ঢাকা, বুধবার 16 October 2019, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

তথ্যপ্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য বিবর্তন

আবু হেনা শাহরীয়া: প্রতিনিয়তই তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন ডিভাইসে এ প্রযুক্তিগুলো যুক্ত হওয়াতে আমাদের লাইফস্টালে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারহীন চার্জিং পদ্ধতি, ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং প্রযুক্তি, মোবাইল পেমেন্ট, মোবাইল ওএস, টেলিভিশনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, শিক্ষায় প্রযুক্তি ও আরও পালতা ডিভাইস এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সদ্য তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত হওয়া কয়েকটি প্রযুক্তি নিয়ে এ লেখায় আলোচনা করা হলো। 

তারহীন চার্জিং : সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার যেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে মোবাইল ডিভাইসগুলোকে চার্জ করার চিন্তাও। নানা ধরনের চার্জারও এখন এসেছে বাজারে। তবে বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল ওয়্যারলেস চার্জিং বা তার ছাড়াই চার্জিং সুবিধা। ইতোমধ্যেই বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ওয়্যারলেস চার্জার বাজারে আনার বিষয়ে ঘোসণা দিয়ে রেখেছে। আইএইচএস সাপ্লাই, প্রযুক্তি বাজার গবেষক ও বিশ্লেষক সংস্থা, ধারণা করছে, চলতি বছরে ওয়্যারলেস চার্জিং বাজারে আর দশটা প্রযুক্তি পণ্যের মতোই সাধারণ পণ্যে পরিণত হবে।

ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং : ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের মতো ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং নিয়েও গত বছরের আলোচনার কমতি ছিল না। তবে বাস্তবে খুব বেশি ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার শেষ পর্যন্ত চোখে পড়ে নি। তবে এই বছরে এসে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারগুলো একে একে বাজারে আসতে থাকবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে রোবট কোনোকিছুই বাদ পড়ছে না ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং থেকে। ইতোমধ্যেই রোবটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতেও ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং থেকে। ইতোমধ্যেই রোবটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতেও ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে খাবারের মধ্যে বিশেষ করে চকলেট কোম্পানিগুলো বহুলভাবে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ব্যবহার শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের নাগালেও ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার এ বছরে চলে আসবে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

মোবাইল পেমেন্ট : বিশ্বব্যাপী পেমেন্ট সিস্টেমের ডিজিটাইজেশন ইতোমধ্যেই অনেকখানি সম্পন্ন হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে এখন ই-কমার্স, আর অনলাইন শপিং দখল করেছে অত্যন্ত গরুত্বপূর্ণ স্থান। তবে অনলাইনে সব ধরনের কেনাকাটার পাশাপাশি মোবাইল ওয়ালেট বা মোবাইল পেমেন্ট বাস্তবায়ন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল পেমেন্ট চালু হলেও তা এখনো সার্বজনীন হয়ে ওঠেনি। তবে আধুনিক সব স্মার্টফোনের বদৌলতে এ বছরেই মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্যামসাং, নকিয়া, এলজি, এইচটিসিসহ বড় বড় স্মার্টফোন নির্মাতারা তাদের স্মার্টফোনগুলোতে এনএফসি চিপ ব্যবহার করায় এই সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে মোবাইল পেমেন্ট সর্বত্র চালু হলে অনলাইন শপিংয়ের বড় একটি অংশ মোবাইল পেমেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

স্মার্টফোনের যুদ্ধ অব্যাহত : গত বছরে প্রযুক্তি বিশ্বের বড় একটি সময় ধরেই আলোচনা নিজেদের টেনে রেখেছিল দুই টেক জায়ান্ট স্যামসাং আর অ্যাপল। প্যাটেন্ট মামলা নিয়ে এই দুই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশে একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি দেশে চূড়ান্ত রায় হলেও পুনরায় একে অপরের পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন অব্যাহত রেখেছে। এখনও নিজ নিজ স্মার্টফোন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখবে এই দুই জায়ান্ট। 

একদিকে গ্যালাক্সি এস, অন্যদিকে আইফোন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে নেই কেউ। তবে এর মাঝে আবার গুগলের নতুন এক এক্স-ফোনের জল্পনা-কল্পনাও রয়েছে। 

স্মার্টফোনে তারাও শীর্ষস্থান দখলতে চায়। এর বাইরে মাইক্রোসফটের সারফেস ফোনেরও গুজব রয়েছে। আবার পিসিতে গত বছরে শীর্ষস্থান দখল করে নেওয়া লেনোভোও ইন্টেল প্রসেসর দিয়ে স্মার্টফোনের বাজার দখল করতে এগিয়ে আসছে। সবমিলিয়ে স্মার্টফোনের বাজারে বেশ বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে আগামীতে।

টেলিভিশনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন : কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনের মতো টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন চলে এসেছে গত কয়েক বছরে। গত বছরের শেষের দিকে ৮কে টিভি প্রদর্শন করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত ৪কে টিভি বাজারে আসেনি, যা এই বছরের পুরোটা জুড়েই আসতে থাকবে। হাই ডেফিনেশন পিকচার কোয়ালিটি ৮কে টিভিকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে। অন্যদিকে ওএলইডি টিভিরও বাজার দখলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করেন। ফলে চলতি বছরে টেলিভিশন প্রযুক্তি বিশ্বের বড় একটি স্থান দখল করে রাখবে।

শিক্ষায় প্রযুক্তি : শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার নতুন কিছু নয়। অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাসরুমে পাঠ্যবইয়ের বদলে ট্যাবলেট পিসি, অনলাইনে পাঠদান-এর সবই দেখেছে প্রযুক্তি বিশ্ব। ২০১৯ সালে এসে এই প্রবণতাগুলো আরও প্রকোট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোও নাম লেখাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে। স্বল্পমূল্যের ট্যাবলেট পিসির কল্যাণেই বাস্তব হবে এই প্রবণতা। আর ছাপা বইয়ের জায়গা আরও একটু বেশি দখল করে নেবে ই-বই। ই-বুক রিডারগুলোর সাথে সাথে ট্যাবলেট পিসিগুলোও ই-বইয়ের কাটতি বাড়তিতে ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা ও হ্যাকিং : সর্বশেষ দুই বছরেই প্রযুক্তি বিশ্বকে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোও শিকার হয়েছে এসব সাইবার আক্রমণের চলতি বছরেও সাইবার আক্রমণের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। শুধু তাই নয়, আগের বছরগুলোর চাইতেও ভয়াবহ সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ক্লাউড সার্ভিসের বহুল ব্যবহারের ফলে ক্লাউড সার্ভিসগুলো সাইবার অপরাধীদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

আরও পাতলা ডিভাইস : প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে মিশ্র করা লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে সব ধরনের পণ্য ছোট হয়ে এসেছে। অন্যদিকে আবার স্মার্টফোনগুলোর আকার ক্রমেই ছিল বাড়তির দিকে। 

২০১৯ সালে এসেও উভয় প্রবণতায় বাজারে থাকবে। তবে এর বাইরেও গ্যাজেটগুলো আগের চাইতে আরও বেশি পাতলা বা স্লিম হয়ে উঠবে। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ট্যাবলেট পিসি বা ল্যাপটপ কিংবা নোটবুক-সবই আরও পাতলা হয়ে উঠবে। অর্থাৎ পুরুত্ব কমবে সব ধরনের গ্যাজেটস-এর। আর প্রচলিত ডিভাইসের বাইরেও পরিধানযোগ্য আরও ডিভাইস বাজারে আসবে বলেই অনুমান করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ