ঢাকা, মঙ্গলবার 19 November 2019, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৪ পুলিশ নিহত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে দেশটির মিশোকান প্রদেশের এল আগুয়াজে এলাকায় মর্মান্তিক এ হামলাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন।এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য বলে কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

মিকোচানের নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুলিশ অভিযানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে বন্দুকধারীরা। এলোপাতাড়ি গুলিতে ১৪ জন্য পুলিশ অফিসার মারা যান। হামলাকারীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে চেক পয়েন্ট বসিয়েছে পুলিশ এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, ঘটনার দিন আদালতের একটি রায় নিয়ে থানায় ফেরার সময় পুলিশের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলাটি চালায়।

পুলিশের টহল গাড়িগুলো শহরের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা বেশ কয়েকটি পিকআপ ট্রাকে করে এসে পুলিশ বহরটি ঘিরে ফেলে এবং কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে এরপর তাদের গাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এতে অন্তত ১৪ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও অপর তিন কর্মকর্তা আহত হন।

গার্ডিয়ান ও বিবিসিও এ খবর পরিবেশন করেছে।  

পুলিশের দাবি, মর্মান্তিক এ হামলার সঙ্গে জালিস্কো নুয়েভা জেনারেসন কারটেল (সিজেএনজি) নামে একটি শক্তিশালী মাফিয়া গ্রুপ জড়িত। কেননা ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি চিরকুট থেকে ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

মিচোয়াকান পুলিশ কয়েকদিন আগে সিজেএনজির কথিত নেতাকে হত্যা করে।

এ দিকে মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ এরই মধ্যে মর্মান্তিক এ হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন। লোপেজ বলেন, ‘আপনারা কখনোই আগুন দিয়ে আগুন নেভাতে পারবেন না। সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই কোনোদিন সহিংসতা দিয়ে সম্ভব নয়।’ 

মেক্সিকান প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই শয়তান দিয়ে হয় না; আপনি যদি শয়তানের বিরুদ্ধে লড়তে চান তাহলে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক লড়াই করুন।’

অপর দিকে বিশ্লেষকদের মতে, এল আগুয়াজে এলাকাটি মূলত মাদক কারবারি এবং মাফিয়াদের কাছে স্বর্গভূমি। সেখানে সিজেএনজি এবং লস ভিয়াগ্রাস নামে বড় দুটি গ্রুপের মধ্যে প্রায়শই এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টে মিশোকানের একটি ব্রিজে একসঙ্গে নয়টি মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আর তখন সড়কে পাওয়া যায় আরও সাতটি মৃতদেহ।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ