ঢাকা, রোববার 13 October 2019, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬, ১৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে বাহারি রংয়ের জমজমাট ফুল বাণিজ্য

-মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান

‘জোটে যদি মোটে একটি পয়সায়
খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি/
দুটি যদি জোটে অেেধর্ক তার
ফুল কিনে নিও, হে অনুরাগী!’
মানুষের জীবনে ফুলের গুরুত্ব অপরিসীম। কত সহস্র উপমায় বিশেষায়িত এই ফুল। কত শত কবি তার কবিতায় ফুলের গুণকীতর্ন করেছেন। শুদ্ধতা, পবিত্রতা ও সৌন্দযের্র প্রতীক, ভালোবাসার অর্ঘ, শ্রদ্ধা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ উপকরণ, প্রার্থনার নৈবদ্য হিসেবে ফুলের ব্যবহার আরো কত কী! ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষের সন্ধান পাওয়া কঠিন। জগৎ জুড়ে ফুলের ব্যবহার বতর্মানে যেমন চলছে ভবিষ্যতেও চলবে। ফুল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও মননশীলতার প্রতীক। উপহার, সংবধর্না, গায়ে হলুদ, বিয়ে, পূজা-পার্বণ এমনকি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় ফুল এখন অপরিহার্য অনুসঙ্গ।
আধুনিক সমাজে ফুলের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে শুধু সৌখিনতা নয়, ফুল এখন বিরাট এক অর্থকরী ফসল। ফুলের চাহিদার কমতি নেই বিশ্বজুড়ে। নতুন বছরের হালখাতা, আর ইংরেজি নববর্ষ ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে জমজমাট ফুলের ব্যবসা। রাজধানীর ফুলের হাটগুলোতে বাহারি রংয়ের হরেক রকমের ফুল শোভা পায়। যা পথচারিদেরও মুগ্ধ করে। ফুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মাতোয়ারা থাকে চারিদিক।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, বর্তমানে সারাদেশে পাইকারি পর্যায়ে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়ের চাহিদার আলোকে দেশের অথর্নীতিতে ফুলের অবদান ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ফুলের বাণিজ্যিক প্রসার খুব বেশি দিনের নয়। নব্বইয়ের দশকের আগে দেশের ফুলের চাহিদার প্রায় পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। বতর্মানে দেশে উৎপাদিত ফুল দিয়েই চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মেটানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৮২-৮৩ অর্থবছর থেকে দেশে ফুল অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর থেকে ক্রমেই প্রসার হচ্ছে ফুলের বাণিজ্য। এ খাতে বাড়ছে কর্মসংস্থান। বিদেশেও রফানি হচ্ছে বাংলাদেশের ফুল। আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। ২০১৭-১৮ অথর্বছরে বাংলাদেশের ফুল রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬ হাজার ডলার। বাংলাদেশের কাঁচা ফুল মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইতালি, কানাডা, চীন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সে রফতানি করা হচ্ছে। বিশ্বে ১৬ হাজার কোটি ডলারের বিশাল ফুলের বাজারে বাংলাদেশের জন্য আরো বড় আকারের রফতানির সুযোগ অপেক্ষা করছে।
রাজধানীতে বাহারি ফুলের হাট: গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন নগরবাসী। কিন্তু ঘুম নেই শুধু ফার্মগেট খামার বাড়ি ও শাহবাগ আগারগাঁও, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, বনানী কাঁচাবাজার, যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকার কিছু মানুষের চোখে। অনেক ব্যস্ততা তাদের। এ ব্যস্ততা ফুলের সুগন্ধ ফেরি করার জন্য। আনন্দ, আহ্লাদ আর পবিত্রতার প্রতীক নানা রঙের বাহারি ফুলের বেচাকেনায় ব্যস্ত মানুষগুলো দিন-রাতের পার্থক্যই যেনো ভুলে গেছেন। রাত যতো গভীর হয়ে উঠে রাজধানীর ফুলের বাজার গুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠে।
সরেজমিন রাজধানীর শাহবাগের পাইকারি ও খুচরা ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুল দোকানে সামনে ফুল আর ফুলের বাহার থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও ভাসমান ফুল ব্যবসায়ীদের ভিড় শাহবাগের ফুলের দোকানে। ব্যবসায়ীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ আগে থেকে ফুল কিনতে চলে এসেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে পুরান ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে শাহবাগ,খামার বাড়ি ও আগারগাঁও দেখা যায়, সারি সারি ট্রাক-পিকআপভ্যান ও বাসের ছাদ থেকে নামানো হচ্ছে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গাজেরা, লহর, ভুট্টা, কাটবেলী, বাহারি ফুলের গাইট। বাতাসেও এসব ফুলের ঘ্রাণ চারপাশে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।
ফুল ব্যবসায়ীদের নিকট জানান, ফুলের মধ্যে গাঁদা ফুল, গোলাপ ও রজনীগন্ধা যশোর ও ঝিনাইদহ থেকে চাষীরা বেশি নিয়ে আসেন। আর মানিকগঞ্জ ও ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে কিছু গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, গাজেরা, লহর, ভুট্টা এবং কাটবেলী ফুল।
খুচরা ফুল পাইকার আর পাইকারি-বিক্রেতাদের যেন কথা বলারও কোনো সময় নেই। ফুল নামানো আর গুণে গুণে সারিবদ্ধভাবে সাজাতে ব্যস্ত সবাই। কারণ, সকাল হওয়ার আগেই বেচাকেনা শেষ করতে হবে। এই ফুলগুলো আবার সরবরাহ করা হবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, রাত ২টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফুলের চালান আসে। আর সকাল ৯টার মধ্যেই পাইকারি কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন দিবসে বেচাকেনা জমে উঠে বলে জানান তারা।
খামার বাড়ির ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, গোলাপ ফুল প্রতি মোটা একশ’ পিস ১০০-১৫০ টাকা, রজনীগন্ধা ৩০০ টাকা, গ্লাডিওলাস এক হাজার থেকে এক হাজার দুই শত টাকা, কাটবেলী ৫ থেকে ৬শ’ টাকা, লহর এক শত টাকা, ভুট্রা ছয় শত টাকা এবং গাজেরা প্রতি পিচ ২০ টাকা করে কেনা হচ্ছে। তিনি জানান, এ ফুলগুলো আবার ঢাকার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হবে।
এ ছাড়া রাজধানীর শাহবাগে সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার। এখানে ফুলের দোকান ১৩০টি এবং খুচরা বিক্রেতা আছে আরও শতাধিক। অনুসন্ধানে জানা যায় ভালোবাসা দিবস , ২১ ফেব্রুয়ারী , স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে রাজধানী ঢাকায় কয়েক কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে তার সিংহভাগই হবে শাহবাগে।
শাহবাগের অনন্যা পুষ্প বিতানের জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর শাহবাগসহ অন্যান্য ফুল বাজারে ট্রাক ভর্তি ফুল আসে সবচেয়ে বেশী শীত মৌসুমে। এ বছর হঠাৎ করেই সাভারের সাদুল্লাপুর ফুল বাগানে অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে ফুল উৎপাদন কম হয়েছে। যার কারণে এবার ফুলের দাম গত বছরের তুলনায় এবার একটু বেশি। যশোরের গদখালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হয় প্রতি বছর।
ফুলের  রাজধানী গদখালী : যশোর থেকে বেনাপোলের দিকে যেতে ছোট জনপদ গদখালী। ঝিকরগাছা উপজেলা সদর থেকে পশ্চিমে অবস্থিত এই জনপদটির মাঠে মাঠে যেদিকে চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল। এখানকার প্রায় ৪০টি গ্রামে উৎপাদিত হয় রজনীগন্ধা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস ও জারবেলাসহ বিভিন্ন ফুল। অন্যান্য অর্থকরী ফসলের পাশাপাশি ফুল চাষ করেও যে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া যায় তা করে দেখিয়েছেন গদখালীর মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গদখালীতে ফুলের চাষ শুরু হয় ফুল চাষি শেরআলীর হাত ধরে। ১৯৮৩ সালে তিনি ভারত থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বীজ এনে গদখালীতে চাষ শুরু করে, পরে তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের অন্য কৃষকগোষ্ঠী শুরু করে ফুল চাষের বিপ্লব।
শেরআলী এরপর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে অনেক ফুলের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করেন। এখন ঝিকরগাছার দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করে জীবিকা নিবার্হ করে কমপক্ষে সাত হাজার মানুষ। এখানে বিঘা প্রতি মওসুমে কৃষকরা আয় করেন প্রায় ৪ লাখ টাকা। কালের পরিক্রমায় পথ দেখানো সেই গদখালিকে এখন ফুলের রাজধানী বলা হয়। সারাদেশে যে ফুল উৎপন্ন হয় তার অন্তত ৭০ ভাগ হয় এই গদখালীতেই। আশির দশকে যে গদখালীতে এক বিঘা জমিতে ফুলের চাষ হয়েছিল সেখানে এখন প্রায় ১৮শ’ বিঘা জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। তবে ঝিকরগাছার গদখালী এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শার্শা উপজেলাতেও ফুল চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফুলচাষীরা বলছেন, বতর্মানে ওই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। এসব জমি থেকে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন অন্তত ২ লাখ রজনীগন্ধার স্টিক, ৪ লাখ গাঁদা ফুল, ৩০ হাজার গোলাপ, ৫০ হাজার গ্লডিওলাস ফুলের স্টিক উৎপন্ন হয়। অন্যান্য ধরনের ফুল উৎপন্ন হয় প্রায় ৩০ হাজার।
রফতানি বাজারে সম্ভাবনার হাতছানি : বিশ্ব ফুলের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছে ফুল। দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল ও বাহারি লতাপাতার গাছ উৎপাদন স্থানীয়ভাবে বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির তালিকায় একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আশা জাগিয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯১-৯২ সাল থেকে ফুল রপ্তানির জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র মতে, ২০০৫ সালে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০০ কোটি টাকার। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে এ দেশ থেকে ফুল রপ্তানি হয়েছিল ২৭৬ কোটি ৯ লাখ টাকার, ২০০৯-২০১০ সালে ৩২৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এবং ২০১০-২০১১ সালে ৩৬২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ফুল রফতানি হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য মতে, সারা বিশ্বে ফুলের বাজার প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০১৮ সালে ফুলের বৈশ্বিক রফতানি বাজার হবে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ডিসিসিআইর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের ফুল রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬ হাজার ডলার।
বাংলাদেশের কাঁচা ফুল মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইতালি, কানাডা, চীন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সে রপ্তানি করা হচ্ছে। বিশ্বে ১৬ হাজার কোটি ডলারের বিশাল ফুলের বাজারে বাংলাদেশের জন্য আরো বড় আকারের রপ্তানির সুযোগ অপেক্ষা করছে ।
জীবিকা, চাষাবাদ ও হাট-বাজার : বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করা হচ্ছে। বছরে দেশে ৭৮৪ কোটি টাকার ফুলের বাণিজ্য হয়। তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফুলের বাজার আছে ৪০০ কোটি টাকা। সারাদেশে খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। দেশের ২০টি জেলায় বিভিন্ন জাতের বিপুল পরিমাণ ফুল উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত।
ফুল চাষের অন্তরায় : ফুল চাষিদের অভিযোগ প্রশিক্ষণের অভাব, মানসম্মত বীজের স্বল্পতা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে ফুল শিল্পে আশানুরূপ উন্নতি করা যাচ্ছে না। দেখা গেছে, পরিবহন ব্যবস্থার অভাবের কারণে অনেক সময় ফুল পচে বড় ধরনের ক্ষতি সম্মুখীন হতে হয় চাষিদের। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে ফুলের উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিশ্বে ফুল বাণিজ্য: বিশ্বে ফুল বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ফ্লোরাহল্যান্ড। আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে প্রতিদিন সেখানে বেচাকেনা হয় ২ কোটি ১০ লাখ ফুল। বিশ্বজুড়ে বিক্রিত ফুলের প্রায় ৫২ শতাংশ রফতানি হয় এ বাজার থেকে। ভালোবাসা দিবসের আগে সপ্তাহজুড়ে সেখানে হাট বসে কোটি কোটি গোলাপ, টিউলিপ ও অন্যান্য ফুলের। বাণিজ্যের বাইরে বাগান থেকে সংগ্রহ করা ফুলের স্থায়িত্ব পরীক্ষা, পৃথিবীব্যাপী ফুল চাষের হিসাব-নিকাশও করা হয় এখানে। উত্তর আমেরিকায় ফুলের সবচেয়ে বড় নিলাম অনুষ্ঠিত হয় কানাডার বারনাবির সাউথওয়েস্ট গার্ডেন সাপ্লিয়াসে। প্রতি সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সমাগম ঘটে ফুলের খুচরা বিক্রেতার।
বছরে ভ্যালেন্টাইনস ডে ও মাদারস ডে-তেই কানাডায় কাটতি হয় ১৫ কোটি ফুলের। ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বেঙ্গালুরু ফুলের বাজারে বসে লাল গোলাপের মেলা। প্রায় ৫০ লাখ গোলাপ আসে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাডু, কেরালা, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি থেকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের দাওনান ফ্লাওয়ার মার্কেটের ব্যস্ততা থাকে মধ্যরাত থেকে ভোর চারটা অবধি। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ফুল চীন ও বহির্বিশ্বের বাজারে সরবরাহ করা হয়। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, নববর্ষ এসব দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়েও শত কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হয়। এসব উপলক্ষকে সামনে রেখে ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে ফুল বিক্রির ধুম পড়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ