ঢাকা, শনিবার 2 November 2019, ১৮ কার্তিক ১৪২৬, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির সমালোচনায় ট্রাম্প 

১ নবেম্বর, ইন্টারনেট : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভবিষ্যতে বাণিজ্য কঠিন হয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের সমালোচনাও করেছেন তিনি।

দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর সম্প্রতি ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইইউ-জনসন সমঝোতা হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তা অনুমোদন পায়নি। পার্লামেন্ট প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিলেও জনসনের পক্ষ থেকে আলোচনা তিন দিনের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার যে প্রস্তাব তোলা হয়,তা ৩২২-২০৮ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। ফলে জনসনকে তাকিয়ে থাকতে হয় ইইউর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সোমবার ইইউ-এর পক্ষ থেকে ব্রেক্সিট কার্যকরের পূর্বনির্ধারিত সূচি ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ মাস বাড়িয়ে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।  তিনি বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই এবং তারা আমাদের সঙ্গে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সত্যি বলতে কি এই চুক্তির কারণে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়বে।

এদিকে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের হস্তক্ষেপের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন।  তাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন,  ‘তিনি (করবিন) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুবই খারাপ হবেন।’ ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের মে মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন জনসন। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময় বাড়াতে আবেদন করে যুক্তরাজ্য।

 জবাব যুক্তরাজ্যের 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দিয়েছে দেশটির সরকার। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ব্রেক্সিট চুক্তির কারণে যুক্তরাজ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জবাবে সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশ্বজুড়েই আমাদের মুক্তবাণিজ্য অব্যাহত রাখতে পারবো। আর এতে করে যুক্তরাজ্যের লাভই হবে।

দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর সম্প্রতি ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইইউ-জনসন সমঝোতা হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তা অনুমোদন পায়নি। পার্লামেন্ট প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিলেও জনসনের পক্ষ থেকে আলোচনা তিন দিনের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার যে প্রস্তাব তোলা হয়,তা ৩২২-২০৮ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। ফলে জনসনকে তাকিয়ে থাকতে হয় ইইউর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সোমবার ইইউ-এর পক্ষ থেকে ব্রেক্সিট কার্যকরের পূর্বনির্ধারিত সূচি ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ মাস বাড়িয়ে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

এরপর থেকে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আরও নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাজ্য। তবে ট্রাম্প এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভবিষ্যতে বাণিজ্য কঠিন হয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের। 

জবাবে ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র জানান, জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির মাধ্যমে আমাদের আইন, বাণিজ্য, সীমান্ত ও অর্থের ওপর পুনঃনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্য ইউরোপের ধারা থেকে বের হয়ে যাবে। ফলে আমরা আমাদের নিজস্ব নিয়মে সারা বিশ্বের সঙ্গেই ব্যবসা করতে পারবো। আর এতে করে নিশ্চিতভবেই যুক্তরাজ্য লাভবান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ