ঢাকা, শনিবার 26 October 2019, ১১ কার্তিক ১৪২৬, ২৬ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কী ভয়ংকর! 

কী ভয়ংকর ও লজ্জাজনক ঘটনা! একটি স্বাধীন দেশে মায়ের সামনে থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানির পর হত্যার এমন চিত্র আমাদের দেখতে হচ্ছে! রাজশাহীর বাগমারায় সাধনপুর স্কুল এন্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক ১ম বর্ষের ছাত্রী তামান্না আক্তার টিয়ার শ্লীলতাহানির পর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রকাশ। বাড়ি থেকে মাত্র ৫শ গজ দূরে নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া দক্ষিণপাড়ার আমবাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েটির লাশ উদ্ধার করেছে নলডাঙ্গা থানার পুলিশ।

নিহতের বাবা রশিদ উদ্দিন জানান, ঘটনার রাতে ১১টার দিকে সাধনপুরের খিদিরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মুহাম্মদ শান্ত ইসলাম বাড়িতে এসে হুমকির মুখে তাঁর মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। রিপোর্ট দেখে বোঝা যায়, টিয়ার অসহায় মা-বাবা দুর্বৃত্তের ভয়ে চিৎকার দেবারও সাহস পাননি। সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় টিয়ার লাশ দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় লাশের পা মাটি স্পর্শ করেছিল। লাশ নামাবার সময় সাহায্যকারী স্থানীয় মহিলারা নিহতের মাতৃদ্বারে মারাত্মক ক্ষত দেখতে পেয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে ধর্ষণের পর মেয়েটিকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এমন হৃদয়বিদীর্ণ করা ঘটনা শুধু বাগমারাতেই ঘটছে না। কলেজছাত্রী টিয়াই কেবল এমন মর্মান্তিক নির্যাতনে নিহত হচ্ছে না। একশ্রেণির দানব সারাদেশটাকেই যেন ওদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে তুলে দিলেও দুর্ভাগ্যবশত সিংহভাগ অপরাধী অদৃশ্য শক্তিবলে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ যেমন বিচারহীনতার শিকার হচ্ছেন, বিক্ষুব্ধ হচ্ছেন; তেমনই দুর্বৃত্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ এমন অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চায়। নগর-মহানগর থেকে গ্রাম অবধি দুর্বৃত্তরা তা-ব চালাচ্ছে। অনেক অসহায় নাগরিক তাঁদের মেয়েদের স্কুল-কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। এমনই গভীর নিস্তব্ধতা ক্রমাগত গ্রাস করছে আমাদের সমাজ ও দেশকে। এ অরাজক পরিস্থিতি থেকে দেশ ও জাতিকে নিরাপদ করতে চাইলে বাগমারার টিয়ার ধর্ষক এবং হন্তারকসহ সকল দুর্বৃত্তের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ