ঢাকা, বুধবার 30 October 2019, ১৫ কার্তিক ১৪২৬, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সোজা আঙ্গুলে তো ঘি উঠবে না রাস্তায় নামতে হবে

গতকাল মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সিনিয়র নেতারাও বলেছেন, সোজা আঙ্গুলে তো ঘি উঠবে না। আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে, আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। বাধ্য করতে হবে সরকারকে যেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সোমবার পিজি হাসপাতালের পরিচালক তিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা প্রেস কনফারেন্স করেছেন। তিনি বলেছেন, বেগম জিয়া সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তারা এমনো বলেছেন তিনি এই মুহূর্তে বাসায় চলে যেতে পারেন নতুবা যেখানে ছিলেন সেখানে যেতে পারেন। এই কথাটার উদ্দেশ্যটা কী? আবার বলেছেন, হায়াত মুউতের কথা। আজকে তারা (বিএসএমএমইউ) সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করছে এবং জাতির সামনে মিথ্যাচার করছে। একজন নেত্রী যিনি দীর্ঘকাল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, তিনি তিন বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আজকে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেছে তারা। এরজন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তাদেরকে (বিএসএমএমইউ) খুব পরিস্কার করে বলতে হবে দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থা কি আছে? দেশনেত্রী যে অবস্থায় পিজিতে গিয়েছিলেন, ওই পিজিতে তিনি সেই অবস্থায় নেই। তিনি এখন বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, তাকে সাহায্য করে উঠাতে হয়। তিনি নিজে খেতে পারেন না, তাকে অন্যের হাতে খাইয়ে দিতে হয়, হুইল চেয়ার ছাড়া তিনি এগুতে পারেন না।
আমরা খুব পরিস্কার করে বলতে চাই, আপনাদের(সরকার) সাজানো মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক কারণে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন।অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা অবশ্যই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি কিভাবে করবেন না করবেন। সবার আগে তার যেটা প্রাপ্য জামিন যেটা আইনগতভাবে প্রাপ্য, সাংবিধানিকভাবে প্রাপ্য, সেই জামিনের জন্য আপনারা বাঁধা দিতে পারবেন না।
সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানে আমাদের সিনিয়র নেতারাও বলেছেন, সোজা আঙ্গুলে তো ঘি উঠবে না। আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে, আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। বাধ্য করতে হবে সরকারকে যেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে। এখন গায়ের জোরে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে। পথ একটাই, বাংলাদেশের মানুষ সব সময় আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করে নিয়েছে। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আসুন আজকে আমাদেরকে সব ছোট-খাটো বিভেদ ভুলে গিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এই দানবকে পরাজিত করি-এটা হোক যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শপথ।
জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে (ন্যাম) প্রধানমন্ত্রীর কী কী অর্জন তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ন্যাম সম্মেলন থেকে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ আগে (মঙ্গলবার) প্রেস কনফারেন্স করেছেন। আমরা জানি যে, নন এলায়েন্ট মুভমেন্ট হচ্ছে ন্যাম। এখন আর নন এলায়েন্ট বলতে কিছু নাই। যারা ন্যামে গেছেন তারা সবাই এলাইয়েন্ট এবং সেই প্রেক্ষাপটও নাই। এটা আসলে ছিলো সেই যে কোল্ড ওয়ার, সেই কোল্ড ওয়ারের ভিত্তিতে নন এলায়েন্ট মুভমেন্ট শুরু হয়েছিলো। আজকে জানি না, ন্যাম সম্মেলনে গিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) কী কী অর্জন করেছেন বলতে পারবেন। সেখানে গিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) বক্তব্য রেখেছিলেন কিনা তা কিন্তু আমরা এখনো জানিনা। এটা কোনো পত্রিকায় আসেনি, প্রেসেও আসেনি ওখানে তিনি বক্তৃতা রেখেছিলেন কিনা? আজকে যেটা উনি বলছেন, সাইড লাইনে তিনি অনেকগুলো বৈঠক করেছে। জানি না, এই সাইড লাইনের বৈঠকের ফলে আমরা কী অর্জন করলাম। আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারিনি, দুই বছর হয়ে গেলো একজন রোহিঙ্গাও দেশে ফিরে যেতে পারেনি। ভারতের আসামে এনআরসি‘র বিষয়ে সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়’ ভূমিকারও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার ক্যাসিনো আবার আরো অনেক কিছু দিয়ে যে, আপনার এতো বেশি ধরাধরি করছে এবং সাংবাদিক ভাইরা জিজ্ঞাসা করেছিলো আপনি বলছেন যে, এগুলো আইনওয়াশ না। আইওয়াশ তো বটেই। আপনারা একটা নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে একটা প্রহসনের পরিণত করলেন। নির্বাচন যেভাবে করেছেন, লুট করে নিয়ে গেছেন ঠিক একইভাবে আজকে এই ছোট-খাটো লোকগুলোকে ধরে নিয়ে দেখাচ্ছেন যে আপনারা শুদ্ধি অভিযান করছেন। আমি তো বলি যে, শুদ্ধি অভিযান কথাটা শুদ্ধ থেকে এসছে। তার মানে প্রমাণিত হয়েছে তারা শুদ্ধ নন, পরিশুদ্ধ নন। এজন্য তাদেরকে শুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন আছে। আজকে গোটা বাংলাদেশকে তারা অপবিত্র করে ফেলেছে, গোটা বাংলাদেশকে অশুদ্ধ করে ফেলেছে। আজকে সমাজের দিকে তাঁকিয়ে দেখেন ধর্ষন চলছে, নারীদের শ্লালিনতাহানি হচ্ছে, বাবা ছেলেকে মারছে, ছেলে বাবাকে মারছে, লুট হচ্ছে, ডাকাতি হচ্ছে। কোনো কিছু, কোথাও কোনো বাদ বিচার নেই। দুর্নীতি এমন এক জায়গায় চলে গেছে যে, রূপপুরে একটা প্রজেক্টে শুধুমাত্র কনসালটেনসি হচ্ছে ৭০ ভাগ আর কাজ হচ্ছে ৩০ ভাগ। অর্থাৎ ৭০ ভাগই হচ্ছে লুট।
নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, অনেক তাকে নাকী প্রশ্ন করেছেন। উনি উত্তরে বলেছেন যে, ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন করেছিলো বিএনপি ভোটারবিহীন। আর আমরা এখানো আছি, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, বিএনপি তো থাকতে পারেনি। আমরা স্পষ্ট করে উত্তর দিতে চাই, ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আমরা করেছিলাম কেয়ারটেকার গর্ভামেন্টকে কনস্টিটিউশনে আনার জন্য। দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি আমাদের ছিলো। আর আপনারা এই নির্বাচন করেছেন, আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। আর বলেছেন জনগন আপনাদের সঙ্গে আছে। তাহলে নির্বাচন দেন? একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দেন- দেখা যাক জনগন কার সঙ্গে আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকার অবৈধ সরকার, রাতের অবৈধ সরকার। কয়েকদিন আগে রাশেদ খান মেনন সাহেব হাটে হাড়ি ভেঙে দিয়েছে। পরিস্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন যে ওই (একাদশ) কোনো নির্বাচন হয় নাই, আমাদেরকে কেউ ভোট দেয় নাই। যেহেতু এই সরকার ভোটের সরকার নয় সেজন্য ভয় নাই। চুরি-ডাকাতি, লুটপাট যা আছে সব করে যাচ্ছে-তাদেরকে কিছু বলার কেউ নাই। এই অবস্থা চলতে পারে না, একটা দেশ চলতে পারে না, একটা জাতি চলতে পারে না। এভাবে কখনোই এই জাতি টিকে থাকতে পারবে না। আমাদেরকে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলকে সুসংগঠিত করে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে হবে।
রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী যুব দল প্রতিষ্ঠা করেন।
সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, এ্যালবার্ট পি কস্টা, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম মজনু, সফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ