ঢাকা, শুক্রবার 1 November 2019, ১৭ কার্তিক ১৪২৬, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

যশোরের সড়কে বিশৃঙ্খলা নৈরজ্য ১০ মাসে দুর্ঘটনায় নিহত ৬২ জন

 

মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, যশোর থেকে : যশোরে সড়ক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য চলছে সড়কের সর্বত্র। চলছে আইন আমান্যের প্রতিযোগিতা। হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিকের চোখের সামনেই এসব ঘটছে। ফলে থামছে না দুর্ঘটনা। বেড়েই চলেছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যশোর জেলার বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬২ জন। আহত হয়েছেন অসংখ্য। বেশিরভাগ দুর্ঘটনায় দোষী চালকদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হয়নি কোন ক্ষতিপূরণ। যশোর জেলার মহাসড়কসহ ১৮টি রুটে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে যশোর-ঝিনাইদহ এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। মহাসড়কটিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগে থাকে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো রূপসা এবং গড়াই পরিবহন। দুই পরিবহনের চালকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাল্লা দিয়ে বাস চালানোর প্রবণতা চলে আসছে। কে কাকে টপকে সামনের কাউন্টারে গিয়ে আগে যাত্রী উঠাতে পারে এমন মানসিকতা থেকে তারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়। এর বাইরে সড়ক দিয়ে খুলনা শিল্প অঞ্চলের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। সেখানে অধিকাংশ ট্রাক ওভার লোড নিয়ে চলাচল করে। এছাড়াও লোকাল ও দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে।

মহাসড়ক নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহন, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ইঞ্জিন ভ্যান হরহামেশা চলাচল করছে। যে কারণে কোনভাবেই এই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। একই অবস্থা চলছে যশোর-মাগুরা ও যশোর-বেনাপোল সড়ক। এর মধ্যে বেনাপোল সড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। এ সড়ক দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল এবং কলকাতাগামী বাস চলাচল করে। বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের পণ্যবাহী শত শত ট্রাক চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। এর বাইরে অভ্যন্তরীণ রুটের বাস নসিমন, করিমন চলাচল করে। তাদের বেপরোয়া চলাচল ও সড়ক আইন অমান্যের কারণে কোনভাবেই ফিরছে না শৃঙ্খলা। অথচ, এসব দেখার জন্যে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। কিন্তু তাদের কোন তৎপরতা চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র দুর্ঘটনা ঘটলে তারা তৎপর হয়ে ওঠে। জানা গেছে, পুলিশের যশোর হাইওয়ে রিজিয়নের অধীনে থানা ফাঁড়ি আছে আটটি। এগুলো কাটাখালী, বারবাজার, নাভারণ নওয়াপাড়া, তুলারামপুর, রামনগর, চোড়াস ও চুকনগরের খড়নিয়ায় অবস্থিত। এছাড়াও যশোর শহরে সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন পয়েন্টে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। তারপরও তাদের চোখের সামনে দিয়ে হারহামেশা চলে বেপরোয়া গতির যানবাহন, অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক, ওভারটেক করার প্রতিযোগিতা ও নসিমন করিমনের দাপট। ফলে দুর্ঘটনা কমছে না। বাড়ছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। গত জানুয়ারি থেকে চলতি অক্টোবর মাস পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬২ জন এবং আহত হয়েছে অসংখ্য। উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে গত ২২ অক্টোবর খয়েরতলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মঈদুল ইসলাম লিয়ন (৭) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর পালবাড়ী মোড়ে ট্রাক চাপায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা আজিজুর রহমান নিহত, ১০ অক্টোবর উপশহর ডিগ্রি কলেজের সামনে ইজিবাইক উল্টে চালক আলমগীর হোসেন (৪০) নিহত। খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়ায় শিশুসহ চারজন নিহত, একই দিন যশোর শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার আলেক সরকার (৫৫) প্রাণ হারান। ২০ মার্চ বেনাপোল সড়কের নাভারণ এলাকায় একটি স্কুলের সামনে দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান কেড়ে নেয় মেধাবী শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিপার একটি পা। ২১ আগস্ট মনিরামপুর সড়কের সীঘাটা কানাইতলা নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৪০ জন যাত্রী আহত হন। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ যশোর রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মো. শাহীন বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্যে আমরা সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দোষী চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অনেক সময় ওভার লোড যানবাহন থামিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। চলতি বছরে ৫ হাজার মামলা দায়ের করেছি। যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৯টি পয়েন্ট এবং মুড়লি পালবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ৭৫ থেকে ৮০ জন দায়িত্ব পালন করেন। শহরের সড়কে কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ