ঢাকা, মঙ্গলবার 19 November 2019, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই শিশু তুহিনকে হত্যা!

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউরা গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ৫ বছরের শিশু তুহিন। এ ঘটনায় শিশুর বাবাসহ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। 

সোমবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা, চাচি ও এক চাচাতো বোনকে থানায় আনে পুলিশ। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির কান, গলা ও পুরুষাঙ্গ কেটে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রাখে। শিশুটির পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ধারালো ছুরি। তবে কে বা কারা, কী কারণে এ শিশুকে পাশবিক কায়দায় হত্যা করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শিশুর মরদেহে বিদ্ধ দুটি ছুরিতে সোলেমান ও সালাতুলের নাম লেখা রয়েছে। এ নাম দুটি নিয়ে শিশু হত্যার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। 

পুলিশ জানায়, অনেক ক্লু আমাদের হাতে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা-চাচা, চাচিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। 

এ দিকে দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, ডিআইও ওয়ান সুনামগঞ্জ আনোয়ার হোসেন মৃধা, ডিবির ওসি মুক্তাদির আহমদসহ সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা। 

এ দিকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান দিরাইয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে পারিবারিকভাবে নৃশংস ও ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে শিশু তুহিন। 

কেন তাকে মারা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন তাকে মারা হয়েছে, কীভাবে মারা হয়েছে, কতজন এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে সবই আমরা পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই সবকিছু বলতে চাচ্ছি না। আটককৃত স্বজনদের মধ্যে ৩-৪ জনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। 

তিনি জানান, গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও একাধিক মামলায় প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিহত শিশুর দেহে বিদ্ধ ছুরির হাতলে লেখা সোলেমান ও সালাতুলের নাম রয়েছে। তারা অন্য মামলার আসামি। তাদের ফাসাঁনোর জন্য তাদের নাম লেখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া নিহত তুহিনের বাবাও একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কারা, কখন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সব আমরা জানতে পেরেছি। তদন্তের স্বার্থে এখন বিস্তারিত বলব না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে থানায় আনা হয়েছে। নির্দোষ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’

সোমবার সকালে উপজেলার কেজাউরা গ্রামে শিশু তুহিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, তার দুই কান ও গোপনাঙ্গও কেটে নেওয়া হয়। পরে পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর নিথর দেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় কদম গাছের ডালে।

তুহিনের বাবা আবদুল বাছির একজন কৃষক। তার মায়ের নাম মনিরা বেগম।

এদিকে শিশু তুহিন মিয়াকে (৫) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সোমবার রাতে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা করেন শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই তুহিনের মরদেহ দাফন করা করা হয়েছে।

দিরাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল বলেন, সোমবার রাতে তুহিনের মা বাদী অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তুহিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর রাতেই দাফন করা হয়েছে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ