ঢাকা, বুধবার 13 November 2019, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আবরার হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার বিচার, ৭ দিনের মধ্যে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় দিনের মতো চলা তাদের এ আন্দোলনে শুরুতে ৮ দফা দাবি থাকলেও এবার ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে তারা।

বুয়েট থেকে হত্যাকারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে লেজুরবৃত্তির ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন।

সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল থেকে এখানে আসতে শুর থাকেন। এর আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সোমবার বিকাল থেকেই উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস। আবরার আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা মামলার অভিযোগপত্র না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান বুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও।

ঢাবি ও বুয়েট ক্যাম্পাসে পূজার ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বুয়েট আন্দোলনকারীদের ১০ দফা দাবিগুলো হলো-

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদেপ্রাপ্ত তথ্য অনুসারে শনাক্তকারী খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্তকৃত সকলকে আগামী ১১ অক্টোবর ২০১৯ বিকাল ৫টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে। ‍

৩. মামলা চলাকালীন সময় সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে সর্বোত্তম সময়ে নিষ্পত্তি করতে বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সকল প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটের হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোট ব্যাচগুলোকে সব সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শনপূর্বক হল থেকে বিতারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুদ্ধ। তাই আগামী ৭ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। তাকে স্বশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ ৯-১০-২০১৯ তারিখ দুপুর দুইটার মধ্যে এসে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্নমতের কারণে সকল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল ও সোহরাওয়ার্দী হলে সংগঠিত পূর্বের ঘটনাগুলোরসঙ্গে জড়িতদের ছাত্রত্ব আগামী ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে বাতিল করতে হবে।

৯. পূর্বে ঘটা এমন ঘটনা ও পরে ঘটা ঘটনা প্রকাশের একটি কমন প্লাটফর্ম থাকতে হবে এবং নিয়মিত রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্লাটফর্মের ক্ষেত্রে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর ২০১৯ বিকাল ৫টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে এবং পরবর্তীতে এক মাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরুপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সকল হলের প্রত্যেক ফ্লোরের সবগুলো উইংয়ের দুইপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা বিধানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

১০ দফা ঘোষণা শেষে শিক্ষার্থীরা আজ সন্ধ্যা ৭টায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি দেয়। এ সময় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানায় তারা।

আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

এ ঘটনায় বুয়েটের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ