ঢাকা, মঙ্গলবার 19 November 2019, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আরেক জাহালম দিনমজুর বাবুল শেখ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃত আসামী ধরতে না পেরে নিরীহ ব্যক্তিদেরকে আসামী সাজানো- পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়।এর আগে জাহালম নামের এক শ্রমিককে বিনা অপরাধে তিন বছর জেল খাটার খবর সারাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।এবার আরেক জাহালমের খবর পাওয়া গেল।প্রকৃত অপরাধির নাম ছিল শ্রী বাবু।কিন্তু শ্রী বাবুকে ধরতে না পেরে দিন মজুর বাবুল শেখকে শ্রী বাবু সাজিয়ে জেলে ঢোকায় পুলিশ।অবশেষে ১৭ বছর ধরে মামলা লড়ে রেহাই পেয়েছেন নাটোরের বাবুল শেখ।

৫৬ বছর বয়সী বাবুল নাটোরের সিংড়া উপজেলার আচলকোট গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক।

ওই আদালতের পিপি মাসুদ হাসান বলেন, সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল একটি মারামারির মামলায় শ্রী বাবু নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। আসামি শ্রী বাবুকে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ বাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করে ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর। পুলিশ বাবুল শেখকে আদালতে পাঠায় শ্রী বাবু নামে।

বাবুলের আইনজীবীও বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে শ্রী বাবু পরিচয়েই তার জামিন করান। পরে ওই পরিচয়েই আদালত অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্য গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের ২৩ জুন নাটোরের মুখ্য বিচারিক হাকিম তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। আদালত তাকে জামিন দেন। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বাবুল শেখকে মামলা থেকে অব্যাহতির রায় দেয় আদালত।

রায়ে বলা হয়েছে, “বাবলু শেখ বহুল আলোচিত ‘জজ মিয়া’ ও ‘জাহলমে’র প্রতিচ্ছবি। তিনি বংশপরস্পরায় একজন মুসলিম হলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা শ্রী বাবু হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে দায়িত্বে চরম অবহেলা করেছেন। গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন ওসি ফারুক হোসেন আসামিকে পরীক্ষা না করেই চালান বইয়ে স্বাক্ষর করে অন্যায় করেছেন।

“আদালতের নথিতে রহস্যজনকভাবে ওই চালানের কপি সংযুক্ত নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আদালতও পদক্ষেপ নেয়নি। অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলাম ও এসআই হেলেনা পারভিন ভুল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেননি। আইনজীবী বিষয়টি অবগত হলেও সে ব্যাপারে আদালতে প্রতিকার চেয়ে তথ্য-প্রমাণসহ দরখাস্ত না করে তারা ভুল নামেই বাবুল শেখের জামিন করিয়েছেন।”

বাবলু শেখকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা, থানার ওসি ও গ্রেপ্তারে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পিপি মাসুদ হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাবলু শেখ ইচ্ছা করলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রায়ের কপি নাটোরের পুলিশ সুপার, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ ও আইজিপি বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পেয়ে বাবলু শেখ বলেন, “আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাই। অথচ পুলিশের একটা ভুলের কারণে আমাকে ১৭ বছর ধরে আদালতে ঘুরতে হচ্ছে। জেলও খেটেছি দুই মাস। এতে আমার সব শেষ। আমি এখন পথের ভিখারি। আমার মত যেন আর কারও কপালে এমন ঘটনা না ঘটে।”

রায়ের কপি হাতে পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

বাবুল শেখের প্রথম আইনজীবী ছিলেন দেওয়ান লুৎফর রহমান।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ