ঢাকা, মঙ্গলবার 22 October 2019, ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

৯ মাসে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩৭ হাজার প্রবাসী

ইবরাহীম খলিল : প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে, বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডানসহ কয়েকটি দেশ থেকে ফিরছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। এই ফেরার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড়শ’ জন শ্রমিক ফিরছেন। কোনো কোনো দিন এই ফিরে আসা নারী ও পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা দুইশ’ ছাড়িয়ে যায়। গত নয় মাসে প্রায় ৩৭ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্যাতন এবং প্রতারণার কারণে মূলত সবচেয়ে বেশি প্রবাসী দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র দেয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭-২০১৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে গমনের হার প্রায় অর্ধেক হয়েছে। ৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে শ্রমবাজার চালু হলে ২০১৬-তে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৩ জন শ্রমিক, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩০৮ শ্রমিক দেশটিতে যায়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশে যাওয়া নারী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্েযর অনেক দেশেই শ্রমিকরা আনডকুমেন্টেড, তথা বৈধ অনুমতি ও কাগজসহ যায়নি। তাঁদেরকে ধর পাকড় করে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে এটা বেশি ঘটছে। ফ্রি ভিসার নামে তাঁদের পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং সেখানে গিয়ে তাঁরা কাজ করার অনুমতি পায় না, পুলিশ গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি হওয়ার পর থেকে কত লোক বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন সেটির হিসাব মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে। কিন্তু কত লোক নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরত এসেছেন, সেরকম কোনো ডাটা কোথাও নাই।
জানা গেছে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে গত বছরে (২০১৮ সালে) প্রায় ৫০ হাজার লোক ফেরত এসেছেন আন ডকুমেন্টেড বা কাগজ না থাকার কারণে। গত কয়েক বছরে দু লাখের বেশি শ্রমিক ফেরত এসেছে। আর শুধু যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরছে, তা নয়, মালোয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকেও শ্রমিক ফেরত এসেছে। এমনকি আনডকুমেন্টেড প্রচুর বাংলাদেশিকে ইউরোপও ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। জার্মানি থেকেও ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের।
এদিকে, সৌদি আরবে চলমান ধরপাকড়ে বিপাকে পড়েছেন সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে তাদের। আতঙ্কে থাকা বাংলাদেশিদের তালিকায় অনিয়মিতভাবে অবস্থানরতদের পাশাপাশি নিয়মিতরাও রয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেককে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দেশটি থেকে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের ফেরত আসার ধারাবাহিকতায় রোববার রাতেও ৭০ জন দেশে ফিরেছেন। রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্স এসভি-৮০৪ ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্যমতে, এ নিয়ে চলতি বছরের ৯ মাসে শুধুমাত্র সৌদি থেকে ফিরেছেন ১৬ হাজার ৩০ বাংলাদেশী। আর ট্রাভেল পাশ নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা এই কর্মীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৭শ’ ৫৩ জন। বরাবরের মতো গতরাতে ফেরা কর্মীদেরও অভিযোগ একই। তারা বলছেন, সৌদি আরবে বৈধভাবে ছিলেন এবং আকামার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও দেশটির পুলিশ তাদের ধরে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে ফেরত আসা এসব কর্মীদের বিমানবন্দরে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়। কর্মীরা বলেন, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, মসজিদে নামাজ পড়াতে যাওয়ার সময়, কর্মস্থলে কর্মরত থাকা অবস্থায়, বাজার করতে বের হলে পথ থেকে ধরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তারা। অভিযোগ করে বলেন, আকামা দেখানোর পরও কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছেন না। নিয়োগকর্তা বা কফিল কোন দায়-দায়িত্ব নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন দেশে ফেরা এসব কর্মীরা।
ফিরে আসা কর্মীদের একজন কুমিল্লার আবুল হোসেন। বিমান বন্দরে নেমেই নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তার মতো একই অভিযোগ করেন, আলমগীর হোসেন, নওগাঁর রাইসুল ইসলাম, হবিগঞ্জের তরিত মিয়া, নাটোরের রিদয় হোসেন, নারায়ণগঞ্জের মো. জসীম, বি-বাড়িয়ার আজিজুর, জামালপুরের আবদুুল খালেক। তারা বলেন, আমাদের আকামার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ