ঢাকা, শনিবার 16 November 2019, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অমিত ও মিজানই আবরারকে শিবির বলে সন্দেহ করে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আরো এক আসামি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগাঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সেই রাতের ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।রবিনকে নিয়ে এ মামলায় মোট ৫ জন আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

সোমবার আদালতে রবিন বলেন, ‘আবরারের রুমমেট মিজান ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা তাকে জানিয়েছিলেন আবরার শিবির করে। ওর ফেসবুক বা মোবাইল ফোন চেক করলেই এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়।’

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেহেদি বলেন, আবরারকে প্রথম দফায় তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুই শিবির করিস’। আবরার অস্বীকার করে। পরে ইফতি ও তানভীরকে আবরারের কক্ষে পাঠিয়ে দেই আমরা। তারা আবরারের কক্ষ থেকে তার দুটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে আসে। অনিক একটি মোবাইল ফোনে আবরারের ফেসবুক ঘেঁটে কিছু উস্কানিমূলক বক্তব্য পায়। তখন সে জিজ্ঞাসা করে, ‘ক্যাম্পাসে কারা শিবির করে? তুই তাদের নাম বল?’ আবরার চুপ থাকে। তখন সে তাকে কিল ঘুষি মারে। তখন আমিও আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারি। একটা পর্যায়ে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে তাকে পেটাই। কিছু সময় পর আমি অনিককে বলি যে ওকে পিটিয়ে শিবিরের নামগুলো বের করতে হবে। এরপর আমি চানখার পুল যাই খেতে। চানখার পুলে হোটেল খাওয়া-দাওয়ার সময় ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে দেখতে পাই যে আবরারের অবস্থা খুবই খারাপ। তখন আমি হলে চলে আসি। এসে শুনি যে আবরারকে অমিতের কক্ষ থেকে বের করে পাশের ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়েছে। ওই কক্ষে আবরার বমি করে। তখন আমি আবরারকে পুলিশের হাতে দেওয়ার জন্য নিচে নামাতে বলি। এরপর জেমি, মোয়াজ ও শামীমসহ কয়েকজন তাকে কোলে করে সিঁড়ি ঘরের পাশে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ও চিকিত্সকদের খবর দেওয়া হয়। চিকিত্সক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শিবির সন্দেহে পেটানোর কারণেই আবরারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চার জনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসেছে যে, তারা শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে মারপিট করছিল। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, বাকিদের জবানবন্দির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, তারা আবরারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করেছিল নাকি মারপিটের জন্য মারপিট করছিল।

ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ রাত ২টায় নয়, ৩টার পরে গিয়েছিল বুয়েট ক্যাম্পাসে, কিন্তু পুলিশকে তখনো বলেছে, ভেতরে কোনো সমস্যা নাই। সমস্যা থাকলে, কেউ (কর্তৃপক্ষ) জানালে তখন পুলিশ ঢুকে। সমস্যা না থাকলে হলের ভেতরে যাওয়ার রেওয়াজটা ওইভাবে নাই।’

ওই রাতে সে এলাকায় টহলের তিনজন পুলিশ সদস্য ছিল জানিয়ে মনিরুল বলেন, হলে গোলমাল হয়েছে জেনে সেখানে গিয়েও কোনো চিহ্ন পায়নি তারা। তবে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা যেটা পেয়েছি, কেউ কেউ বলছে, পুলিশ যাওয়ার আগেই আবরার মারা গিয়েছিল।

আগামী মাসে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তবে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী মাসের শুরুতে বিজ্ঞ আদালত যে তারিখ দিয়েছে তার আগেই অর্থাত্ আমরা আশা করছি, আগামী মাসের শুরুর দিকে এই মামলার তদন্ত কাজ শেষ হবে। তখন আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারব।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ