ঢাকা, বুধবার 30 October 2019, ১৫ কার্তিক ১৪২৬, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

১৫ নবেম্বর পর্যন্ত সব কোচিং বন্ধ -শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, ২ নবেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা চলাকালীন ১৫ নবেম্বর পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা-২০১৯ সংক্রান্ত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ২ নবেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এ বছর মোট ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী এই দুই পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন। এবার জেএসসিতে ২২ লাখ ৬০ হাজার ৭১৬ জন ও জেডিসিতে ৪ লাখ ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দীপু মনি জানান, এবার সারাদেশে মোট ২৯ হাজার ২৬২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর ২৯ হাজার ৬৭৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সারাদেশে মোট ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ছাত্র ও ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন ছাত্রী রয়েছে। ২০১৯ সালের জেএসডি পরীক্ষীয় অনিয়মিত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩১০ জন ও জেডিসি পরীক্ষীয় ৩০ হাজার ২৯১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
পরীক্ষায় ৭টি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। ইংরেজি ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যদি কেউ এ সময়ের পরে আসে তবে তার কারণ ও যাবতীয় তথ্য লিখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিতে হবে। সেই তথ্য পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে পাঠাতে হবে।
এবারের জেএসসি ও জেডিসি ২০১৯ সালের পরীক্ষার ফল জিপিএ-৪ (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ-৪) প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ হচ্ছে না। এবারও জিপিএ-৫ প্রক্রিয়ায় ফল নির্ধারণ করা হবে। তবে ২০২০ সাল থেকে জিপিএ-৪ প্রক্রিয়ায় ফল প্রকাশ করা হবে।
জিপিএ-৪ চালু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি, এই পরীক্ষা থেকে জিপিএ-৪ কার্যকর হচ্ছে না। আগামী বছর যে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হবে, সেই পরীক্ষা থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ‘জিপিএ-৫’ (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ-৫) এর বদলে ‘জিপিএ-৪’ প্রক্রিয়ায় চালু করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে দীপু মনি জানিয়েছিলেন ২০২০ সাল থেকে ‘জিপিএ-৪’ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ওই দিন শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে জিপিএ-৫ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কাজ করছে। এই প্রবণতা রোধ করতে হবে। এছাড়া, জিপিএ-৫ ধরে ফল প্রকাশ করায় বিদেশে চাকরির বাজারেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান,এবারও পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসতে হবে। অনিবার্য কোনও কারণে দেরি হলে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে শিক্ষা বোর্ডকে প্রতিবেদন দিতে হবে।
শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধীরা পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অটিস্টিক, ডাইন সিনড্রম, সেলিব্রালপলসি জনিত প্রতিবন্ধীরা ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবে।
পরীক্ষাচলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারের অনমুতি ছাড়া যেকোনও ইলেকট্রোনিক্স ডিভাইজ ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
দীপু মনি বলেন, আসন্ন জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সৃষ্টির চেষ্টাকারী প্রতারকদের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ