয়েছে। তারা আবরারকে মারধরে যুক্ত নন। আবেগের বশবর্তী হয়ে তাদেরকে রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।
আবারর হত্যার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে তারা আসল আসামীদের বিচার দাবি করেন। তাদের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত হোসেন হিরণ। শুনানি নিয়ে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
চকবাজার থানার পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, “জিজ্ঞাবাদের জন্য ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। পাঁচদিন মঞ্জুর হয়েছে।”
আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ সোমবার চকবাজার থানায় এই দশজনসহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাতজনের নাম ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের তালিকাতেও আছে। এরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ সকাল ও মুনতাসির আল জেমি। এই হত্যাকান্ডের পর সোমবার রাতে ১১ জনকে স্থায়ীভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় ছাত্রলীগ।

লাশ কুষ্টিয়ায় দাফন
আবরার ফাহাদের লাশ কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে দাফন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়ি কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোড এলাকায় তাদের বাড়িতে আসে। সেখানে ভোর থেকেই আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ভিড় জমায়। এখানে প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় নেওয়া হয় লাশ।
লাশবাহী গাড়ি গ্রামে পৌঁছালে প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী ছাড়াও আশপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ আসে মৃত ফাহাদকে শেষবারের মত দেখার জন্য। সেখানে হৃদয়-বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোকবিহ্বল পরিবেশে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কেউ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।
পরে রায়ডাঙ্গা গোরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন হয়। তার আগে তার বাবা বরকত উল্লাহ ফাহাদের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি আগামী শুক্রবার বাদ জুমা কুলখানিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন সবাইকে।
একই সঙ্গে তিনি হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। জানাজায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষ সমস্বরে প্রতিবাদের কণ্ঠ মেলান ফাহাদের বাবার সঙ্গে।
দাফন শেষে কবর জিয়ারত করার পর ফাহাদের বাবার জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়। তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার দরকার হয়নি।
এদিকে ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম দুই দিন ধরে না খেয়ে আহাজারি করতে করতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ফাহাদের ফুফু আকলিমা খাতুন বলেন, “এই দেশে কি কোনো বিচার ব্যবস্থা আছে? এমন সুনার টুকরা ছেলেটা যেদিন বাড়ি থেকে গেল সেদিনই ঘতকরা মায়ের বুক খালি করল। বুয়েটের মত জায়গায় যদি এমন ঘটনা হয় তাহলে কিভাবে আর কোন মা-বাপ সন্তানদের পড়তি পাঠাবি। এই ঘটনা তো সব বাপ-মার মধ্যি আতংক সৃষ্টি কইরি দিল।
চাচাত বোন রেহেনা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, “ফাহাদের গুণাগুণ বইলি শেষ করা যাবি না। ও কারও সাথে কোনো দিন মুখ তুলি কথা কয়নি। ভদ্র, নম্র, নামাজ-কালাম আর বই ছিল ওর একমাত্র সঙ্গী। এই বই-ই ওর জীবনের কাল হলি।”

প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয় জানাযাস্থল
দাফন চলার সময় হঠাৎ করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শোকার্ত মানুষেরা। প্রতিবাদের শ্লোগান দেন তারা। সড়ক অবরোধ করে শুরু করেন প্রতিবাদ। শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় গোটা এলাকা। তারা ‘শেখ হাসিনার বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’, ‘ফাহাদ ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই’-এমন নানা রকম শ্লোগান দেন।
ফাহাদের স্কুলের সহপাঠী আতিক বলেন, “আমরা একই সাথে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করি। ওর অদম্য মেধাই ওকে আমাদের থেকে আলাদা করে ফেলল। এখন চিরতরে ফাহাদ পৃথিবী থেকে আলাদা হয়ে গেল। যাদের কারণে আজ ও আমাদের সকলকে ছেড়ে আলাদা হয়ে গেল তাদেরও একইভাবে পৃথিবী থেকে আলাদা করার দাবি জানাই।”
ফাহাদের অপর বন্ধু কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সোহরাব হোসেন বলেন, “স্কুলে আমরা দুজনই বসতাম ফার্স্ট বেঞ্চে। আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। এসএসসিতে দুজনই ভালো রেজাল্ট করলাম। টাকার অভাবে আমি বাইরে যেতে পারিনি। ফাহাদ গিয়েছে। ও ঠিকই ওর জায়গা করে নিয়েছে ওর মেধা আর ভাল গুণ দিয়ে। এখন দেখছি ওটাই হল ওর জীবনে কাল। এমন ঘটনা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না।”
জানাযায় অংশ নেওয়া গোলাম মহসিন নামে এক বাবা বলেন, তার ছেলে নটরডেম কলেজে পড়ে।“ফাহাদের ঘটনা আমার পরিবারকে কাঁদিয়েছে। এ ঘটনা আমাদের পরিবারকে চরম শংকাগ্রস্ত করে তুলেছে। এই বুঝি এমন কোনো সংবাদ আসে যা ফাহাদের পরিবারের মত আমাদেরও বিপন্নের মুখে ঠেলে দেয়। ফাহাদের মত একজন মেধাবী ছেলেকে এভাবে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা-এটা আমাদের সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”তিনি বলেন, “আমি একজন অভিভাবক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন করি, উনি যেন একটু ভাবেন যে এ ধরনের ছাত্র রাজনীতিকে কতটুকু যৌক্তিক মনে করেন। যদিও শুনেছি উনি নিজেই তার ছাত্রনেতাদের বিষয়ে ক্ষুব্ধ। উনি এই কলঙ্কময় অধ্যায়ের লাগাম টেনে একটা পরিসমাপ্তি ঘটান।”
চুয়েটে মানববন্ধন
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, চট্টগ্রাম।
মঙ্গলবার বিকেল চারটায় নগরের ষোলশহর রেল স্টেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে করা এ মানববন্ধনে নগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আবরার হত্যার বিচার না দেখে ছাত্র সমাজ ঘরে ফিরবে না। আবরারের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে দায়িত্ব অবহেলার কারণে বুয়েটের প্রভোস্ট ও ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষার্থী আমির হোসেন জুয়েল, নিজাম উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম, রাইসুল ইসলাম, নাছির উদ্দিন, কামরুল হাসান, ইমতিয়াজ ইমতু, রিয়াজ উদ্দিন, কামরুন নাহার ও লুবনা নূর প্রমুখ।
আবরার ফাহাদ হত্যা বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রগতিশীল ছাত্র জোট। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুমাইয়া আক্তার সেতু, শুভ বণিক ও বেলাল হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
গাজীপুরে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
গাজীপুর সংবাদদাতা : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে গাজীপুরে মানববন্ধন করেছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে ডুয়েট ক্যাম্পসের সামনে ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত মানব বন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- ডুয়েটের সাবেক ছাত্র প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম, শুভ দেবনাথ, ডুয়েটের চতুর্থ বর্ষের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল, রেজওয়ানুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভিাগের আশরাফুল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুজন সরকার, তৃতীয় বর্ষের ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড প্রোডাকশন বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আলমগীর হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিয় বিভাগের শাহেদ, ইইই বিভাগের লিটন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুন্না।
ময়মনসিংহে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : ময়মনসিংহে বুয়েট ছাত্র আবরারের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে । গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরীর শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি এমদাদুল হক মিল্লাত, সুজন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আলি ইউসুফ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসজাদুল বোরহান তাহাসিন, সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন শুভ, যুব-ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আমিন রনি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্টের দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক রনি এবং রিফা সানজিদাসহ অন্যরা। অবিলম্বে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দখল মুক্ত [ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের] করে সব ছাত্র হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, মোঃ জুয়েল, সুজন আকবর ও মিজানুর রহমান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সদস্যরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। স্বাধীন দেশে ভিন্ন মত প্রকাশের কারনে একজন ছাত্রকে পিটিয়ে মারা জঘন্য অপরাধ। আবরারকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের সদস্যদের ফাঁসির দাবি জানান তারা। যাতে করে বাংলাদেশে আর কোনো ছাত্রকে এভাবে নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার না হতে হয়।
উল্লে¬খ্য, গত রোববার রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
রংপুরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে
রংপুর অফিস ঃ বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে রংপুরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে।
গতকাল ৮ই অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নগরীর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এবং কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাধারন শির্ক্ষাথীরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, মর্ডান মোড় ও লালবাগ মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মানববন্ধন করে।
রংপুরের সাধারণ শির্ক্ষাথীরা এ সময় কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে জানতে চান, দেশে আইন থাকার পরও কেন সন্ত্রাসীরা মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করার সাহস পায় ? তারা আকুল আবেদন জানিয়ে ফরিয়াদ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দিন। আমরা পড়তে এসেছি, মড়তে আসিনি। পড়তে এসে মড়বো কেন?
মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে এমনই মর্মন্তুদ হৃদয়বিদারক কান্নাজড়িত কন্ঠে বেরোবির নৃ-গোষ্ঠীর শির্ক্ষাথী রিনা মরমু প্রশ্ন করেন এভাবে আর কত মায়ের কোল দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যার শিকার হবে ?
সাধারন শির্ক্ষাথীরা এ সময় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর মর্ডান মোড় এলাকায় গিয়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং আবরার প্রতিবাদ জানায়। পরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুল ফটকের সামনে এসে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশে করে। এসময় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ, আলমগীর কবির, মিজানুর রহমান, রাব্বী ইসলাম, নজরুর ইসলাম, রিনা মুরমু প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমাদের বাবা-মা উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষাঙ্গনে পাঠিয়েছে দেশ গড়ার হাতিয়ার তৈরীর জন্য। আর দূর্বৃত্তায়নের কুলশিত রাজনীতি আমাদের মা-বাবাকে লাশ উপহার দিচ্ছে। এভাবে আর কত লাশের গন্ধ শিক্ষাঙ্গনকে অপবিত্র করবে ? এর শেষ কোথায় ?
পরে একই কর্মসূচীর ডাকে কারমাইকেল কলেজ গেট সংলগ্ন নগরীর লালবাগ মোড়ে সাধারন ছাত্র পরিষদের আহবানে শির্ক্ষাথীরা এক মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন হানিফ খান সজিব, রুহুল আমীন, রাসেল মাহমুদ, তাজুল ইসলাম প্রমুখ। প্রতিবাদ সমােেবশে বক্তারা আবরার ফরহাদের খুনীদের সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি এবং দেশের সকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি এবং সেই সাথে সকল শির্ক্ষাথীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ